০১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাকা-বেইজিং-ইসলামাবাদ গতিবিধিতে দিল্লির উদ্বেগ

কুনমিংয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক
  • ‘জোট’ গঠনের বিষয়টি নাকচ করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
  • বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত ভারত : জয়সওয়াল
  • নিজেদের ‘স্বার্থ অনুযায়ী’ নতুন গঙ্গা চুক্তি চায় ভারত
  • ভারতে আতঙ্কে বাঙালি মুসলমানেরা : বার্তা সংস্থা এএফপি
  • গঙ্গা চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশের সমঝোতার ভিত্তিতে এগোতে হবে, না হলে হিস্যা আদায় করা কঠিন হবে। বাংলাদেশকে আঞ্চলিক শক্তি ও পরাশক্তি দুইটারই সমাঞ্জস্য রেখে চলতে হয়। সেক্ষেত্রে ঢাকা সবকিছু হিসেব করেই নিশ্চয় কুনমিং বৈঠক নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে। 
  • সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ 

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ত্রিপক্ষীয় জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও চীন। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সংকটগুলো মোকাবিলার পাশাপাশি এই অঞ্চলের সম্ভাবনাগুলোকে কার্যকর সাফল্যে রূপ দিতে কাজ করবে এই জোট। তবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন জোট গঠনের ধারণা নাকচ করে বলেছেন, তিন দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক বৈঠকটি রাজনৈতিক প্রকৃতির নয় বরং একটি অনানুষ্ঠানিক সরকারি পর্যায়ের আলোচনা ছিল। এরপর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান ও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঢাকার ‘ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের’ প্রশ্নে নয়াদিল্লি জানায়, আশপাশে কী ঘটছে, সেদিকে তাদের ‘নিবিড় নজর’ রয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৯ জুন চীনের কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত চীন-দক্ষিণ এশিয়া ফোরামের ষষ্ঠ আসরে বাংলাদেশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রুহুল আলম সিদ্দিকী, চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান ওয়েইদং এবং পাকিস্তানের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিষয়ক অতিরিক্ত সচিব ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী অংশ নেন। বৈঠকে তিনপক্ষ নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন আরও দৃঢ় করার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি তারা উল্লেখ করেছে, এই জোট তৃতীয় কোনো দেশ বা পক্ষের বিরুদ্ধে নয়। এই জোট নিজেদের আরও সমৃদ্ধ এবং এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে।
বৈঠকের পর তিনপক্ষ পৃথকভাবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এর মধ্যে বেইজিং ও ইসলামাবাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ইস্যু করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তির অনেক অমিল রয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে প্রতিটি পক্ষ আলাদা দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টিকে মূল্যায়ন করছে এবং তাদের মধ্যে বৈঠকের ফলাফল নিয়েও বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। ২০ জুন ইসলামাবাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির হেডিংয়ে বলা হয়েছে ‘বাংলাদেশ-চীন-পাকিস্তান ত্রিপক্ষীয় মেকানিজমের উদ্বোধনী সভা।’ পরে একটি জায়গায় বলা হয়েছে ‘বৈঠকে গৃহীত সমঝোতা বাস্তবায়নের জন্য একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনেও তিন পক্ষ সম্মত হয়েছে।’ একই দিন প্রকাশিত চীনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বৈঠকে গৃহীত সমঝোতাগুলো অনুসরণ এবং বাস্তবায়নের জন্য তিন পক্ষ একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করবে। তিন পক্ষ জোর দিয়ে বলেছে, চীন-বাংলাদেশ-পাকিস্তান সহযোগিতা প্রকৃত বহুপাক্ষিকতা এবং উন্মুক্ত আঞ্চলিকতা মেনে চলে, কোনো তৃতীয় পক্ষের দিকে নির্দেশিত নয়।’ কিন্তু ২১ জুন রাত সাড়ে ১০টায় জারি করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয় বৈঠকটি সম্পূর্ণভাবে অনানুষ্ঠানিক। গোটা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ‘ত্রিপক্ষীয় মেকানিজমের উদ্বোধনী সভা’ বা ‘যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন’ নিয়ে কোনো তথ্য ছিল না।
তিনটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়- বাংলাদেশের দাবি করা ‘অনানুষ্ঠানিক’ বৈঠকে ইসলামাবাদ ও বেইজিং ‘যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনেও তিনপক্ষ সম্মত হয়েছে’ বলে দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, বহুপাক্ষিক একটি মূল অনুষ্ঠানের সাইডলাইনে বৈঠকটি সম্পূর্ণ অনানুষ্ঠানিকভাবে হয়েছে এবং সেটি আমাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বৈঠকে কী কী সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সেটিও উল্লেখ করা হয়েছে। ত্রিপক্ষীয় মেকানিজম বা যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে ঐকমত্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে কোনো বৈঠকে সহযোগিতার প্রস্তাব করা হবে সেটিই স্বাভাবিক। কিন্তু তার মানে এই নয় অন্য পক্ষগুলো বিষয়টি মেনে নিয়েছে। এটিতে সম্মত হলে তা বাংলাদেশের সংবাদ বিজ্ঞপিতে উল্লেখ থাকতো।
এ ধরনের একটি বৈঠক নিয়ে ভিন্ন ধরনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি কেন জানতে চাইলে সাবেক একজন কূটনীতিক বলেন, বৈঠকের উদ্দেশ্য ও ফলাফল নিয়ে পক্ষগুলোর মধ্যে পৃথক আকাক্সক্ষা থাকলে এ ধরনের মতদ্বৈধতা হতে পারে। বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে তা বাংলাদেশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নেই। আবার চীন ও পাকিস্তানের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়ে বলা হয়েছে। তিনপক্ষ যদি সম্মতই হবে তাহলে যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারতো, যেটি এখানে হয়নি বলে তিনি ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে বৈঠকে কী কী আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়েছে- তার চেয়ে বৈঠকটি যে হয়েছে এই বিষয়টি সবাইকে জানানোই বেশি জরুরি মনে হচ্ছে।
সবশেষ বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো জোট গঠনের ধারণা নাকচ করে বলেছেন, তিন দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক বৈঠকটি রাজনৈতিক প্রকৃতির নয় বরং একটি অনানুষ্ঠানিক সরকারি পর্যায়ের আলোচনা ছিল। আমরা কোনো জোট গঠন করছি না। এটি সরকারি পর্যায়ের একটি বৈঠক ছিল, রাজনৈতিক পর্যায়ের নয় যেখানে কোনো জোট গঠনের কোনো বিষয় ছিল না। ভারতকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে এই বৈঠক করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে হোসেন বলেন, এটি অবশ্যই কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে অনুষ্ঠিত হয়নি। আমি আপনাদেরক তা আশ্বস্ত করতে পারি।
এদিকে ‘সুবিধাজনক’ পরিবেশে বাংলাদেশের সঙ্গে সব বিষয় আলোচনা করতে প্রস্তুত জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সব বিষয় সমাধানের জন্য ইতোমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত নানা পদ্ধতি রয়েছে। ভারত সরকারের স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকের আগে জয়সওয়ালের এমন মন্তব্য এলো। ওই বৈঠকে সাবেক কূটনীতিক ও বিশেষজ্ঞরা ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ নিয়ে আলোচনা করবেন।
১৯ জুন পাকিস্তান ও চীনসহ ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সম্পর্কে জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন, ভারত তার স্বার্থ ও নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন আঞ্চলিক ঘটনাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি আরও বলেন, ভারতের সম্পর্ক অন্য দেশের সঙ্গে স্বাধীন হলেও তা আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে প্রভাবিত হয়। আগামীকাল নির্ধারিত বৈঠকে চারজন বিশেষজ্ঞ সংসদ সদস্যদের সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর ব্রিফিং দেবেন। এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড, ধর্মীয় উগ্রবাদ, ভারতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এবং বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত যোগাযোগ। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, তারা সংসদ সদস্যদের বলবেন কী ভাবে বাংলাদেশে এই ভুল ধারণা কাটিয়ে ওঠা যায় যে, ভারত শুধু শেখ হাসিনার অপসারিত সরকারের পাশে ছিল, সাধারণ মানুষের সঙ্গে নয়। তাদের মধ্যে মেনন নামের একজন বিশেষজ্ঞও আছেন, যিনি ২০১৫ সালে মোদী ও শেখ হাসিনার সময় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন এবং ভারত-বাংলাদেশের স্থলসীমা চুক্তি করেন। কমিটি সংসদ সদস্যদের পরামর্শ দিতে পারে, যেন তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশের নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য কাজ করেন এবং ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের শান্তি বজায় রাখেন।
