০৬:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আলোর মুখ দেখেনি দ্বিতীয় শিল্পনগরী স্থাপনের প্রস্তাবনা

 আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি রংপুর বিসিক শিল্পনগরীতে। নানা সংকটের কারণে জায়গা হচ্ছে না নতুন উদ্যোক্তাদের। দ্বিতীয় শিল্পনগরী স্থাপনের আবেদনের ১৬ বছর পেরিয়েছে। তবে জমির অভাবে তা এখনও আলোর মুখ দেখেনি। এতে বিভাগীয় নগরী রংপুরে পরিকল্পিতভাবে শিল্পের বিকাশ ঘটছে না। উদ্যোক্তাগণ বলেন, রংপুরে বিসিকের অধীনে ক্ষুদ্রশিল্প গড়ে ওঠার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বিসিক, প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা আন্তরিক হলে নতুন শিল্পনগরী স্থাপন প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। ১৯৮০ সালে ২০ একর জায়গা নিয়ে রংপুর নগরীর সিও বাজার এলাকায় গড়ে ওঠে বিসিক শিল্পনগরী।

এরপর তা উদ্যোক্তাদের ইজারা দেওয়া হয়। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ শিল্পনগরীতে উন্নয়নের তেমন ছোঁয়া লাগেনি। এখনও বেহাল সড়ক, ভাঙ্গা ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিরাপত্তার অভাব, অনুন্নত অবকাঠামোসহ রয়েছে নানা সংকট, যা ব্যবসায় অন্যতম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট না থাকায় বিভিন্ন শিল্প ইউনিটকে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে নিজ উদ্যোগে বর্জ্য অপসারণ করতে হচ্ছে। ফলে বাড়ছে কারখানার পরিচালনা ব্যয়। আবার শিল্পনগরীর ভেতরের সড়কগুলো খানাখন্দে ভরা। বর্ষাকালে বা সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুসমান জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন নানান সংকট ও সীমাবদ্ধতায় থাকা এ শিল্পনগরীর সংস্কার এবং বিকাশে বিভিন্ন সময়ে নানা পরিকল্পনা তুলে ধরা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

একটি নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা যায, বিসিক শিল্পনগরীতে মোট ৮২টি প্লট রয়েছে, যার আয়তন সর্বনিম্ন ৩১৫০ স্কয়ার ফুট থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার স্কয়ার ফুট। মোট ২৫টি শিল্প ইউনিটের মধ্যে চালু আছে ২১টি। এছাড়া মামলা, ঋণখেলাপিসহ নানা কারণে রুগ্ন শিল্প হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে চারটি ইউনিট। কারখানা মালিকরা বলেন, শিল্পনগরীতে গ্যাস সংযোগ থাকলে উৎপাদন আরও বাড়ত। অনেক সময় বিদ্যুৎ না থাকলে উৎপাদন বন্ধ থাকে। আমরা আশায় আছি নতুন শিল্পনগরী স্থাপিত হওয়ার। এদিকে পরিকল্পনা হলেও প্রস্তাবিত দ্বিতীয় শিল্পনগরী স্থাপনের উদ্যোগও আলোর মুখ দেখেনি।

বিসিক ২০০৪ সালে নগরীর অদূরে দমদমা এবং ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট-সংলগ্ন রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে দ্বিতীয় শিল্পনগরী স্থাপনে প্রায় ৫০ একর জমি অধিগ্রহণে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চেয়ে আবেদন করে। সেই আবেদনে কোনো সাড়া মেলেনি। পরবর্তী সময়ে নতুন আরেকটি এলাকায় দ্বিতীয় শিল্পনগরী স্থাপনের জন্য জমি বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়। সেটি এখনও পাস হয়নি। ফলে প্রতিদিন নতুন নতুন শিল্পোদ্যোক্তারা এসে ঘুরে যাচ্ছেন প্লটের জন্য। রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি রেজাউল ইসলাম মিলন বলেন, বর্তমান শিল্পনগরী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছে জিম্মি হয়েছে। অবিলম্বে রংপুরে দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী তৈরি করা প্রয়োজন।

 

রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আকবর আলী বলেন, বিসিকের জায়গা না থাকায় যত্রতত্র অপরিকল্পিতভাবে শিল্প-কারখানা গড়ে উঠছে। এতে প্রতিনিয়ত কৃষিজমির ওপর চাপ বাড়ছে। জানা যায়, রংপুর জেলা প্রশাসন নগরীর অদূরে সদর উপজেলায় দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী স্থাপনে শত একর জমি অধিগ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে রংপুর বিসিকের উপব্যবস্থাপক এহেছানুল হক বলেন, বিসিক দ্বিতীয় শিল্পনগরী স্থাপনে জমির বিষয়ে জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছি। জেলা প্রশাসক আন্তরিকতার সঙ্গে বিষয়টি দেখছেন। রংপুর বিসিককে সম্প্রসারণ করে সম্ভাবনাময় ফল প্রক্রিয়াজাতকরণসহ কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা গেলে রপ্তানি আয় বাড়বে। সমৃদ্ধ হবে অর্থনীতি, তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান।

