১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছাত্রলীগ নেতার ফোন কলে চাকরি উপ গ্রন্থাগারিক মামদুদুর

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-গ্রন্থাগারিক মামদুদুর রহমানের চাকরির জন্য
তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন সহ চার ছাত্রলীগ নেতার  ফোন কলের সুপারিশে হয়েছে  তিনি নিজেই গর্ব করে জানান।

মামদুদুর রহমান বলেন, সার্কুলারের মাধ্যমে আমার চাকরি হয়েছে । আমার বাবা তখন আওয়ামী লীগ করতো। আমার চাকরির জন্য তৎকালীন উপাচার্য লুৎফর রহমান উপাচার্য মাহমুদ হাসান রিপনসহ চারজন ছাত্রলীগ নেতা ফোন দিয়েছিল।
আর দাপ্তরিকভাবে অফিস ফাঁকি দেওয়ার কোন নোটিশ পাইনি আমি।

জানা যায়,  মামদুদুর রহমানের পিতা বদরুল উলা লাবিব  গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাক এবং গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। আওয়ামী আমলে গাইবান্ধা  জেলা জজ কোর্টের এপিপি’র দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের  স্বাধীনতা পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং স্বাধীনতা পরিষেদের সদস্য হিসেবে অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশেনের  নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়য়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত পূরন না করেই নিয়োগ পেয়েছেন উপ গ্রন্থাগারিক মামদুদুর রহমান। তার নিয়োগের অভিজ্ঞতার কপি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। যেখানে বিজ্ঞপ্তির পদের ৩নং  শর্তে দেখা যায়,  লাইব্রেরি সায়েন্সে দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক সম্মানসহ দ্বিতীয় শ্রেণির মাস্টার্স ডিগ্রি ও সরকারি,বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে অনূন্য ৫ বছরের অভিজ্ঞতা এবং কম্পিউটার পরিচালনায় বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।কিন্তু আবেদনের শেষ তারিখ ২০মে ২০০৯ তারিখে তার অভিজ্ঞতা ছিল ৪  বছর ৪ মাস ৩ দিন। তিনি উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ডকুমেন্টেশন অফিসার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন ১৭জানুয়ারি ২০০৫। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রয়োজনীয় শর্ত পূরন না করেই তিনি ১২আগস্ট ২০০৯ সেন্ট্রাল লাইব্রেরি এন্ড ইনফরমেশন সেন্টারে সহকারী গ্রন্থাগারিক হিসেবে নিয়োগ পান।

তিনি ২ জুলাই ২০১৭, উপগ্রন্থাগারিক হিসেবে পদোন্নতি পান এবং ২৬ জুলাই ২০১৯ , ২ বছরের ব্যবধানে তথ্য গোপন করে অতিরিক্ত গ্রন্থাগারিক পদে পদোন্নতির চেষ্ঠা করেন, কিন্তু বাছাই বোর্ডের নিকট যোগ্য  বিবেচিত না হওয়ায় পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়নি যা সিন্ডিকেটের ৬৩তম সভার সিদ্ধান্ত-১২ তে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার সূত্রে জানা যায়,মামদুদুর রহমান নিয়মিত অফিস করেন না করে প্রায় সময় ঢাকায় থাকেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামদুদুর রহমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে সুবিধা লাভের জন্য আওয়ামী বিরোধী ভূমিকায় নেমেছেন বলে জানা যায়। তিনি প্রত্যেক উপাচার্যের মেয়াদের প্রথম ২ বছর ভিসির পক্ষে থাকেন  এবং শেষ ২ বছর ভিসি বিরোধীদের সঙ্গে যোগ দেন।

এ বিষয়ে গ্রন্থাগারিক ড:মো: মনিরুজ্জামান বলেন, উনার অবৈধ নিয়োগের বিষয়ে পত্রিকা থেকে আমি জেনেছি। আর সাবেক উপাচার্যের  সময় তার অফিস ফাঁকি দিয়ে ঢাকায় থাকার বিষয়টি শুনেছিলাম। তবে বর্তমান অফিস কন্টিনিউ করেন তিনি।

রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আগের উপাচার্যের সময়ের কথা তো আমার জানা নেই । এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানাইতে হবে।

ছাত্রলীগ নেতার ফোন কলে চাকরি উপ গ্রন্থাগারিক মামদুদুর

আপডেট সময় : ১২:৪৯:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৫

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-গ্রন্থাগারিক মামদুদুর রহমানের চাকরির জন্য
তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন সহ চার ছাত্রলীগ নেতার  ফোন কলের সুপারিশে হয়েছে  তিনি নিজেই গর্ব করে জানান।

মামদুদুর রহমান বলেন, সার্কুলারের মাধ্যমে আমার চাকরি হয়েছে । আমার বাবা তখন আওয়ামী লীগ করতো। আমার চাকরির জন্য তৎকালীন উপাচার্য লুৎফর রহমান উপাচার্য মাহমুদ হাসান রিপনসহ চারজন ছাত্রলীগ নেতা ফোন দিয়েছিল।
আর দাপ্তরিকভাবে অফিস ফাঁকি দেওয়ার কোন নোটিশ পাইনি আমি।

জানা যায়,  মামদুদুর রহমানের পিতা বদরুল উলা লাবিব  গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাক এবং গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। আওয়ামী আমলে গাইবান্ধা  জেলা জজ কোর্টের এপিপি’র দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের  স্বাধীনতা পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং স্বাধীনতা পরিষেদের সদস্য হিসেবে অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশেনের  নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়য়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত পূরন না করেই নিয়োগ পেয়েছেন উপ গ্রন্থাগারিক মামদুদুর রহমান। তার নিয়োগের অভিজ্ঞতার কপি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। যেখানে বিজ্ঞপ্তির পদের ৩নং  শর্তে দেখা যায়,  লাইব্রেরি সায়েন্সে দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক সম্মানসহ দ্বিতীয় শ্রেণির মাস্টার্স ডিগ্রি ও সরকারি,বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে অনূন্য ৫ বছরের অভিজ্ঞতা এবং কম্পিউটার পরিচালনায় বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।কিন্তু আবেদনের শেষ তারিখ ২০মে ২০০৯ তারিখে তার অভিজ্ঞতা ছিল ৪  বছর ৪ মাস ৩ দিন। তিনি উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ডকুমেন্টেশন অফিসার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন ১৭জানুয়ারি ২০০৫। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রয়োজনীয় শর্ত পূরন না করেই তিনি ১২আগস্ট ২০০৯ সেন্ট্রাল লাইব্রেরি এন্ড ইনফরমেশন সেন্টারে সহকারী গ্রন্থাগারিক হিসেবে নিয়োগ পান।

তিনি ২ জুলাই ২০১৭, উপগ্রন্থাগারিক হিসেবে পদোন্নতি পান এবং ২৬ জুলাই ২০১৯ , ২ বছরের ব্যবধানে তথ্য গোপন করে অতিরিক্ত গ্রন্থাগারিক পদে পদোন্নতির চেষ্ঠা করেন, কিন্তু বাছাই বোর্ডের নিকট যোগ্য  বিবেচিত না হওয়ায় পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়নি যা সিন্ডিকেটের ৬৩তম সভার সিদ্ধান্ত-১২ তে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার সূত্রে জানা যায়,মামদুদুর রহমান নিয়মিত অফিস করেন না করে প্রায় সময় ঢাকায় থাকেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামদুদুর রহমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে সুবিধা লাভের জন্য আওয়ামী বিরোধী ভূমিকায় নেমেছেন বলে জানা যায়। তিনি প্রত্যেক উপাচার্যের মেয়াদের প্রথম ২ বছর ভিসির পক্ষে থাকেন  এবং শেষ ২ বছর ভিসি বিরোধীদের সঙ্গে যোগ দেন।

এ বিষয়ে গ্রন্থাগারিক ড:মো: মনিরুজ্জামান বলেন, উনার অবৈধ নিয়োগের বিষয়ে পত্রিকা থেকে আমি জেনেছি। আর সাবেক উপাচার্যের  সময় তার অফিস ফাঁকি দিয়ে ঢাকায় থাকার বিষয়টি শুনেছিলাম। তবে বর্তমান অফিস কন্টিনিউ করেন তিনি।

রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আগের উপাচার্যের সময়ের কথা তো আমার জানা নেই । এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানাইতে হবে।