০৬:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাজেটে উপেক্ষিত বিশেষ চাহিদাসম্পন্নরা

❖ চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অপ্রতুল 
❖ প্রতিবন্ধী ভাতা অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী দেয়ার দাবি 
❖ সরকারের ভাতায় পরিবারে সম্মান পাচ্ছে প্রতিবন্ধীরা : বদিউল আলম 
❖ সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সহযোগিতা পেতে চাই : আলবার্ট মোল্লা
❖ ঘর থেকে এখনও বহু প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বের হতে পারছে না : মহুয়া পাল 
❖ প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবতা বর্জিত: ড. ফাহমিদা খাতুন 
প্রস্তাবিত নতুন বাজেটে বরাদ্দ দেখে প্রতিবন্ধী তথা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। তাদের মতে, চাহিদার তুলনায় প্রস্তাবিত বাজেটে দেয়া বরাদ্দ অপ্রতুল। তারা প্রতিবন্ধী ভাতা অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩০০০ টাকা দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে যা বরাদ্দ তা দিয়ে প্রতিবন্ধীদের জীবনমানের মানবিক উন্নয়ন হবে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আলবার্ট মোল্লা বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সরকার নির্ধারিত অষ্টম পঞ্চম বার্ষিক পরিকল্পনায় উল্লেখিত ২০২০ সালের জীবনযাত্রার ব্যয় সূচকের ভিত্তিতে নির্ধারিত মাসিক ভাতা ৩০০০ করবে এটা চাই। ঘোষণা অনুযায়ী ৮৫০ টাকা বাড়িয়ে ৩০০০ টাকা করুক। কেননা, এই অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মাত্র একবছর সময় আছে। নতুন পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা আসার আগেই এর বাস্তবায়ন দেখতে চাই।
বেসরকারি সংস্থা-ন্যাডকপ এর প্রতিনিধি বদিউল আলম বলেন, সরকার প্রতিবন্ধীদের ভাতা দিচ্ছে। প্রতিবন্ধীদের এই ভাতা থাকার কারণে সে পরিবারে সম্মান পাচ্ছে। সে যে একজন হিউম্যান বিয়িং সেটা সেটা পরিবারে স্বীকৃতি পাচ্ছে। এই টাকার কারণে পরিবার থেকে সে খাবার পাচ্ছে, আশ্রয় পাচ্ছে। এখন পরিবার বুঝতে পারছে যে, তাকে অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই। এই প্রতিবন্ধীদের ভাতা বৃদ্ধি করা হলে এক কোটি পঞ্চাশ লক্ষ মানুষ উপকার পাবে। এদের সাথে জড়িত আছে এদের পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজন। দেখা গেল, ভাস্ট পিপলই হচ্ছে এই প্রতিবন্ধী মানুষ। সুতরাং প্রতিবন্ধী মানুষের সকলক্ষেত্রে অংশগ্রহণ, সম সুযোগ, সম মর্যাদা প্রতিবন্ধীবান্ধব সরকার নিশ্চিত করতে এই প্রত্যাশা করছি।
এক্সেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের কো-ফাউন্ডার ও চেয়ারপারসন মহুয়া পাল বলেন, প্রতিবন্ধীদের অবস্থা খুবই শোচনীয়। গুরুতর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা এখনও ঘর থেকে বের হতে পারছে না। আমাদের মধ্যে অনেক দৃষ্টি ও শোভন প্রতিবন্ধী আছে। অতদূর পর্যন্ত আমরা যেতে পারিনি। তাদের জন্য আমরা সর্বোচ্চটা করতে পারিনি। প্রতিটি ক্ষেত্রে বাজেট হওয়া উচিত। আমাদের এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ। আমরা জানি এখন ইউনিয়ন পর্যায় থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে চেইন আছে। আমরা জানি যে যতক্ষণ পর্যন্ত না ব্যক্তি এড্রেস হবে এবং পছন্দগুলো চিন্তা করা হবে। আমাদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কারিগরী শিক্ষা, কেয়ার গিভার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই বিষয়গুলো যেন সরকার তার বাজেট বরাদ্দে গুরুত্ব দেয়।
আলবার্ট মোল্লা বলেন, বর্তমান বাজেটে ৩৮১২. ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা গত বাজেটে ছিল ৩৪০৩.৬৫ কোটি টাকা। প্রতিবন্ধিতা খাতে বরাদ্দ মোট সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম খাতের ২.৮০ শতাংশ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ২.৯৪ শতাংশ। যা মোট বাজেটের শূন্য দশমিক চার আট শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে এটা ছিল শূন্য দশমিক চার নয় শতাংশ। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ খুবই অপ্রতুল। বাজেটে দরিদ্র প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী বৃদ্ধি পেলেও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাসিক ভাতা অপরিবর্তিত (৮৫০ টাকা) রয়েছে যা বর্তমান দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবন যাত্রার ব্যয় বিবেচনায় খুবই সামান্য। ৫ বছর ধরে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির সংখ্যা ১ লাখে রয়েছে। যা অযৌক্তিক। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বাজেট বরাদ্দ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কেন্দ্রিক। সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের ১৪০টি খাতের মধ্যে ৮টিতে প্রতিন্ধিতা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যার ৭টি সমাজকল্যাণ ও একটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভূক্ত। অন্তর্ভূক্তিমূলক উন্নয়ন ধারণায় মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ খুবই প্রয়োজন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কোন ্ উদ্যোগ বাজেটে নেই। বাজেটে প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সনদ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩, নিউরো ডেভলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন-২০১৩, নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিফলন নেই।
তিনি বলেন, সরকার একদিন বুঝতে পারবে যাদের জন্য এই বাজেট তাদের সঙ্গে কথা বলে এই বাজেট করতে হবে।  ডাব্লিউবিডিএফর এর প্রতিনিধি দোলন বলেন, বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় আমরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাসিক ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা, প্রতিবন্ধীদের দেখাশোনার জন্য কেয়ার গিভারের জন্য ভাতা কার্যক্রম চালুর জন্য পুনরায় বিবেচনা করা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যোগ্যতা উন্নয়নের জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কোটা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং বেসরকারি নিয়োগ কর্তাদের উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন ধাপে কর রেয়াতের সুবিধা রাখা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলন ও যোগাযোগ সহজ করতে প্রতিবন্ধিতার ধরণ ও চাহিদা মোতাবেক মানসম্পন্ন সহায়ক উপকরণ আমদানির উপর শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান করা ও এসকল পণ্য বিনামূল্যে সরবরাহ করা, প্রতিবন্ধীদের সঞ্চয়পত্র, এফডিআর, ডিপিএসের উপর ভ্যাট ট্যাক্স প্রত্যাহারের দাবি, প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ তৈরি ও উপবৃত্তি বৃদ্ধি করা, সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমে উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানকেন্দ্রিক বাজেটে প্রতিবন্ধীদের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি, প্রতিবন্ধীদের ব্যক্তিদের সংগঠনগুলোর কার্যক্রম বৃদ্ধির জন্য বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানাচ্ছি।
প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবতা বর্জিত: প্রস্তাবিত বাজেটকে বাস্তবতা বর্জিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মোহবিষ্ট বাজেট বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সভাপতি ড. ফাহমিদা খাতুন।
তিনি বলেন, দুই বছরে সামষ্টিক অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। এমন অবস্থায় আগামী অর্থ বছরের জন্য জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে এখন ৯ শতাংশের বেশি মূল্যস্ফীতি চলমান। আর আগামী বাজেটে মূল্যস্ফীতি ধরা হয়েছে ৬ দশদিক ৫ শতাংশ। আগামী এক মাসের মধ্যে এটা অর্জন সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, আগামী অর্থবছরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৮ শতাংশ। চলতি বছরের ১১ মাসে প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ। এক মাসের মধ্যে ৮ শতাংশ অর্জন করা সম্ভব না। একইভাবে আগামী অর্থবছরে আমদানির প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১০ শতাংশ; বর্তমানে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি বিরাজমান। এক-দুই মাসের মধ্যে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
জনপ্রিয় সংবাদ

পদত্যাগের পরদিনই সায়েদুর রহমানকে একই পদে নিয়োগ

