কোটা বিরোধী আন্দোলনে ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ সারাদেশে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো অবরোধ করে রেখেছে শিক্ষার্থীরা।
রোববার দুপুর আড়াইটা থেকে শাহবাগ, বাংলা মোটর, শেরাটন, দোয়েল চত্বর, চানকারপুল, নীলক্ষেত, নিউমার্কেট এবং সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করে রেখেছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী।
এদিকে নীলক্ষেত এবং নিউমার্কেট এলাকা অবরোধ করেছে ইডেন কলেজের শিক্ষার্থীরা, সায়েন্স ল্যাব এলাকা অবরোধ করেছে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা, শাহবাগ এবং শেরাটন এলাকা অবরোধ করে রেখেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরাও একযোগে আন্দোলনে নেমেছে।
এদিকে গণপরিবহন ও যানচলাচল বন্ধ থাকায় স্থবির হয়ে আছে ঢাকা শহর। প্রতিটি সড়কের মোড়ে মোড়ে তীব্র যানজটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। তবে গণপরিবহনগুলোর চলাচল বন্ধ থাকলেও চলছে মেট্রোরেল।
এদিন আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করে গান, আবৃত্তির মাধ্যমে তাদের দাবির কথা তুলে ধরেন। এ সময় বাংলা ব্লকেড কর্মসূচিতে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘কোটা নয়, মেধা চাই’, ‘চাকরি পেতে, স্বচ্ছ নিয়োগ চাই’, ‘কোটা প্রথা নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক’, ‘এই বাংলায় হবে না, বৈষম্যের ঠিকানা’, ‘আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে ওঠো আরেকবার’, ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘এসো ভাই এসো বোন, গড়ে তুলি আন্দোলন’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
এদিকে তীব্র গরমের মধ্যে যানযটে পড়ে অসহনীয় ভোগান্তিতে পড়েছে যাত্রীরা। অন্যদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, আমরা দিনের পর দিন ঝড়বৃষ্টি রোদ উপেক্ষা করে আন্দোলন করে যাচ্ছি। কিন্তু সরকার আমাদের দাবিগুলোর দিকে কর্ণপাত করছে না। সরকারের পক্ষ থেকে হাস্যকর বিবৃতি দেওয়া হচ্ছে। তারা আরও বলেন আমাদের দাবি আদায় না হলে আমরা হাইকোর্ট ঘেরাও করতে বাধ্য হব।
কোটা বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক রিফাত রসিদ বলেন, আমাদের হল, ক্লাস, লাইব্রেরি সব এখন রাজপথ। বৈষম্যমূলক কোটা জারি করে হাইকোর্ট আমাদের শিক্ষার্থীদের সাথে তামাশা করছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের ৪ দফা দাবি আদায়ের ব্যাপারে আমরা অনড়।
শিক্ষার্থীদের ৪ দফা দাবি হলো-
• ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখতে হবে।
• ২০১৮ সালের পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরিতে (সকল গ্রেডে) অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দিতে হবে এবং কোটাকে ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। সেক্ষেত্রে সংবিধান অনুযায়ী কেবল অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।
• সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দিতে হবে।
• দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
















