০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পোস্টাল ভোট প্রয়োগে এখনও পিছিয়ে দেশ

➤জাতীয় নির্বাচনে কার্যকর হলেও উপজেলায় নেই প্রচার ও প্রয়োগ
➤প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে কমপক্ষে ১৫ দিন লাগে
➤দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ভোট দিয়েছে ১৯৬১ জন
➤গণমাধ্যম কর্মীসহ বেসরকারি কর্মজীবীদের সুযোগ নেই

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আগুনমুখা বইয়ের লেখক নূরজাহান বোস একজন দ্বৈত নাগরিক। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন চলাকালে তিনি বাংলাদেশের ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে গিয়ে পোস্টাল ব্যালটে ভোটপ্রদান করলেন। ফিরে এসে বন্ধুদের কাছে তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন আমার ভোট আমি দিয়ে এসেছি। বন্ধুরা দেখে অবাক। এটা কি করে সম্ভব? পরে তিনি পোস্টাল ব্যালটের উপকারিতা ব্যাখ্যা করলেন। বাংলাদেশেও সেই ১৯৭২ সাল থেকেই পোস্টাল ব্যালটের সুবিধা রয়েছে, কিন্তু যাদের জন্য নির্ধারিত তাদের সবাই এই সুযোগ এখনও গ্রহণ করছেন না বা সুযোগ পান না।

ইসি সূত্র জানায়, আগে ব্যালট পেপার সংগ্রহ করে কিছু প্রক্রিয়া মেনে তা ডাকযোগে প্রেরণ করে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া হচ্ছে পোস্টাল ব্যালট ভোট। এ প্রক্রিয়ায় ভোট প্রদান করতে চাইলে ভোটারকে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা (ভোটার), প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটার, সরকারি চাকরিজীবী (যিনি চাকরিসূত্রে নিজ এলাকার বাইরে বসবাস করেন) এবং কারাবন্দি হতে হবে। তবে, এই নিয়মের আওতায় নির্বাচনের খবর সংগ্রহকারী সাংবাদিকদের এবং বেসরকারি পর্যায়ে নিজ অঞ্চল থেকে দূরে কর্মরতদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেয়ার সুযোগ নেই।

নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও পরিচালক মো. শরিফুল আলম স্বাক্ষরিত এক নোটিশে দেখা যায়, তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে কিভাবে ভোট প্রদান করা যাবে সেটি ব্যাখ্যা করেছেন। এতে, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ২০০৮ এর ১১ এ ‘পোস্টাল ব্যালট পেপার সরবরাহ’ এবং ১২ নং এ পোস্টাল ব্যালট পেপারে ভোট প্রদান সংক্রান্ত’ অংশে এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলা হয়েছে।

পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদানের জন্য নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদন প্রাপ্তির পরপরই রিটার্নিং কর্মকর্তা যত শিগগিরই সম্ভব সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক ভোটারের কাছে একটি পোস্টাল ব্যালট পেপার ও একটি খাম পাঠাবেন। ব্যালট পেপারের মুড়িপত্রে যে ভোটারের নিকট তা প্রেরণ করা হচ্ছে তার নাম, ভোটারের ক্রমিক নম্বর ও নির্বাচনী এলাকার নম্বর ও নাম লিপিবদ্ধ করবেন। একইসঙ্গে তিনি ঐ ভোটার যেন কোনো ভোটকেন্দ্রে ভোট প্রদান করতে না পারেন তা নিশ্চিত করবেন। এর জন্য তিনি ভোট কেন্দ্রে প্রেরিত ভোটার তালিকায় উক্ত ভোটারের ক্রমিক নম্বরের বাম পাশে ‘প’ চিহ্ন দেবেন এবং এর একটি বিবরণী প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রে প্রেরণ করবেন। ভোটার তার ভোট প্রদানের পর সেই রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তার ব্যালট পেপার ও খাম ফেরত পাঠাবেন। তবে, এই ফেরত খাম অবশ্যই ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছাতে হবে। তা না হলে ভোটটি বাতিল বলে গণ্য হবে।

ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানান, আইনের আলোকে পোস্টাল ব্যালটে শুধু দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নয়, সবসময় ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে পোস্টাল ব্যালটের ব্যাপারে ইসির তৎপরতা দেখা যায়। এসময় ইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়কে প্রবাসী ভোটারদের মধ্যে ভোট প্রদানে আগ্রহ তৈরি করতে প্রচার চালাতে নির্দেশ দেয়। দূতাবাস এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রচারের পদক্ষেপ নেয়। দূতাবাসগুলোর ওয়েবসাইটে দেখা যায়, দূতাবাসগুলো দ্বাদশ নির্বাচন ঘিরে এই প্রচার চালিয়েছে। তবে, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে গিয়ে যেমন নূরজাহান বোসের মতো দ্বৈত ভোটাররা নিজের ভোট প্রদান করতে পারেন এমন সুযোগ বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতে এখনও তৈরি হয়নি। এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (দ্বিপাক্ষিক-পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, এখন দূতাবাস থেকে ভোট দেয়ার কোন প্রোগ্রাম চালু করেনি। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য হচ্ছে পোস্টাল সার্ভিসের মাধ্যমে ঐ যে একটা ফর্ম দিয়ে পূরণ করে সে যদি পাঠায় নির্বাচন কমিশন বরাবরে সেটা পারবে। কিন্তু দূতাবাস কর্তৃক বা দূতাবাসে গিয়ে ভোট দেয়ার যে সংস্কৃতি অন্যান্য দেশ করে সেটা নাই। আমাদের যেহেতু ডায়াসপোরা কমিউনিটি অনেক বড় এবং অত সুযোগ-সুবিধা নেই। তাই এটা আমাদের এখানে করা হয় না। পোস্টাল ব্যালট একটা মেকানিজম কিন্তু এটা দীর্ঘ সময় নেয়। তাই নির্ধারিত নিয়মেই করা হয়।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাষ্ট্রপতিসহ দেশের ১ হাজার ৯৬১ জন নাগরিক পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। তবে এদের মধ্যে কোনো প্রবাসী ছিল না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটা ছোট অংশ ভোট দিয়েছেন পোস্টাল ব্যালটে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসি এ নিয়ে তৎপরতা চালালেও ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম দফায় পোস্টাল ব্যালট নিয়ে বিদেশে কোন প্রচার দেখা যায়নি। এ ব্যাপারে ইসির জনসংযোগ শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বিষয়টি নিয়ে ভাবা হয়েছে। কিন্তু উপজেলা নির্বাচনেও এর সুযোগ আছে কি না আমার ঠিক জানা নেই।

প্রবাসীরা এই পদ্ধতিতে ভোট প্রদান প্রক্রিয়ায় অংশ নিলে কখনও ১৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে এ প্রসঙ্গে সিনিয়র সাংবাদিক ও গবেষক আফসান চৌধুরী দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, বাংলাদেশের ভোটব্যবস্থা সবসময় দুর্বল ছিল। আজও দুর্বল এবং এটা স্বাভাবিক। যেহেতু প্রাতিষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রের যেসব বিষয় রয়েছে সেগুলো দুর্বল হয়ে রয়েছে। সাংবিধানিকভাবে দেখতে গেলে যেসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই কার্যক্রমগুলো হয় সেগুলো দুর্বল এবং সেগুলোর প্রয়োজনীয়তার অভাব আছে। যেটা আমাদের দেশে অন্য ধরনের বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। আমরা এটাকে আসলে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি কি না? যেই দেশে বিদেশ থেকে যেকোনো সময় যেকোনো পরিমাণে টাকা আনা যায় বা পাঠানো যায় সেই দেশে এই বিষয়টা কেন এত দেরি হচ্ছে। এর কারণ হচ্ছে সম্ভবত যারা ভোট দিচ্ছেন বা যারা ভোটের ব্যবস্থা করছেন তাদের উভয়ের কাছে একজনের হচ্ছে আগ্রহের অভাব, আরেকজনের হচ্ছে দক্ষতার অভাব। আমাদের দেশে যেহেতু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতার সমস্যা রয়েছে সেখানে এটা অস্বাভাবিক কিছু না এবং আমি যেহেতু অভিবাসন নিয়ে কাজ করি আমি দেখেছি অভিবাসীরা যতদূর পারে সরকার থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে। অন্য কোনো কারণে না এটা দক্ষতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যখন একটা প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক সমাজ যখন গড়ে ওঠে তখন এই ধরনের অসামঞ্জস্য হওয়াটাই স্বাভাবিক। এটা দেখা দরকার যে, কতজন মানুষ আছে? আর তারা ভোট দিতে না পেরে কি খুব দুঃখিত হচ্ছে সেই কাজটা আমার মনে হয় আগে করা দরকার।