এছাড়াও আগামী বছর ভারতের সঙ্গে শেষ হচ্ছে বাংলাদেশের গঙ্গা নদীর পানিবণ্টন বিষয়ক গঙ্গা চুক্তি। এরপর বাংলাদেশের সঙ্গে নিজেদের ‘স্বার্থ অনুযায়ী’ নতুন চুক্তির ব্যাপারে ভাবছে নয়াদিল্লি। গত বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস। তারা বলেছে, পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু নদ পানি চুক্তি বাতিলের পর বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান গঙ্গা চুক্তির একাধিক বিকল্প অথবা এটিতে সংযোজন-বিয়োজনের ব্যাপারে ভাবছে দিল্লি।
গঙ্গার পানি বণ্টন বিষয়ক চুক্তিটির মেয়াদ ২০২৬ সালে শেষ হবে। ৩০ বছর আগে ১৯৯৬ সালে এই চুক্তিটি কার্যকর হয়েছিল। এখন নতুন করে চুক্তির বিষয়টি সামনে আসছে। যেখানে নতুন চুক্তির ক্ষেত্রে পারস্পরিক সমঝোতার প্রয়োজন। সেখানে ভারত সম্পূর্ণ নতুন একটি চুক্তি নিয়ে ভাবছে যেখানে তাদের ‘বর্তমান উন্নয়নমূলক বিষয়াবলীর’ বিষয়টি থাকবে। সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ভারতের সঙ্গে গঙ্গা নদীর পানি বণ্টনের একটি কাঠামো তৈরি করেছিলেন। এতে বলা হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা বাঁধে, প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে। মূলত ফারাক্কায় পানি বণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছিল সেটি নিরসনে এ চুক্তিটি হয়।
এদিকে বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রবাদের অভিযোগ তোলা হলেও ভারতে মুসলিমদের বিতাড়ন নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এএফপি। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত বিনা বিচারে শত শত মানুষকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। আর এই বিষয়টি দুই দেশের কর্মকর্তারাও নিশ্চিত করেছেন। মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবীরা বলছেন, এই নির্বাসন বা বিতাড়ন প্রক্রিয়াটি বেআইনি এবং জাতিগত পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে চালানো হয়েছে। ভারতের দাবি, যাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে তারা ‘অবৈধ অভিবাসী’। কিন্তু মানবাধিকারকর্মীদের ভাষ্য, এই প্রক্রিয়া বেআইনি এবং ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত।
বার্তাসংস্থাটি বলছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকার দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসন, বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশ থেকে আসা অভিবাসীদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। শীর্ষ কর্মকর্তারা অতীতে এসব অভিবাসীদের ‘উইপোকা’ বা ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এতে ভারতের প্রায় ২০ কোটির মতো মুসলমান, বিশেষ করে বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ভারতের বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী হর্ষ মন্দার বলেন, বিশেষ করে দেশের (ভারতের) পূর্বাঞ্চলের মুসলমানদের মধ্যে ভীষণ ভয় ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। যেন তাদের অস্তিত্বই এখন হুমকির মুখে।
সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ- ভারত অঙ্গাঅঙ্গিভাবে নির্ভরশীল একে অপরের উপর। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কটা অম্ল-মধুর। কখনও মধুর, কখনও অম্ল। এখন অম্ল। গঙ্গা চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশের সমঝোতার ভিত্তিতে এগোতে হবে, না হলে হিস্যা আদায় করা কঠিন হবে। কুমনিংয়ের বৈঠকটি সচিব পর্যায়ে হয়েছে। যেহেতু পরারষ্ট্র উপদেষ্টা জোট গঠনের বিসয়টি নাকচ করছেন তাহলে এটায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশকে আঞ্চলিক শক্তি ও পরাশক্তি দুইটারই সমাঞ্জস্য রেখে চলতে হয়। সেক্ষেত্রে ঢাকা সবকিছু হিসেব করেই নিশ্চয় কুনমিং বৈঠক নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে।

 