জনপ্রিয় সংবাদ

পার্বত্য চট্টগ্রামে চুক্তি বাস্তবায়ন নেই, মানবাধিকার পরিস্থিতি অবনতি: জেএসএস

আলোর মুখ দেখেনি দ্বিতীয় শিল্পনগরী স্থাপনের প্রস্তাবনা

আপডেট সময় : ০৫:১৩:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

 আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি রংপুর বিসিক শিল্পনগরীতে। নানা সংকটের কারণে জায়গা হচ্ছে না নতুন উদ্যোক্তাদের। দ্বিতীয় শিল্পনগরী স্থাপনের আবেদনের ১৬ বছর পেরিয়েছে। তবে জমির অভাবে তা এখনও আলোর মুখ দেখেনি। এতে বিভাগীয় নগরী রংপুরে পরিকল্পিতভাবে শিল্পের বিকাশ ঘটছে না। উদ্যোক্তাগণ বলেন, রংপুরে বিসিকের অধীনে ক্ষুদ্রশিল্প গড়ে ওঠার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বিসিক, প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা আন্তরিক হলে নতুন শিল্পনগরী স্থাপন প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। ১৯৮০ সালে ২০ একর জায়গা নিয়ে রংপুর নগরীর সিও বাজার এলাকায় গড়ে ওঠে বিসিক শিল্পনগরী।

এরপর তা উদ্যোক্তাদের ইজারা দেওয়া হয়। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ শিল্পনগরীতে উন্নয়নের তেমন ছোঁয়া লাগেনি। এখনও বেহাল সড়ক, ভাঙ্গা ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিরাপত্তার অভাব, অনুন্নত অবকাঠামোসহ রয়েছে নানা সংকট, যা ব্যবসায় অন্যতম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট না থাকায় বিভিন্ন শিল্প ইউনিটকে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে নিজ উদ্যোগে বর্জ্য অপসারণ করতে হচ্ছে। ফলে বাড়ছে কারখানার পরিচালনা ব্যয়। আবার শিল্পনগরীর ভেতরের সড়কগুলো খানাখন্দে ভরা। বর্ষাকালে বা সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুসমান জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন নানান সংকট ও সীমাবদ্ধতায় থাকা এ শিল্পনগরীর সংস্কার এবং বিকাশে বিভিন্ন সময়ে নানা পরিকল্পনা তুলে ধরা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

একটি নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা যায, বিসিক শিল্পনগরীতে মোট ৮২টি প্লট রয়েছে, যার আয়তন সর্বনিম্ন ৩১৫০ স্কয়ার ফুট থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার স্কয়ার ফুট। মোট ২৫টি শিল্প ইউনিটের মধ্যে চালু আছে ২১টি। এছাড়া মামলা, ঋণখেলাপিসহ নানা কারণে রুগ্ন শিল্প হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে চারটি ইউনিট। কারখানা মালিকরা বলেন, শিল্পনগরীতে গ্যাস সংযোগ থাকলে উৎপাদন আরও বাড়ত। অনেক সময় বিদ্যুৎ না থাকলে উৎপাদন বন্ধ থাকে। আমরা আশায় আছি নতুন শিল্পনগরী স্থাপিত হওয়ার। এদিকে পরিকল্পনা হলেও প্রস্তাবিত দ্বিতীয় শিল্পনগরী স্থাপনের উদ্যোগও আলোর মুখ দেখেনি।

বিসিক ২০০৪ সালে নগরীর অদূরে দমদমা এবং ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট-সংলগ্ন রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে দ্বিতীয় শিল্পনগরী স্থাপনে প্রায় ৫০ একর জমি অধিগ্রহণে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চেয়ে আবেদন করে। সেই আবেদনে কোনো সাড়া মেলেনি। পরবর্তী সময়ে নতুন আরেকটি এলাকায় দ্বিতীয় শিল্পনগরী স্থাপনের জন্য জমি বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়। সেটি এখনও পাস হয়নি। ফলে প্রতিদিন নতুন নতুন শিল্পোদ্যোক্তারা এসে ঘুরে যাচ্ছেন প্লটের জন্য। রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি রেজাউল ইসলাম মিলন বলেন, বর্তমান শিল্পনগরী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছে জিম্মি হয়েছে। অবিলম্বে রংপুরে দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী তৈরি করা প্রয়োজন।

 

রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আকবর আলী বলেন, বিসিকের জায়গা না থাকায় যত্রতত্র অপরিকল্পিতভাবে শিল্প-কারখানা গড়ে উঠছে। এতে প্রতিনিয়ত কৃষিজমির ওপর চাপ বাড়ছে। জানা যায়, রংপুর জেলা প্রশাসন নগরীর অদূরে সদর উপজেলায় দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী স্থাপনে শত একর জমি অধিগ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে রংপুর বিসিকের উপব্যবস্থাপক এহেছানুল হক বলেন, বিসিক দ্বিতীয় শিল্পনগরী স্থাপনে জমির বিষয়ে জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছি। জেলা প্রশাসক আন্তরিকতার সঙ্গে বিষয়টি দেখছেন। রংপুর বিসিককে সম্প্রসারণ করে সম্ভাবনাময় ফল প্রক্রিয়াজাতকরণসহ কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা গেলে রপ্তানি আয় বাড়বে। সমৃদ্ধ হবে অর্থনীতি, তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান।