★ জ্বলানি পরিবহনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন
★ শুক্রবার আসছে ইউরেনিয়াম
“সাধারণত একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর এক থেকে দেড় বছর পর কিছু ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি পরিবর্তন করতে হয়। প্রথম ইউনিটের সেই বাড়তি জ্বালানিই এখন বাংলাদেশে আসছে”
— ড. ফরহাদ কামাল, কনসালটেন্ট প্রধান, বাংলাদেশে রোসাটমের প্রেস
“যেই রুটে আসে, সেই রুটে অনুমতি না পেলে চীন হয়ে বিকল্প পথে আসতে পারে। যেই পথেই আসুক, আমরা প্রস্তুত আছি। নির্ধারিত পথে কোনো জটিলতা দেখা দিলে, চীন হয়ে বিকল্প রুট বেছে নেয়া হবে”
— ড. মাহমুদুল হাসান, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ
সকল জটিলতা কাটিয়ে উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ইতোমধ্যেই জ্বালানি পরিবহনে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম আগামীকাল শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকায় পৌঁছাবে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে দেয়া সূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারই (৮ অক্টোবর) এই জ্বালানি পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে প্রথম ইউনিটের অটোমেটিক চাপ প্রশমন ভালভের একটি পরীক্ষা দুই মাসের চেষ্টায় অবশেষে সফলভাবে শেষ হয়েছে। আর মাত্র একটি পরীক্ষা সম্পন্ন হলেই শুরু হবে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যাট ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময় পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে আসতে পারেনি বহুল প্রতীক্ষিত রূপপুরের প্রথম ইউনিটের বাড়তি ইউরেনিয়াম। ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে কয়েক দফা সময় পিছিয়ে শেষ পর্যন্ত তা ১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়। তবে সেই সূচিতেও কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এর আগে, গত গত ২৮ সেপ্টেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে রোসাটম জানায়, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানিও বাংলাদেশে পৌঁছে যাবে। কিন্তু পাকিস্তানের আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি না মেলায় তা পিছিয়ে যায়। এর ফলে বাংলাদেশের প্রস্তুতি সত্বেও সেটি আর আলোর মুখ দেখেনি। এদিকে দীর্ঘ দুই মাস ধরে টানা ব্যর্থতার পর অবশেষে অটোমেটিক প্রেশার ভালভের প্রথম ধাপের পরীক্ষা ১৬ মেগাপ্যাসকেলে সফল হয়েছে। এখন ১৮ মেগাপ্যাসকেলের পরীক্ষা হবে। এই পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরই প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
বাংলাদেশে রোসাটমের প্রেস কনসালটেন্ট প্রধান ড. ফরহাদ কামাল বলেন, রূপপুরের জ্বালানি আগামীকাল শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর নাগাদ ঢাকায় পৌঁছাতে পারে। সাধারণত একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর এক থেকে দেড় বছর পর কিছু ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি পরিবর্তন করতে হয়। প্রথম ইউনিটের সেই বাড়তি জ্বালানিই এখন বাংলাদেশে আসছে। ইতোমধ্যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর প্রকল্প এলাকায় জ্বালানি পরিবহনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাছান বলেন, প্রথম ইউনিটের জন্য ১২টিপিএস ইউরেনিয়াম নিয়ে ১ অক্টোবর রাশিয়া থেকে কার্গো উড়াল দেবার কথা। তবে কোন পথে কিভাবে আসবে, সেটা তাদের বিষয়, আমাদের না। আমরা প্রস্তুত আছি পারমাণবিক জ্বালানি ভালোভাবে ও নিরাপদে বুঝে নিতে।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাছান বলেন, কোনো কারণে প্রাইমারি সার্কিটে চাপ বেড়ে গেলে অটোমেটিকভাবে চাপ ছেড়ে দেবে এই ভালভগুলো। ভালভগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল। এর আগে কয়েকবার সমন্বয় করার পরও পরীক্ষায় সফলতা পাওয়া যায়নি। এবার সফলতা পাওয়া একটি বড় অর্জন। এর আগে সিস্টেমের জটিলতা কাটাতে নয়টি নিরাপত্তা ভালভ মেরামত করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড. মাহমুদুল হাসান বলেন, যেই রুটে আসে, সেই রুটে অনুমতি না পেলে চীন হয়ে বিকল্প পথে আসতে পারে। যেই পথেই আসুক, আমরা প্রস্তুত আছি। তবে কোন রুটে ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে আসবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। নির্ধারিত পথে আগের মতো কোনো জটিলতা দেখা দিলে, চীন হয়ে বিকল্প রুট বেছে নেয়া হবে।