নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নে উত্তরা কোল্ড স্টোরেজে আলু সংরক্ষণে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, নষ্ট আলুর ক্ষতিপূরণ না দেওয়া ও কৃষকদের হয়রানির অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) উত্তরা কোল্ড স্টোরেজের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে এলাকার শতাধিক কৃষক ও আলু ব্যবসায়ী অংশ নেন। এ সময় তারা কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন এবং দ্রুত সমাধানের দাবি জানান।
মানববন্ধনে কৃষকরা অভিযোগ করেন, সরকার আলু সংরক্ষণের জন্য প্রতি কেজি ৫ টাকা ৭৫ পয়সা হারে সংরক্ষণ ভাড়া নির্ধারণ করে দিলেও উত্তরা কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষ তা মানছে না। বরং প্রতি কেজি আলুর জন্য ৮ টাকা বা তারও বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।
কৃষকদের আরও অভিযোগ, কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করা আলু বের করার সময় বিপুল পরিমাণ আলু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু নষ্ট হওয়া আলুর দায়ভার বা কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ নিতে চাচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। এতে চাষিরা আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কৃষকরা বলেন, চলতি মৌসুমে আলু উৎপাদনে খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এর মধ্যে সংরক্ষণ খরচও যদি নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি নেওয়া হয়, তাহলে কৃষকদের লোকসান আরও বাড়বে। তাদের অভিযোগ, কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ বিভিন্নভাবে কৃষকদের জিম্মি করে হয়রানি ও নাজেহাল করছে।
এ সময় কৃষকরা আরও অভিযোগ করেন, কোল্ড স্টোরেজকে কেন্দ্র করে একটি দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রের কারণে সাধারণ কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা নানা ধরনের হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। কেউ এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে তাকে আরও হয়রানির মুখে পড়তে হয় বলেও দাবি করেন তারা।
কৃষকদের দাবি, সরকার নির্ধারিত প্রতি কেজি ৫ টাকা ৭৫ পয়সা হারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া আদায় করতে হবে। একই সঙ্গে সংরক্ষণকালে নষ্ট হওয়া আলুর যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং কোল্ড স্টোরেজকেন্দ্রিক দালালচক্র ও কৃষক হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
কৃষকরা জানান, এসব বিষয়ে একাধিকবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। তাই বাধ্য হয়ে তারা একত্রিত হয়ে মানববন্ধনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। দ্রুত তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা না হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার কথাও জানান তারা।