০৩:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাকার বাইরে বাড়ছে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা

◉ আক্রান্তের হার গতবছরের তুলনায় তিনগুণ বেশি
◉ বছরের প্রথম ছয় মাসে আক্রান্ত ২৩৫৬, মৃত্যু ১২
◉ তিন বিভাগে আক্রান্তের হার বেশি

➤ ঢাকার ন্যায় সারাদেশেই স্থায়ী রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু- ড. কাবিরুল বাশার, কীটতত্ত্ববিদ
➤ ডেঙ্গু পরিস্থিতি এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় সন্তোষজনকÑ স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম

একটা সময় ডেঙ্গু শুধু রাজধানী ঢাকার সমস্যা ছিলো। তবে গতবছর থেকে ডেঙ্গু ভোল পাল্টে ঢাকার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। চলতি বছর ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা গতবছরের তুলনায় ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি বছর প্রথম ছয় মাসে ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৩৫৬ জন। আর গতবছর একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসাপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১৮৯৯ জন। অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট ডেঙ্গু রোগীর হিসাবে চলতি বছর ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার ৬৪.৫৩ শতাংশ। গত বছর এই সময়ে ঢাকার বাইরে রোগী ছিল ২৩.৭৭ শতাংশ। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় ঢাকার বাইরে আক্রান্তের হার বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, জুলাই শেষে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়বে। এমন পরিস্থিতি হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। স্থানীয় পর্যায়েও ডেঙ্গু মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেয়ার মতামত তাদের। তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম দাবি করেছেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় সন্তোষজনক অবস্থায় আছে।

ঢাকার বাইরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যু বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জানুয়ারি মাসে আক্রান্ত ছিল ৬৯৭ জন, মৃত্যু ছয়জন। ফেব্রুয়ারি মাসে আক্রান্ত ছিল ২১৬ জন, মৃত্যু একজন। মার্চ মাসে আক্রান্ত ছিল ১৯২ জন, মৃত্যু তিনজন। এপ্রিল মাসে আক্রান্ত ছিল ৩৪২ জন, মৃত্যু একজন। মে মাসে আক্রান্ত ছিল ৪২৩ জন, মৃত্যু ছিল একজন। জুন মাসের গতকাল পর্যন্ত আক্রান্ত ৪৭০ জন, মৃত্যু নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারের তথ্য মতে, চলতি বছর ঢাকার বাইরে ৮৫ শতাংশ রোগী তিন বিভাগে। সবচেয়ে বেশি ৯৮০ জন আক্রান্ত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এই বিভাগের চট্টগ্রাম, চাঁদপুর ও কক্সবাজার জেলায় সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে। এরপর বরিশাল বিভাগের বরিশাল, বরগুনা ও পিরোজপুরে আক্রান্তের হার বেশি। ঢাকা বিভাগের নরসিংদীতে আক্রান্তের হার বেশি।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা মুশতাক হোসেন বলেন, মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় এবং এর সঙ্গে তাপমাত্রা বেশি থাকায় এডিস মশার প্রজনন এখনো বাড়েনি। তবে গত বছরের চেয়ে এ বছর পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হবে না, বরং অবনতির আশঙ্কা বেশি। ঢাকার দুই সিটি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে যেহেতু কাজ করছে, এর কিছুটা ফল আমরা পাব। তবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে হলে একসঙ্গে সারা দেশে কাজটা করতে হবে।