 

দ্বিতীয়ত, এটাই কি প্রধান বিষয় তার জীবনের জন্য সেটাও একটা বিষয়। তৃতীয়ত, দেখা দরকার সরকার কি সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সেগুলো সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা করার মতো দক্ষতা আছে কিনা? আমরা যে পরিমাণ গুরুত্ব ভোটকে দিচ্ছি জনগণ সেই পরিমাণ গুরুত্ব ভোটকে দেয় কিনা? বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ভোট হয়েছিল ১৯৭০ সালে। সেখানে কত ভাগ মানুষ ভোট দিয়েছিল সেটাও একটু হিসাব করে দেখা দরকার। তাহলে দেখা যাচ্ছে, আমরা হয়ত প্রত্যাশাটা করি যতটা সম্ভব তার চেয়ে বেশি।

ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় কতটুকু প্রস্তুত পবিপ্রবি?

পোস্টাল ভোট প্রয়োগে এখনও পিছিয়ে দেশ

আপডেট সময় : ০৭:২১:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০২৪

➤জাতীয় নির্বাচনে কার্যকর হলেও উপজেলায় নেই প্রচার ও প্রয়োগ
➤প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে কমপক্ষে ১৫ দিন লাগে
➤দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ভোট দিয়েছে ১৯৬১ জন
➤গণমাধ্যম কর্মীসহ বেসরকারি কর্মজীবীদের সুযোগ নেই

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আগুনমুখা বইয়ের লেখক নূরজাহান বোস একজন দ্বৈত নাগরিক। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন চলাকালে তিনি বাংলাদেশের ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে গিয়ে পোস্টাল ব্যালটে ভোটপ্রদান করলেন। ফিরে এসে বন্ধুদের কাছে তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন আমার ভোট আমি দিয়ে এসেছি। বন্ধুরা দেখে অবাক। এটা কি করে সম্ভব? পরে তিনি পোস্টাল ব্যালটের উপকারিতা ব্যাখ্যা করলেন। বাংলাদেশেও সেই ১৯৭২ সাল থেকেই পোস্টাল ব্যালটের সুবিধা রয়েছে, কিন্তু যাদের জন্য নির্ধারিত তাদের সবাই এই সুযোগ এখনও গ্রহণ করছেন না বা সুযোগ পান না।

ইসি সূত্র জানায়, আগে ব্যালট পেপার সংগ্রহ করে কিছু প্রক্রিয়া মেনে তা ডাকযোগে প্রেরণ করে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া হচ্ছে পোস্টাল ব্যালট ভোট। এ প্রক্রিয়ায় ভোট প্রদান করতে চাইলে ভোটারকে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা (ভোটার), প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটার, সরকারি চাকরিজীবী (যিনি চাকরিসূত্রে নিজ এলাকার বাইরে বসবাস করেন) এবং কারাবন্দি হতে হবে। তবে, এই নিয়মের আওতায় নির্বাচনের খবর সংগ্রহকারী সাংবাদিকদের এবং বেসরকারি পর্যায়ে নিজ অঞ্চল থেকে দূরে কর্মরতদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেয়ার সুযোগ নেই।

নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও পরিচালক মো. শরিফুল আলম স্বাক্ষরিত এক নোটিশে দেখা যায়, তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে কিভাবে ভোট প্রদান করা যাবে সেটি ব্যাখ্যা করেছেন। এতে, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ২০০৮ এর ১১ এ ‘পোস্টাল ব্যালট পেপার সরবরাহ’ এবং ১২ নং এ পোস্টাল ব্যালট পেপারে ভোট প্রদান সংক্রান্ত’ অংশে এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলা হয়েছে।

পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদানের জন্য নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদন প্রাপ্তির পরপরই রিটার্নিং কর্মকর্তা যত শিগগিরই সম্ভব সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক ভোটারের কাছে একটি পোস্টাল ব্যালট পেপার ও একটি খাম পাঠাবেন। ব্যালট পেপারের মুড়িপত্রে যে ভোটারের নিকট তা প্রেরণ করা হচ্ছে তার নাম, ভোটারের ক্রমিক নম্বর ও নির্বাচনী এলাকার নম্বর ও নাম লিপিবদ্ধ করবেন। একইসঙ্গে তিনি ঐ ভোটার যেন কোনো ভোটকেন্দ্রে ভোট প্রদান করতে না পারেন তা নিশ্চিত করবেন। এর জন্য তিনি ভোট কেন্দ্রে প্রেরিত ভোটার তালিকায় উক্ত ভোটারের ক্রমিক নম্বরের বাম পাশে ‘প’ চিহ্ন দেবেন এবং এর একটি বিবরণী প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রে প্রেরণ করবেন। ভোটার তার ভোট প্রদানের পর সেই রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তার ব্যালট পেপার ও খাম ফেরত পাঠাবেন। তবে, এই ফেরত খাম অবশ্যই ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছাতে হবে। তা না হলে ভোটটি বাতিল বলে গণ্য হবে।

ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানান, আইনের আলোকে পোস্টাল ব্যালটে শুধু দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নয়, সবসময় ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে পোস্টাল ব্যালটের ব্যাপারে ইসির তৎপরতা দেখা যায়। এসময় ইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়কে প্রবাসী ভোটারদের মধ্যে ভোট প্রদানে আগ্রহ তৈরি করতে প্রচার চালাতে নির্দেশ দেয়। দূতাবাস এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রচারের পদক্ষেপ নেয়। দূতাবাসগুলোর ওয়েবসাইটে দেখা যায়, দূতাবাসগুলো দ্বাদশ নির্বাচন ঘিরে এই প্রচার চালিয়েছে। তবে, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে গিয়ে যেমন নূরজাহান বোসের মতো দ্বৈত ভোটাররা নিজের ভোট প্রদান করতে পারেন এমন সুযোগ বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতে এখনও তৈরি হয়নি। এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (দ্বিপাক্ষিক-পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, এখন দূতাবাস থেকে ভোট দেয়ার কোন প্রোগ্রাম চালু করেনি। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য হচ্ছে পোস্টাল সার্ভিসের মাধ্যমে ঐ যে একটা ফর্ম দিয়ে পূরণ করে সে যদি পাঠায় নির্বাচন কমিশন বরাবরে সেটা পারবে। কিন্তু দূতাবাস কর্তৃক বা দূতাবাসে গিয়ে ভোট দেয়ার যে সংস্কৃতি অন্যান্য দেশ করে সেটা নাই। আমাদের যেহেতু ডায়াসপোরা কমিউনিটি অনেক বড় এবং অত সুযোগ-সুবিধা নেই। তাই এটা আমাদের এখানে করা হয় না। পোস্টাল ব্যালট একটা মেকানিজম কিন্তু এটা দীর্ঘ সময় নেয়। তাই নির্ধারিত নিয়মেই করা হয়।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাষ্ট্রপতিসহ দেশের ১ হাজার ৯৬১ জন নাগরিক পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। তবে এদের মধ্যে কোনো প্রবাসী ছিল না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটা ছোট অংশ ভোট দিয়েছেন পোস্টাল ব্যালটে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসি এ নিয়ে তৎপরতা চালালেও ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম দফায় পোস্টাল ব্যালট নিয়ে বিদেশে কোন প্রচার দেখা যায়নি। এ ব্যাপারে ইসির জনসংযোগ শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বিষয়টি নিয়ে ভাবা হয়েছে। কিন্তু উপজেলা নির্বাচনেও এর সুযোগ আছে কি না আমার ঠিক জানা নেই।