ঢাকা-বেইজিং-ইসলামাবাদ গতিবিধিতে দিল্লির উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০৭:২৫:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫
  • ‘জোট’ গঠনের বিষয়টি নাকচ করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
  • বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত ভারত : জয়সওয়াল
  • নিজেদের ‘স্বার্থ অনুযায়ী’ নতুন গঙ্গা চুক্তি চায় ভারত
  • ভারতে আতঙ্কে বাঙালি মুসলমানেরা : বার্তা সংস্থা এএফপি
  • গঙ্গা চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশের সমঝোতার ভিত্তিতে এগোতে হবে, না হলে হিস্যা আদায় করা কঠিন হবে। বাংলাদেশকে আঞ্চলিক শক্তি ও পরাশক্তি দুইটারই সমাঞ্জস্য রেখে চলতে হয়। সেক্ষেত্রে ঢাকা সবকিছু হিসেব করেই নিশ্চয় কুনমিং বৈঠক নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে। 
  • সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ 

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ত্রিপক্ষীয় জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও চীন। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সংকটগুলো মোকাবিলার পাশাপাশি এই অঞ্চলের সম্ভাবনাগুলোকে কার্যকর সাফল্যে রূপ দিতে কাজ করবে এই জোট। তবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন জোট গঠনের ধারণা নাকচ করে বলেছেন, তিন দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক বৈঠকটি রাজনৈতিক প্রকৃতির নয় বরং একটি অনানুষ্ঠানিক সরকারি পর্যায়ের আলোচনা ছিল। এরপর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান ও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঢাকার ‘ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের’ প্রশ্নে নয়াদিল্লি জানায়, আশপাশে কী ঘটছে, সেদিকে তাদের ‘নিবিড় নজর’ রয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৯ জুন চীনের কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত চীন-দক্ষিণ এশিয়া ফোরামের ষষ্ঠ আসরে বাংলাদেশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রুহুল আলম সিদ্দিকী, চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান ওয়েইদং এবং পাকিস্তানের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিষয়ক অতিরিক্ত সচিব ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী অংশ নেন। বৈঠকে তিনপক্ষ নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন আরও দৃঢ় করার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি তারা উল্লেখ করেছে, এই জোট তৃতীয় কোনো দেশ বা পক্ষের বিরুদ্ধে নয়। এই জোট নিজেদের আরও সমৃদ্ধ এবং এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে।
বৈঠকের পর তিনপক্ষ পৃথকভাবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এর মধ্যে বেইজিং ও ইসলামাবাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ইস্যু করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তির অনেক অমিল রয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে প্রতিটি পক্ষ আলাদা দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টিকে মূল্যায়ন করছে এবং তাদের মধ্যে বৈঠকের ফলাফল নিয়েও বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। ২০ জুন ইসলামাবাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির হেডিংয়ে বলা হয়েছে ‘বাংলাদেশ-চীন-পাকিস্তান ত্রিপক্ষীয় মেকানিজমের উদ্বোধনী সভা।’ পরে একটি জায়গায় বলা হয়েছে ‘বৈঠকে গৃহীত সমঝোতা বাস্তবায়নের জন্য একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনেও তিন পক্ষ সম্মত হয়েছে।’ একই দিন প্রকাশিত চীনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বৈঠকে গৃহীত সমঝোতাগুলো অনুসরণ এবং বাস্তবায়নের জন্য তিন পক্ষ একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করবে। তিন পক্ষ জোর দিয়ে বলেছে, চীন-বাংলাদেশ-পাকিস্তান সহযোগিতা প্রকৃত বহুপাক্ষিকতা এবং উন্মুক্ত আঞ্চলিকতা মেনে চলে, কোনো তৃতীয় পক্ষের দিকে নির্দেশিত নয়।’ কিন্তু ২১ জুন রাত সাড়ে ১০টায় জারি করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয় বৈঠকটি সম্পূর্ণভাবে অনানুষ্ঠানিক। গোটা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ‘ত্রিপক্ষীয় মেকানিজমের উদ্বোধনী সভা’ বা ‘যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন’ নিয়ে কোনো তথ্য ছিল না।
তিনটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়- বাংলাদেশের দাবি করা ‘অনানুষ্ঠানিক’ বৈঠকে ইসলামাবাদ ও বেইজিং ‘যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনেও তিনপক্ষ সম্মত হয়েছে’ বলে দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, বহুপাক্ষিক একটি মূল অনুষ্ঠানের সাইডলাইনে বৈঠকটি সম্পূর্ণ অনানুষ্ঠানিকভাবে হয়েছে এবং সেটি আমাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বৈঠকে কী কী সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সেটিও উল্লেখ করা হয়েছে। ত্রিপক্ষীয় মেকানিজম বা যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে ঐকমত্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে কোনো বৈঠকে সহযোগিতার প্রস্তাব করা হবে সেটিই স্বাভাবিক। কিন্তু তার মানে এই নয় অন্য পক্ষগুলো বিষয়টি মেনে নিয়েছে। এটিতে সম্মত হলে তা বাংলাদেশের সংবাদ বিজ্ঞপিতে উল্লেখ থাকতো।
এ ধরনের একটি বৈঠক নিয়ে ভিন্ন ধরনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি কেন জানতে চাইলে সাবেক একজন কূটনীতিক বলেন, বৈঠকের উদ্দেশ্য ও ফলাফল নিয়ে পক্ষগুলোর মধ্যে পৃথক আকাক্সক্ষা থাকলে এ ধরনের মতদ্বৈধতা হতে পারে। বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে তা বাংলাদেশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নেই। আবার চীন ও পাকিস্তানের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়ে বলা হয়েছে। তিনপক্ষ যদি সম্মতই হবে তাহলে যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারতো, যেটি এখানে হয়নি বলে তিনি ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে বৈঠকে কী কী আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়েছে- তার চেয়ে বৈঠকটি যে হয়েছে এই বিষয়টি সবাইকে জানানোই বেশি জরুরি মনে হচ্ছে।
সবশেষ বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো জোট গঠনের ধারণা নাকচ করে বলেছেন, তিন দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক বৈঠকটি রাজনৈতিক প্রকৃতির নয় বরং একটি অনানুষ্ঠানিক সরকারি পর্যায়ের আলোচনা ছিল। আমরা কোনো জোট গঠন করছি না। এটি সরকারি পর্যায়ের একটি বৈঠক ছিল, রাজনৈতিক পর্যায়ের নয় যেখানে কোনো জোট গঠনের কোনো বিষয় ছিল না। ভারতকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে এই বৈঠক করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে হোসেন বলেন, এটি অবশ্যই কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে অনুষ্ঠিত হয়নি। আমি আপনাদেরক তা আশ্বস্ত করতে পারি।
এদিকে ‘সুবিধাজনক’ পরিবেশে বাংলাদেশের সঙ্গে সব বিষয় আলোচনা করতে প্রস্তুত জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সব বিষয় সমাধানের জন্য ইতোমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত নানা পদ্ধতি রয়েছে। ভারত সরকারের স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকের আগে জয়সওয়ালের এমন মন্তব্য এলো। ওই বৈঠকে সাবেক কূটনীতিক ও বিশেষজ্ঞরা ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ নিয়ে আলোচনা করবেন।
১৯ জুন পাকিস্তান ও চীনসহ ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সম্পর্কে জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন, ভারত তার স্বার্থ ও নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন আঞ্চলিক ঘটনাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি আরও বলেন, ভারতের সম্পর্ক অন্য দেশের সঙ্গে স্বাধীন হলেও তা আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে প্রভাবিত হয়। আগামীকাল নির্ধারিত বৈঠকে চারজন বিশেষজ্ঞ সংসদ সদস্যদের সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর ব্রিফিং দেবেন। এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড, ধর্মীয় উগ্রবাদ, ভারতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এবং বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত যোগাযোগ। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, তারা সংসদ সদস্যদের বলবেন কী ভাবে বাংলাদেশে এই ভুল ধারণা কাটিয়ে ওঠা যায় যে, ভারত শুধু শেখ হাসিনার অপসারিত সরকারের পাশে ছিল, সাধারণ মানুষের সঙ্গে নয়। তাদের মধ্যে মেনন নামের একজন বিশেষজ্ঞও আছেন, যিনি ২০১৫ সালে মোদী ও শেখ হাসিনার সময় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন এবং ভারত-বাংলাদেশের স্থলসীমা চুক্তি করেন। কমিটি সংসদ সদস্যদের পরামর্শ দিতে পারে, যেন তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশের নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য কাজ করেন এবং ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের শান্তি বজায় রাখেন।
এছাড়াও আগামী বছর ভারতের সঙ্গে শেষ হচ্ছে বাংলাদেশের গঙ্গা নদীর পানিবণ্টন বিষয়ক গঙ্গা চুক্তি। এরপর বাংলাদেশের সঙ্গে নিজেদের ‘স্বার্থ অনুযায়ী’ নতুন চুক্তির ব্যাপারে ভাবছে নয়াদিল্লি। গত বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস। তারা বলেছে, পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু নদ পানি চুক্তি বাতিলের পর বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান গঙ্গা চুক্তির একাধিক বিকল্প অথবা এটিতে সংযোজন-বিয়োজনের ব্যাপারে ভাবছে দিল্লি।
গঙ্গার পানি বণ্টন বিষয়ক চুক্তিটির মেয়াদ ২০২৬ সালে শেষ হবে। ৩০ বছর আগে ১৯৯৬ সালে এই চুক্তিটি কার্যকর হয়েছিল। এখন নতুন করে চুক্তির বিষয়টি সামনে আসছে। যেখানে নতুন চুক্তির ক্ষেত্রে পারস্পরিক সমঝোতার প্রয়োজন। সেখানে ভারত সম্পূর্ণ নতুন একটি চুক্তি নিয়ে ভাবছে যেখানে তাদের ‘বর্তমান উন্নয়নমূলক বিষয়াবলীর’ বিষয়টি থাকবে। সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ভারতের সঙ্গে গঙ্গা নদীর পানি বণ্টনের একটি কাঠামো তৈরি করেছিলেন। এতে বলা হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা বাঁধে, প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে। মূলত ফারাক্কায় পানি বণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছিল সেটি নিরসনে এ চুক্তিটি হয়।
এদিকে বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রবাদের অভিযোগ তোলা হলেও ভারতে মুসলিমদের বিতাড়ন নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এএফপি। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত বিনা বিচারে শত শত মানুষকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। আর এই বিষয়টি দুই দেশের কর্মকর্তারাও নিশ্চিত করেছেন। মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবীরা বলছেন, এই নির্বাসন বা বিতাড়ন প্রক্রিয়াটি বেআইনি এবং জাতিগত পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে চালানো হয়েছে। ভারতের দাবি, যাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে তারা ‘অবৈধ অভিবাসী’। কিন্তু মানবাধিকারকর্মীদের ভাষ্য, এই প্রক্রিয়া বেআইনি এবং ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত।
বার্তাসংস্থাটি বলছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকার দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসন, বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশ থেকে আসা অভিবাসীদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। শীর্ষ কর্মকর্তারা অতীতে এসব অভিবাসীদের ‘উইপোকা’ বা ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এতে ভারতের প্রায় ২০ কোটির মতো মুসলমান, বিশেষ করে বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ভারতের বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী হর্ষ মন্দার বলেন, বিশেষ করে দেশের (ভারতের) পূর্বাঞ্চলের মুসলমানদের মধ্যে ভীষণ ভয় ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। যেন তাদের অস্তিত্বই এখন হুমকির মুখে।
সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ- ভারত অঙ্গাঅঙ্গিভাবে নির্ভরশীল একে অপরের উপর। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কটা অম্ল-মধুর। কখনও মধুর, কখনও অম্ল। এখন অম্ল। গঙ্গা চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশের সমঝোতার ভিত্তিতে এগোতে হবে, না হলে হিস্যা আদায় করা কঠিন হবে। কুমনিংয়ের বৈঠকটি সচিব পর্যায়ে হয়েছে। যেহেতু পরারষ্ট্র উপদেষ্টা জোট গঠনের বিসয়টি নাকচ করছেন তাহলে এটায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশকে আঞ্চলিক শক্তি ও পরাশক্তি দুইটারই সমাঞ্জস্য রেখে চলতে হয়। সেক্ষেত্রে ঢাকা সবকিছু হিসেব করেই নিশ্চয় কুনমিং বৈঠক নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে।