★ গুনতে হচ্ছে বাড়তি দাম, তবুও জ্বলে না চুলা
★ ২০০০-২৫০০ টাকায়ও মিলছে না সিলিন্ডার
★ ডিসিদের তদারকির নির্দেশ জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের
“রেশনিং করে আমাদের মাল আনতে হচ্ছে। অনেক কোম্পানির কাছে সম্পূর্ণভাবে গ্যাস না থাকায় বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বেশি দাম দিয়েও সময়মত মিলছে না সিলিন্ডার। বিষয়টি নিয়ে ভোক্তাকেও অবহিত করা হয়েছে”
— আবু তাহের খোরশেদ, ট্রেজারার, এলপি গ্যাস ট্রেডার্স কোঅপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড
“কোন জায়গায় সমস্যা হচ্ছে, তা চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্ধারিত হিসাব অনুযায়ী দাম কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের”
— ড. মোস্তাফিজুর রহমান, সম্মাননীয় ফেলো, সিপিডি
সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী দেশে এলপিজির কোনো সংকটই নেই, তবুও রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ফের এলপিজি’র হাহাকার চলছে! দেশের বাজারে সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে চার থেকে সাতশ’ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি সিলিন্ডার। এরপরও দোকানে দোকানে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার মিলছে না। বাড়তি দাম দিয়ে কিনতে গিয়েও হিমশিম খাচ্ছেন ভোক্তারা। বিশেষ করে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল আবাসিক ও ক্ষুদ্র দোকানিরা পড়ছেন চরম দুর্ভোগে। চাহিদার তুলনায় সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে না পারায় চুলা জ্বালাতে পারছেন না অনেকেই। এর প্রভাব পড়ছে, হোটেল-রেস্তোরাঁ আর ফাস্ট ফুডের দোকানগুলোতে। কোথাও কোথাও সরকার নির্ধারিত দামের চাইতেও বেশি দামে ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলেই সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে সরকারের বেশ কয়েকটি সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করেও কোনো ফল পাননি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে ভোক্তাদের অভিযোগ, বাড়তি দাম দিয়েও অনেক সময় চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। দিনের পর দিন সিলিন্ডারের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে খাদ্যের অন্বেষনে চুলা বন্ধ রেখে শেষ পর্যন্ত হোটেল-রেস্তোরাঁ আর ফাস্ট ফুডের দোকানগুলোর দিকে ছুটতে হচ্ছে। এদিকে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের কোনো সংকট নেই দাবি করে দাম বাড়ানোর অভিযোগের বিষয়টি তদারকির জন্য দেশের সব জেলার ডিসিদের নির্দেশনা দিয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। তবে এই নির্দেশনার পরও সংশ্লিষ্টদের কাউকে তদারকির জন্য মাঠে দেখা যায়নি। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এলপিজির দামে এই অস্বাভাবিকতার পেছনে কোথায় সমস্যা হচ্ছে, তা চিহ্নিত করে সমাধানে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে। তবে এলপি গ্যাস ট্রেডার্স কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের নেতৃবৃন্দ বলছেন, সপ্তাহে ৫-৭ দিন অপেক্ষায় থেকে রেশনিং করে আমাদের মাল আনতে হচ্ছে। অনেক কোম্পানির কাছে সম্পূর্ণভাবে গ্যাস না থাকায় বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বেশি দাম দিয়েও সময়মত মিলছে না সিলিন্ডার। বিষয়টি নিয়ে ভোক্তাকেও অবহিত করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর কারমারঙ্গীরচরের বাসিন্দা গৃহবধূ তাসলিমা বেগম। তিনি যে ফ্ল্যাটে থাকেন সেখানে সরকারি গ্যাস লাইনের সংযোগ থাকলেও অনুমতি না মেলায় তা বন্ধ থাকে। এতে বাধ্য হয়েই তিনি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, গত দু’দিন আগে চুলায় ভাত রান্না বসানোর পরই সিলিন্ডারের গ্যাস শেষ হয়ে যায়। পরে স্থানীয় মা হাজেরা এন্টারপ্রাইজে ফোন করে সিলিন্ডার দিয়ে যেতে বলেন। তবে দোকানি তাকে জানায়, সিলিন্ডার নেই। বিকেলে দু’টি সিলিন্ডার আনা হয়। তা বিক্রি হয়ে গেছে। এরপর পূর্ব পরিচিত ওই দোকান মালিক বাবুকে ফোন করে একটি সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করে দিতে বলেন। দোকান মালিক সাফ জানিয়ে দেন, আপাতত সিলিন্ডার নেই। তবে কোথাও পেলেও ২০০০ টাকার নিচে কোনো মতেই দেওয়া সম্ভব নয়। নিরুপায় ওই গৃহবধূ সিলিন্ডারের অর্ডার দিলেন। কিন্তু ঘন্টা খানেকেও মিলল না কাঙ্খিত সিলিন্ডার। পরে চুলায় বসানো ভাতের চাউল গরম পানিতে শেষপর্যন্ত না ফুটেই নষ্ট হয়ে যায়। এরপর বাধ্য হয়ে তিনি তার পরিবারের জন্য রাতের খাবারের অন্বেষনে স্থানীয় হোটেল-রেস্তোরাঁয় গিয়ে খাবার কিনে আনেন। পরে বাসায় ফিরে দেখেন, পাশের এক দোকানি একটি গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সেই সিলিন্ডারটির দাম নিয়েছে ১৯৫০ টাকা। ভুক্তভোগী আসলাম বলেন, বাসায় রান্না করার সময় দুপুরের দিকে সিলিন্ডারের গ্যাসে শেষ হয়ে যায়। পরে পূর্ব রসুলপুর ৬ নম্বর রোডের একটি সিল্ডিারের দোকানে গিয়ে দেখি দোকান সিলিন্ডারশূন্য। বিক্রেতাকে একটি সিলিন্ডার ম্যানেজ করে দিতে বললে ২৪০০ টাকা লাগবে, এবং তা ২৪ ঘন্টা পর ডেলিভারি দেওয়া হবে বলে জানিয়ে দেয়। এরপর নিরুপায় হয়ে সেখান থেকে আমি চলে আসি। কিন্তু দিনভর চেষ্টা করেও কোথাও গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যায়নি। এদিকে তেঁজগাওয়ের একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দোকানে ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে যান বেসরকারি চাকরিজীবী মোহাম্মদ অয়ন। দোকানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৫০ টাকা। অথচ এর আগে একই সিলিন্ডার তিনি কিনেছিলেন ১ হাজার ৬৫০ টাকায়। বাড়তি দাম নিয়ে দর-কষাকষি করেও লাভ হয়নি। কারণ, সিলিন্ডারটি নেয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন অন্য আরও কয়েকজন ক্রেতা। অয়ন বলেন, দোকানদারকে ১ হাজার ৭৫০ টাকা রাখার কথা বলেছি। জবাবে দোকানদার বললেন, বর্তমানে গ্যাস নেই, তাই ১ হাজার ৯৫০ টাকাই দিতে হবে। দোকানে আরও দুই-তিনজন ক্রেতা অপেক্ষা করছেন বলেও জানান তিনি। অয়ন সিলিন্ডারটি না নিলে অন্য ক্রেতা নিয়ে যাবেন এমন পরিস্থিতির কথাও জানান দোকানদার। এছাড়া লালবাগের শহীদ নগর এলাকার বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, সরকার গ্যাস সিলিন্ডারের দাম, নির্ধারণ করে দিলেও বাস্তবতা ভিন্ন। দোকানিরা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির অজুহাতে সরবরাহ কম রয়েছে জানিয়ে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি করছে। নিরুপায় হয়ে চাহিদা থাকায় অনেকেই তা বেশি দামে কিনে নিচ্ছেন।
শুধু গৃহস্থালি ব্যবহারকারী নয়, বাড়তি দামের কারণে চাপে পড়েছেন ছোট ব্যবসায়ীরাও। চা দোকানদার আরিফ গত বুধবার রাত নাগাদ ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডার কিনেছেন ১ হাজার ৯৫০ টাকায়। তিনি বলেন, বাজারে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না, তাই বাড়তি দাম দিয়েই দোকানের জন্য সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। এতে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আরিফ বলেন, আমাদেরও চলতে কষ্ট হচ্ছে। চায়ের দাম বাড়াতে পারছি না। দাম বাড়ালে ক্রেতারা আপত্তি করেন। পাঁচ টাকা রং চা ও ১০ টাকা দুধ চায়ের দামে কীভাবে ব্যবসা করব।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সেপ্টেম্বর মাসের জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করেছে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। কিন্তু রাজধানীর অধিকাংশ দোকানেই এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি। ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকার মধ্যে। ৩৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৪৫ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৬ হাজার টাকার মধ্যে। এর মধ্যেও চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও বিক্রেতাদের দাবি, বাজারে এলপিজির সংকট নেই। তবে ক্রেতাদের অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে, নির্ধারিত দামে তো নয়ই, বাড়তি দাম দিয়েও অনেক সময় প্রয়োজনীয় সিলিন্ডার সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এবাবুল মিয়া নামের একজন ক্রেতা বলেন, যে ডিলারের কাছে যাচ্ছি, তার কাছেই নাকি সিলিন্ডার নেই। ফলে মানুষ নিরুপায়। রান্না করতে হবে, খেতে হবে এ কারণে এলপিজির কোনো বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়েই বাড়তি দাম দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে দোকানদাররা বলেন, আমাদেরও বাড়তি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে আমাদের খরচ পড়ছে ১ হাজার ৬৫০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে। ফলে বিইআরসির নির্ধারিত ১ হাজার ৫৮৫ টাকা দরে বিক্রি করলে আমাদের লোকসান হবে। অপর একজন বিক্রেতা বলেন, আমরা ১ হাজার ৬৫০ টাকা দিয়ে সিলিন্ডার কিনছি, অথচ সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। বিইআরসির নির্ধারিত দামের সঙ্গে কোম্পানির দামেরও পার্থক্য রয়েছে। ফলে ওই দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণেই আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
এলপিজি ব্যবসায়ীদের সংগঠন এলপি গ্যাস ট্রেডার্স কোঅপারেটিভ সোসাইটির নেতার দাবি, অধিকাংশ কোম্পানি চাহিদা অনুযায়ী এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করতে পারছে না। এ কারণে বাজারে সরবরাহ নিয়ে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
এলপি গ্যাস ট্রেডার্স কোঅপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের ট্রেজারার আবু তাহের খোরশেদ বলেন, পাঁচ দিন, সাত দিন, এমনকি আট দিন অপেক্ষা করে রেশনিং করে আমাদের মাল আনতে হয়। অনেক কোম্পানির কাছে সম্পূর্ণভাবে গ্যাস না থাকায় বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ভোক্তাকেও অবহিত করা হয়েছে। তারা আমাদের বলেছে, নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিষয়টি মনিটরিং করা হবে। তবে বাজারে এলপিজির সরবরাহ ও দামের এই পরিস্থিতির কারণ কোথায়? সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। ব্যবসায়ীরা একদিকে বেশি দামে পণ্য কেনার কথা বলছেন, অন্যদিকে ভোক্তারা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি দিয়ে সিলিন্ডার কিনছেন। আবার সেই বাড়তি দাম দেয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কোন জায়গায় সমস্যা হচ্ছে, তা চিহ্নিত করে সরকারকে এ বিষয়ে সমাধানে এগিয়ে আসা উচিত। তিনি বলেন, এলপিজির বাজার দেখভালের জন্য সরকারের একাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্ধারিত হিসাব অনুযায়ী দাম কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাদের।
এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। সেপ্টেম্বরেও প্রায় কাছাকাছি পরিমাণ এলপিজি আমদানি হয়েছে। ফলে আমদানির পরিমাণের তথ্যের সঙ্গে বাজারে বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রি এবং চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগের বিষয়টিও সামনে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে গত বুধবার জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে এক নির্দেশনার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়াতে দেশের সব জেলার ডিসিদের জরুরি বার্তা দিয়েছে। অথচ গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বেশ কয়েকটি গ্যাসের দোকান ঘুরে কোথাও কোথাও গ্যাস সিলিন্ডার নেই, সংকট রয়েছে। আবার কোথাও কোথাও দু’একটি সিলিন্ডার বিক্রি হলেও তা দ্বিগুণ-তিনগুন বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। অথচ এসব দোকানে প্রশাসনের কাউকে তদারকি করতে দেখা যায়নি। এমনকি দেশের কোথাও জেলা প্রশাসনের নির্দেশে দাম বাড়ানোর বিষয়ে মনিটরিং করা হচ্ছে বলে এমন কোনো খবর মেলেনি। তবে অনেকেই বলেছেন, হয়তো গত বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষদিন হওয়ায় সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কেউ বাজার তদারকিতে নামেনি। আগামী রোববার থেকে হয়তো তদারকি জোরদার করা হতে পারে।
তবে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় দেশে এলপিজির সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় জানানো হয়, বর্তমানে দেশে এলপিজির সরবরাহ পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক রয়েছে।
লোয়াবের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ১ দশমিক ৫৬ লাখ টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে। এর আগের মাস আগস্টে আমদানি করা হয়েছিল ১ দশমিক ৫৮ লাখ টন। চাহিদার তুলনায় এই সরবরাহ যথেষ্ট হওয়ায় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির কোনো সুযোগ নেই বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও কোনো এলপিজি অপারেটর, পরিবেশক, ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা যদি বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করেন অথবা নিয়মবহির্ভূতভাবে এলপিজি মজুত করেন, তাহলে তা প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে, বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এক অনলাইন সভায় জেলা প্রশাসকদের বাজার মনিটরিংয়ের জন্য কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে কি না এবং নিয়মবহির্ভূত মজুত করা হচ্ছে কি না, তা নজরদারির আওতায় রাখার কথা জানানো হয়েছে। ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষা এবং এলপিজির বাজার স্থিতিশীল রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা বজায় রাখার কথাও জানিয়েছে লোয়াব।