কীটতত্ত্ববিদ কাবিরুল বাশার বলেন, মূলত আমাদের দেশে রাজধানীর সঙ্গে অন্য শহর বা মফস্বলে মানুষের যাতায়াতের পরিমাণ বেশি। মানুষের সঙ্গে মশাও একইভাবে ঢাকা থেকে অন্য শহরে পৌঁছে। যে শহরে যাবে সেখানে স্বাভাবিকভাবেই প্রজনন করবে, ডিম দিবে, বাচ্চা দিবে। আর আমাদের শুধু শহরই নয়, গ্রামেও মশার প্রজননের জন্য উপযোগী পরিবেশ রয়েছে। নগরায়ণের প্রভাবে, ঢাকা বা বড় শহড়গুলো ছাড়া সারা দেশেই ক্যান বা বোতলজাত পণ্যের ব্যবহার রয়েছে এবং সেগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় যেখানে সেখানে পড়ে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই তাই ঢাকার বাইরেও এডিস মশা বাড়ছে। ঢাকায় যেমন এখন এডিস মশা স্থায়ী হয়ে গেছে। ধীরে ধীরে অন্য শহর বা গ্রামেও স্থায়ী সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।

তিনি বলেন, এখন থেকেই মশার বিস্তার রোধে উদ্যোগ নিতে হবে। স্থানীয় সরকারের যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে, জেলা পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পর্যায়ে ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করতে হবে। যেন এডিস মশা বিস্তার লাভ করতে না পারে, সেজন্য প্রশিক্ষিত এই জনবল কাজ করবে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় সন্তোষজনক অবস্থায় আছে। যদিও আমরা চাই, ডেঙ্গু পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে থাকুক। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু প্রত্যাশা করি না। কিন্তু পরিসংখ্যান বিবেচনায় আমরা এখনো ভালো অবস্থায় আছি। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

ভারত, বাংলাদেশসহ এশিয়ার অন্যান্য দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্যচিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ২ জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭৫১ জন, মৃত্যু ৪৬ জন। পক্ষান্তরে ভারতে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ১৯ হাজার ৪৪৭ জন, শ্রীলঙ্কায় ২৩ হাজার ৯৩১ জন, মালেয়শিয়ায় ৫০ হাজার ৬৫০ জন, ইন্দোনেশিয়ায় ৮৮ হাজার ৫৯৩ জন। এছাড়াও সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত দেশেও গত ২৭ জুন পর্যন্ত ৮ হাজার ৯৬২ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছে। থাইল্যান্ডে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩৩ হাজার।

ঢাকার বাইরে বাড়ছে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা

আপডেট সময় : ০২:০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুলাই ২০২৪

◉ আক্রান্তের হার গতবছরের তুলনায় তিনগুণ বেশি
◉ বছরের প্রথম ছয় মাসে আক্রান্ত ২৩৫৬, মৃত্যু ১২
◉ তিন বিভাগে আক্রান্তের হার বেশি

➤ ঢাকার ন্যায় সারাদেশেই স্থায়ী রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু- ড. কাবিরুল বাশার, কীটতত্ত্ববিদ
➤ ডেঙ্গু পরিস্থিতি এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় সন্তোষজনকÑ স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম

একটা সময় ডেঙ্গু শুধু রাজধানী ঢাকার সমস্যা ছিলো। তবে গতবছর থেকে ডেঙ্গু ভোল পাল্টে ঢাকার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। চলতি বছর ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা গতবছরের তুলনায় ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি বছর প্রথম ছয় মাসে ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৩৫৬ জন। আর গতবছর একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসাপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১৮৯৯ জন। অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট ডেঙ্গু রোগীর হিসাবে চলতি বছর ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার ৬৪.৫৩ শতাংশ। গত বছর এই সময়ে ঢাকার বাইরে রোগী ছিল ২৩.৭৭ শতাংশ। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় ঢাকার বাইরে আক্রান্তের হার বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, জুলাই শেষে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়বে। এমন পরিস্থিতি হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। স্থানীয় পর্যায়েও ডেঙ্গু মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেয়ার মতামত তাদের। তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম দাবি করেছেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় সন্তোষজনক অবস্থায় আছে।