প্রবাসীরা এই পদ্ধতিতে ভোট প্রদান প্রক্রিয়ায় অংশ নিলে কখনও ১৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে এ প্রসঙ্গে সিনিয়র সাংবাদিক ও গবেষক আফসান চৌধুরী দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, বাংলাদেশের ভোটব্যবস্থা সবসময় দুর্বল ছিল। আজও দুর্বল এবং এটা স্বাভাবিক। যেহেতু প্রাতিষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রের যেসব বিষয় রয়েছে সেগুলো দুর্বল হয়ে রয়েছে। সাংবিধানিকভাবে দেখতে গেলে যেসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই কার্যক্রমগুলো হয় সেগুলো দুর্বল এবং সেগুলোর প্রয়োজনীয়তার অভাব আছে। যেটা আমাদের দেশে অন্য ধরনের বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। আমরা এটাকে আসলে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি কি না? যেই দেশে বিদেশ থেকে যেকোনো সময় যেকোনো পরিমাণে টাকা আনা যায় বা পাঠানো যায় সেই দেশে এই বিষয়টা কেন এত দেরি হচ্ছে। এর কারণ হচ্ছে সম্ভবত যারা ভোট দিচ্ছেন বা যারা ভোটের ব্যবস্থা করছেন তাদের উভয়ের কাছে একজনের হচ্ছে আগ্রহের অভাব, আরেকজনের হচ্ছে দক্ষতার অভাব। আমাদের দেশে যেহেতু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতার সমস্যা রয়েছে সেখানে এটা অস্বাভাবিক কিছু না এবং আমি যেহেতু অভিবাসন নিয়ে কাজ করি আমি দেখেছি অভিবাসীরা যতদূর পারে সরকার থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে। অন্য কোনো কারণে না এটা দক্ষতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যখন একটা প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক সমাজ যখন গড়ে ওঠে তখন এই ধরনের অসামঞ্জস্য হওয়াটাই স্বাভাবিক। এটা দেখা দরকার যে, কতজন মানুষ আছে? আর তারা ভোট দিতে না পেরে কি খুব দুঃখিত হচ্ছে সেই কাজটা আমার মনে হয় আগে করা দরকার।

 

দ্বিতীয়ত, এটাই কি প্রধান বিষয় তার জীবনের জন্য সেটাও একটা বিষয়। তৃতীয়ত, দেখা দরকার সরকার কি সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সেগুলো সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা করার মতো দক্ষতা আছে কিনা? আমরা যে পরিমাণ গুরুত্ব ভোটকে দিচ্ছি জনগণ সেই পরিমাণ গুরুত্ব ভোটকে দেয় কিনা? বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ভোট হয়েছিল ১৯৭০ সালে। সেখানে কত ভাগ মানুষ ভোট দিয়েছিল সেটাও একটু হিসাব করে দেখা দরকার। তাহলে দেখা যাচ্ছে, আমরা হয়ত প্রত্যাশাটা করি যতটা সম্ভব তার চেয়ে বেশি।