বাজেটে উপেক্ষিত বিশেষ চাহিদাসম্পন্নরা

আপডেট সময় : ০৭:১৩:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪
❖ চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অপ্রতুল 
❖ প্রতিবন্ধী ভাতা অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী দেয়ার দাবি 
❖ সরকারের ভাতায় পরিবারে সম্মান পাচ্ছে প্রতিবন্ধীরা : বদিউল আলম 
❖ সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সহযোগিতা পেতে চাই : আলবার্ট মোল্লা
❖ ঘর থেকে এখনও বহু প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বের হতে পারছে না : মহুয়া পাল 
❖ প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবতা বর্জিত: ড. ফাহমিদা খাতুন 
প্রস্তাবিত নতুন বাজেটে বরাদ্দ দেখে প্রতিবন্ধী তথা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। তাদের মতে, চাহিদার তুলনায় প্রস্তাবিত বাজেটে দেয়া বরাদ্দ অপ্রতুল। তারা প্রতিবন্ধী ভাতা অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩০০০ টাকা দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে যা বরাদ্দ তা দিয়ে প্রতিবন্ধীদের জীবনমানের মানবিক উন্নয়ন হবে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আলবার্ট মোল্লা বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সরকার নির্ধারিত অষ্টম পঞ্চম বার্ষিক পরিকল্পনায় উল্লেখিত ২০২০ সালের জীবনযাত্রার ব্যয় সূচকের ভিত্তিতে নির্ধারিত মাসিক ভাতা ৩০০০ করবে এটা চাই। ঘোষণা অনুযায়ী ৮৫০ টাকা বাড়িয়ে ৩০০০ টাকা করুক। কেননা, এই অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মাত্র একবছর সময় আছে। নতুন পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা আসার আগেই এর বাস্তবায়ন দেখতে চাই।
বেসরকারি সংস্থা-ন্যাডকপ এর প্রতিনিধি বদিউল আলম বলেন, সরকার প্রতিবন্ধীদের ভাতা দিচ্ছে। প্রতিবন্ধীদের এই ভাতা থাকার কারণে সে পরিবারে সম্মান পাচ্ছে। সে যে একজন হিউম্যান বিয়িং সেটা সেটা পরিবারে স্বীকৃতি পাচ্ছে। এই টাকার কারণে পরিবার থেকে সে খাবার পাচ্ছে, আশ্রয় পাচ্ছে। এখন পরিবার বুঝতে পারছে যে, তাকে অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই। এই প্রতিবন্ধীদের ভাতা বৃদ্ধি করা হলে এক কোটি পঞ্চাশ লক্ষ মানুষ উপকার পাবে। এদের সাথে জড়িত আছে এদের পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজন। দেখা গেল, ভাস্ট পিপলই হচ্ছে এই প্রতিবন্ধী মানুষ। সুতরাং প্রতিবন্ধী মানুষের সকলক্ষেত্রে অংশগ্রহণ, সম সুযোগ, সম মর্যাদা প্রতিবন্ধীবান্ধব সরকার নিশ্চিত করতে এই প্রত্যাশা করছি।
এক্সেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের কো-ফাউন্ডার ও চেয়ারপারসন মহুয়া পাল বলেন, প্রতিবন্ধীদের অবস্থা খুবই শোচনীয়। গুরুতর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা এখনও ঘর থেকে বের হতে পারছে না। আমাদের মধ্যে অনেক দৃষ্টি ও শোভন প্রতিবন্ধী আছে। অতদূর পর্যন্ত আমরা যেতে পারিনি। তাদের জন্য আমরা সর্বোচ্চটা করতে পারিনি। প্রতিটি ক্ষেত্রে বাজেট হওয়া উচিত। আমাদের এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ। আমরা জানি এখন ইউনিয়ন পর্যায় থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে চেইন আছে। আমরা জানি যে যতক্ষণ পর্যন্ত না ব্যক্তি এড্রেস হবে এবং পছন্দগুলো চিন্তা করা হবে। আমাদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কারিগরী শিক্ষা, কেয়ার গিভার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই বিষয়গুলো যেন সরকার তার বাজেট বরাদ্দে গুরুত্ব দেয়।
আলবার্ট মোল্লা বলেন, বর্তমান বাজেটে ৩৮১২. ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা গত বাজেটে ছিল ৩৪০৩.৬৫ কোটি টাকা। প্রতিবন্ধিতা খাতে বরাদ্দ মোট সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম খাতের ২.৮০ শতাংশ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ২.৯৪ শতাংশ। যা মোট বাজেটের শূন্য দশমিক চার আট শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে এটা ছিল শূন্য দশমিক চার নয় শতাংশ। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ খুবই অপ্রতুল। বাজেটে দরিদ্র প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী বৃদ্ধি পেলেও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাসিক ভাতা অপরিবর্তিত (৮৫০ টাকা) রয়েছে যা বর্তমান দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবন যাত্রার ব্যয় বিবেচনায় খুবই সামান্য। ৫ বছর ধরে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির সংখ্যা ১ লাখে রয়েছে। যা অযৌক্তিক। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বাজেট বরাদ্দ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কেন্দ্রিক। সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের ১৪০টি খাতের মধ্যে ৮টিতে প্রতিন্ধিতা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যার ৭টি সমাজকল্যাণ ও একটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভূক্ত। অন্তর্ভূক্তিমূলক উন্নয়ন ধারণায় মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ খুবই প্রয়োজন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কোন ্ উদ্যোগ বাজেটে নেই। বাজেটে প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সনদ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩, নিউরো ডেভলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন-২০১৩, নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিফলন নেই।
তিনি বলেন, সরকার একদিন বুঝতে পারবে যাদের জন্য এই বাজেট তাদের সঙ্গে কথা বলে এই বাজেট করতে হবে।  ডাব্লিউবিডিএফর এর প্রতিনিধি দোলন বলেন, বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় আমরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাসিক ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা, প্রতিবন্ধীদের দেখাশোনার জন্য কেয়ার গিভারের জন্য ভাতা কার্যক্রম চালুর জন্য পুনরায় বিবেচনা করা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যোগ্যতা উন্নয়নের জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কোটা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং বেসরকারি নিয়োগ কর্তাদের উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন ধাপে কর রেয়াতের সুবিধা রাখা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলন ও যোগাযোগ সহজ করতে প্রতিবন্ধিতার ধরণ ও চাহিদা মোতাবেক মানসম্পন্ন সহায়ক উপকরণ আমদানির উপর শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান করা ও এসকল পণ্য বিনামূল্যে সরবরাহ করা, প্রতিবন্ধীদের সঞ্চয়পত্র, এফডিআর, ডিপিএসের উপর ভ্যাট ট্যাক্স প্রত্যাহারের দাবি, প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ তৈরি ও উপবৃত্তি বৃদ্ধি করা, সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমে উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানকেন্দ্রিক বাজেটে প্রতিবন্ধীদের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি, প্রতিবন্ধীদের ব্যক্তিদের সংগঠনগুলোর কার্যক্রম বৃদ্ধির জন্য বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানাচ্ছি।
প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবতা বর্জিত: প্রস্তাবিত বাজেটকে বাস্তবতা বর্জিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মোহবিষ্ট বাজেট বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সভাপতি ড. ফাহমিদা খাতুন।
তিনি বলেন, দুই বছরে সামষ্টিক অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। এমন অবস্থায় আগামী অর্থ বছরের জন্য জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে এখন ৯ শতাংশের বেশি মূল্যস্ফীতি চলমান। আর আগামী বাজেটে মূল্যস্ফীতি ধরা হয়েছে ৬ দশদিক ৫ শতাংশ। আগামী এক মাসের মধ্যে এটা অর্জন সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, আগামী অর্থবছরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৮ শতাংশ। চলতি বছরের ১১ মাসে প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ। এক মাসের মধ্যে ৮ শতাংশ অর্জন করা সম্ভব না। একইভাবে আগামী অর্থবছরে আমদানির প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১০ শতাংশ; বর্তমানে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি বিরাজমান। এক-দুই মাসের মধ্যে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে পৌঁছানো সম্ভব নয়।