ঢাকার বাইরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যু বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জানুয়ারি মাসে আক্রান্ত ছিল ৬৯৭ জন, মৃত্যু ছয়জন। ফেব্রুয়ারি মাসে আক্রান্ত ছিল ২১৬ জন, মৃত্যু একজন। মার্চ মাসে আক্রান্ত ছিল ১৯২ জন, মৃত্যু তিনজন। এপ্রিল মাসে আক্রান্ত ছিল ৩৪২ জন, মৃত্যু একজন। মে মাসে আক্রান্ত ছিল ৪২৩ জন, মৃত্যু ছিল একজন। জুন মাসের গতকাল পর্যন্ত আক্রান্ত ৪৭০ জন, মৃত্যু নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারের তথ্য মতে, চলতি বছর ঢাকার বাইরে ৮৫ শতাংশ রোগী তিন বিভাগে। সবচেয়ে বেশি ৯৮০ জন আক্রান্ত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এই বিভাগের চট্টগ্রাম, চাঁদপুর ও কক্সবাজার জেলায় সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে। এরপর বরিশাল বিভাগের বরিশাল, বরগুনা ও পিরোজপুরে আক্রান্তের হার বেশি। ঢাকা বিভাগের নরসিংদীতে আক্রান্তের হার বেশি।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা মুশতাক হোসেন বলেন, মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় এবং এর সঙ্গে তাপমাত্রা বেশি থাকায় এডিস মশার প্রজনন এখনো বাড়েনি। তবে গত বছরের চেয়ে এ বছর পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হবে না, বরং অবনতির আশঙ্কা বেশি। ঢাকার দুই সিটি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে যেহেতু কাজ করছে, এর কিছুটা ফল আমরা পাব। তবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে হলে একসঙ্গে সারা দেশে কাজটা করতে হবে।

কীটতত্ত্ববিদ কাবিরুল বাশার বলেন, মূলত আমাদের দেশে রাজধানীর সঙ্গে অন্য শহর বা মফস্বলে মানুষের যাতায়াতের পরিমাণ বেশি। মানুষের সঙ্গে মশাও একইভাবে ঢাকা থেকে অন্য শহরে পৌঁছে। যে শহরে যাবে সেখানে স্বাভাবিকভাবেই প্রজনন করবে, ডিম দিবে, বাচ্চা দিবে। আর আমাদের শুধু শহরই নয়, গ্রামেও মশার প্রজননের জন্য উপযোগী পরিবেশ রয়েছে। নগরায়ণের প্রভাবে, ঢাকা বা বড় শহড়গুলো ছাড়া সারা দেশেই ক্যান বা বোতলজাত পণ্যের ব্যবহার রয়েছে এবং সেগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় যেখানে সেখানে পড়ে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই তাই ঢাকার বাইরেও এডিস মশা বাড়ছে। ঢাকায় যেমন এখন এডিস মশা স্থায়ী হয়ে গেছে। ধীরে ধীরে অন্য শহর বা গ্রামেও স্থায়ী সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।

তিনি বলেন, এখন থেকেই মশার বিস্তার রোধে উদ্যোগ নিতে হবে। স্থানীয় সরকারের যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে, জেলা পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পর্যায়ে ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করতে হবে। যেন এডিস মশা বিস্তার লাভ করতে না পারে, সেজন্য প্রশিক্ষিত এই জনবল কাজ করবে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় সন্তোষজনক অবস্থায় আছে। যদিও আমরা চাই, ডেঙ্গু পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে থাকুক। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু প্রত্যাশা করি না। কিন্তু পরিসংখ্যান বিবেচনায় আমরা এখনো ভালো অবস্থায় আছি। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

ভারত, বাংলাদেশসহ এশিয়ার অন্যান্য দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্যচিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ২ জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭৫১ জন, মৃত্যু ৪৬ জন। পক্ষান্তরে ভারতে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ১৯ হাজার ৪৪৭ জন, শ্রীলঙ্কায় ২৩ হাজার ৯৩১ জন, মালেয়শিয়ায় ৫০ হাজার ৬৫০ জন, ইন্দোনেশিয়ায় ৮৮ হাজার ৫৯৩ জন। এছাড়াও সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত দেশেও গত ২৭ জুন পর্যন্ত ৮ হাজার ৯৬২ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছে। থাইল্যান্ডে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩৩ হাজার।