০২:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
কফি খেতেই নেই ৫ উইকেট : তাসকিন

ব্যাটসম্যানদের সমস্যা মানসিকতায় : বুলবুল

৫ রানেই নেই ৭ উইকেট!

প্রথম ওয়ানডেতে শুরুটা খারাপ ছিল না বাংলাদেশের। দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও তানজিম হাসান সাকিবের তোপে আড়াইশোর আগেই স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে গুটিয়ে দিয়েছিল সফরকারীরা। জবাবে ব্যাট হাতেও দারুণ শুরু পায় বাংলাদেশ। এক উইকেট হারিয়ে দলীয় শতক স্পর্শ করেছিল বাংলাদেশ। এমন শুরুর পর হঠাৎ ছন্দ পতন ঘটে। এক উইকেটে ১০০ রান থেকে ১০৫ এ যেতেই সাজঘরে ফেরেন আরও ছয় ব্যাটসম্যান। অর্থাৎ, ৫ রান যোগ করতে গিয়ে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৩৫ ওভার ৫ বলে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৬৭ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ। ৭৭ রানের জয়ে সিরিজে ১-০তে এগিয়ে আছে শ্রীলঙ্কা। দলের এমন ব্যাটিং ধস নিয়ে তুমুল সমালোচনা হচ্ছে। ব্যাটম্যানদের দায়িত্বহীনভাবে ব্যাটিং করাকে অনেকে কাঠগড়ায় তুলছেন। দলের এমন দুর্দশা অবস্থা নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সেখানে স্পষ্ট করে জানালেন ব্যাটসম্যানদের মানসিকতার কথা। বুলবুল বলেন, ‘একটা পর্যায়ে তো মনে হচ্ছিল খুব সুন্দরভাবে আমরা রান তাড়া করব। যখন শান্ত রান আউট হয়ে গেল, তারপর আমার মনে হচ্ছিল এই উইকেটে সেট হয়ে আউট হওয়াটা দলের জন্য অনেক বড় অসুবিধা। নতুন ব্যাটসম্যানদের জন্য এখানে সেট হয়ে রান তাড়া করা কঠিন। তবে এই উইকেটে ব্যাটসম্যানদের যে মানসিকতা নিয়ে ব্যাটিং করা উচিত ছিল, আমার মনে হয় সেটা নিয়েও কাজ করা উচিত।’
ম্যাচ পরবর্তী উপস্থাপনায় হারের কারণ হিসেবে মিডলঅর্ডারদের দুষছেন স্থায়ী অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি বলেন, ‘প্রথম ৮০ ওভারে আমরা খুব ভালো খেলেছি। নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিম দারুণ ব্যাট করেছে। কিন্তু মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানরা ভালো খেলতে পারেনি। টানা উইকেট হারানোই আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়েছে।’ টস গুরুত্বপূর্ণ ছিল কি না-এই প্রশ্নে মিরাজ বলেন, ‘অবশ্যই। উইকেট খুব ভালো ছিল, আমরা দারুণ বল করেছি, বিশেষ করে ফাস্ট বোলাররা, শুরুতেই উইকেট তুলে নিয়েছে। তবে মাঝের ওভারগুলোতে আমরা উইকেট পাইনি। আসালাঙ্কার যেভাবে খেলেছে, তাকে কৃতিত্ব দিতেই হবে, অসাধারণ ইনিংস ছিল। যদি মাঝের ওভারগুলোতে আমরা উইকেট পেতাম, তাহলে ম্যাচে ফিরতে পারতাম। আবহাওয়াটা খুবই গরম।’

মোস্তাফিজুর রহমান ও তানভীর ইসলামের ইনজুরি নিয়ে বলেন, ‘আমাদের দুইজন গুরুত্বপূর্ণ বোলার, মোস্তাফিজ এবং তানভীর ক্র্যাম্পে ভুগেছে।’ হতাশা লুকাতে পারেননি ডানহাতি পেসার তাসকিন আহমেদও। হঠাৎ ঘটে যাওয়া ব্যাটিং বিপর্যয়ে তিনি নিজেও যেন কিংকর্তব্যবিমূঢ়। বলেন, ‘অবশ্যই আমরা এমন কিছু আশা করিনি। আমরা খুব ফুরফুরে মেজাজে ছিলাম, কফি খাচ্ছিলাম, চিল করছিলাম। কিন্তু মুহূর্তেই দেখি পাঁচ উইকেট পড়ে গেছে।’ তবে তারপরও আশাবাদী তাসকিন। সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ঝরেছে তার কণ্ঠে, ‘আমি জানি সমর্থকরা চায় আমরা ভালো করি। আমরাও চাই ভালোই করতে। এমন ফলাফলের পর কেউই হোটেলে ফিরে শান্তিতে ঘুমাতে পারবে না। খারাপ লাগবেই। আমরা চেষ্টা করছি। ’ সমর্থকদের কাছে দুঃখ প্রকাশও করেন তিনি, ‘সমর্থকদের সরি বলছি, সহজ ম্যাচটা দুর্ভাগ্যজনকভাবে হেরে গেছি। আমরা সব সমস্যা দ্রুত কাটিয়ে উঠব। আমরা ভালো জয় উপহার দেব। স্বপ্ন দেখা ছাড়া তো সামনে এগোনো যায় না। আমরা কষ্ট করছি। আপনারা জানেন, আমরা কেমন দল। আমরা যেভাবে উইকেট হারিয়েছি, আমরা এতটাও বাজে দল না। আমাদের সবারই ভালো খেলার সামর্থ্য আছে।’

কফি খেতেই নেই ৫ উইকেট : তাসকিন

ব্যাটসম্যানদের সমস্যা মানসিকতায় : বুলবুল

আপডেট সময় : ১২:৩১:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫

প্রথম ওয়ানডেতে শুরুটা খারাপ ছিল না বাংলাদেশের। দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও তানজিম হাসান সাকিবের তোপে আড়াইশোর আগেই স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে গুটিয়ে দিয়েছিল সফরকারীরা। জবাবে ব্যাট হাতেও দারুণ শুরু পায় বাংলাদেশ। এক উইকেট হারিয়ে দলীয় শতক স্পর্শ করেছিল বাংলাদেশ। এমন শুরুর পর হঠাৎ ছন্দ পতন ঘটে। এক উইকেটে ১০০ রান থেকে ১০৫ এ যেতেই সাজঘরে ফেরেন আরও ছয় ব্যাটসম্যান। অর্থাৎ, ৫ রান যোগ করতে গিয়ে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৩৫ ওভার ৫ বলে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৬৭ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ। ৭৭ রানের জয়ে সিরিজে ১-০তে এগিয়ে আছে শ্রীলঙ্কা। দলের এমন ব্যাটিং ধস নিয়ে তুমুল সমালোচনা হচ্ছে। ব্যাটম্যানদের দায়িত্বহীনভাবে ব্যাটিং করাকে অনেকে কাঠগড়ায় তুলছেন। দলের এমন দুর্দশা অবস্থা নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সেখানে স্পষ্ট করে জানালেন ব্যাটসম্যানদের মানসিকতার কথা। বুলবুল বলেন, ‘একটা পর্যায়ে তো মনে হচ্ছিল খুব সুন্দরভাবে আমরা রান তাড়া করব। যখন শান্ত রান আউট হয়ে গেল, তারপর আমার মনে হচ্ছিল এই উইকেটে সেট হয়ে আউট হওয়াটা দলের জন্য অনেক বড় অসুবিধা। নতুন ব্যাটসম্যানদের জন্য এখানে সেট হয়ে রান তাড়া করা কঠিন। তবে এই উইকেটে ব্যাটসম্যানদের যে মানসিকতা নিয়ে ব্যাটিং করা উচিত ছিল, আমার মনে হয় সেটা নিয়েও কাজ করা উচিত।’
ম্যাচ পরবর্তী উপস্থাপনায় হারের কারণ হিসেবে মিডলঅর্ডারদের দুষছেন স্থায়ী অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি বলেন, ‘প্রথম ৮০ ওভারে আমরা খুব ভালো খেলেছি। নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিম দারুণ ব্যাট করেছে। কিন্তু মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানরা ভালো খেলতে পারেনি। টানা উইকেট হারানোই আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়েছে।’ টস গুরুত্বপূর্ণ ছিল কি না-এই প্রশ্নে মিরাজ বলেন, ‘অবশ্যই। উইকেট খুব ভালো ছিল, আমরা দারুণ বল করেছি, বিশেষ করে ফাস্ট বোলাররা, শুরুতেই উইকেট তুলে নিয়েছে। তবে মাঝের ওভারগুলোতে আমরা উইকেট পাইনি। আসালাঙ্কার যেভাবে খেলেছে, তাকে কৃতিত্ব দিতেই হবে, অসাধারণ ইনিংস ছিল। যদি মাঝের ওভারগুলোতে আমরা উইকেট পেতাম, তাহলে ম্যাচে ফিরতে পারতাম। আবহাওয়াটা খুবই গরম।’

মোস্তাফিজুর রহমান ও তানভীর ইসলামের ইনজুরি নিয়ে বলেন, ‘আমাদের দুইজন গুরুত্বপূর্ণ বোলার, মোস্তাফিজ এবং তানভীর ক্র্যাম্পে ভুগেছে।’ হতাশা লুকাতে পারেননি ডানহাতি পেসার তাসকিন আহমেদও। হঠাৎ ঘটে যাওয়া ব্যাটিং বিপর্যয়ে তিনি নিজেও যেন কিংকর্তব্যবিমূঢ়। বলেন, ‘অবশ্যই আমরা এমন কিছু আশা করিনি। আমরা খুব ফুরফুরে মেজাজে ছিলাম, কফি খাচ্ছিলাম, চিল করছিলাম। কিন্তু মুহূর্তেই দেখি পাঁচ উইকেট পড়ে গেছে।’ তবে তারপরও আশাবাদী তাসকিন। সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ঝরেছে তার কণ্ঠে, ‘আমি জানি সমর্থকরা চায় আমরা ভালো করি। আমরাও চাই ভালোই করতে। এমন ফলাফলের পর কেউই হোটেলে ফিরে শান্তিতে ঘুমাতে পারবে না। খারাপ লাগবেই। আমরা চেষ্টা করছি। ’ সমর্থকদের কাছে দুঃখ প্রকাশও করেন তিনি, ‘সমর্থকদের সরি বলছি, সহজ ম্যাচটা দুর্ভাগ্যজনকভাবে হেরে গেছি। আমরা সব সমস্যা দ্রুত কাটিয়ে উঠব। আমরা ভালো জয় উপহার দেব। স্বপ্ন দেখা ছাড়া তো সামনে এগোনো যায় না। আমরা কষ্ট করছি। আপনারা জানেন, আমরা কেমন দল। আমরা যেভাবে উইকেট হারিয়েছি, আমরা এতটাও বাজে দল না। আমাদের সবারই ভালো খেলার সামর্থ্য আছে।’