নোয়াখালী-কুমিল্লায় একদিনে কিশোর গ্যাংয়ের ৩৮১ সদস্য আটক

সবুজ বাংলা রিপোর্ট
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে ধারাবাহিক অভিযানের পঞ্চম দফায় ৩৬৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ নিয়ে পাঁচ দফায় জেলাজুড়ে মোট আটকের সংখ্যা দাঁড়াল দুই হাজার ৩৫ জনে। পাশাপাশি নগরীর আলোচিত কিশোর শাহাদাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও কিশোর গ্যাং ‘রতন গ্রুপ’-এর প্রধান রতনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাতটা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কুমিল্লা মহানগরীসহ জেলার ১৮টি থানার বিভিন্ন এলাকায় জেলা পুলিশ ও ডিবির সমন্বয়ে একযোগে চার ঘণ্টাব্যাপী এই যৌথ অভিযান চালানো হয়। এছাড়া নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৪৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে একজনকে আগের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং বাকি ৪৪ জনকে মুচলেকা নিয়ে স্ব-স্ব পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা ও নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, কুমিল্লায় উঠতি বয়সী বখাটে ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের উৎপাত রয়েছে এমন এলাকা, অপরাধপ্রবণ স্থান ও আড্ডাস্থলে এই চিরুনি অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে আটক ৩৬৩ জনের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই, তাদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে এবং বাকিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর আগে চার দফার অভিযানে যথাক্রমে ৬২৪ জন, ২৫৪ জন, ৪১৫ জন এবং ৩৭৯ জনকে আটক করা হয়েছিলো। নতুন ৩৬৩ জনসহ মোট আটকের সংখ্যা দুই হাজার ৩৫ জনে পৌঁছেছে।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ তৌহিদুল আনোয়ার জানান, ডিআইজি ও পুলিশ সুপারের নির্দেশে নগরীর বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকা থেকে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ৫৯ জনকে আটক করেছে। তিনি বলেন, কিশোররা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনো নিরপরাধ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে কঠোর মনিটরিং নিশ্চিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কিশোর অপরাধ রুখতে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহবান জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। এদিকে নগরীর আলোচিত কিশোর শাহাদাত হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ও গ্যাং প্রধান রতনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার রতনের বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্র মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সে পুলিশের নজরদারিতে ছিলো।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে কুমিল্লা মিশনারি স্কুলের সামনে কিশোর গ্যাং ‘ঈগল গ্রুপ’ ও ‘রতন গ্রুপের’ মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে কিশোর শাহাদাত নিহত হন। ওই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন রতন।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, কুমিল্লায় কিশোর অপরাধ নির্মূলে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৪৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে একজনকে আগের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং বাকি ৪৪ জনকে মুচলেকা নিয়ে স্ব-স্ব পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) পেয়ার আহমেদ। এর আগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযানগুলো পরিচালনা করা হয়।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের নির্দেশনা ও প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা ঠেকানো, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা রোধ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে সুধারাম মডেল থানায় মোট ছয়জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে পুরনো একটি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং বাকি পাঁচজনকে পরিবারে জিম্মায় দেওয়া হয়। এছাড়া কোম্পানীগঞ্জ থানায় ১২ জন, বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ছয়জন, সোনাইমুড়ী থানায় ছয়জন, চাটখিল থানায় চয়জন, কবিরহাট থানায় সাতজন এবং চরজব্বর থানায় দুইজনকে আটক করে মুচলেকা গ্রহণপূর্বক স্ব-স্ব অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পেয়ার আহমেদ বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা ও সমাজবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের নিয়মিত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও জানান, কিশোরদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে পুলিশের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও জোরদার করা হচ্ছে।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL