বাংলাদেশে তেল-গ্যাস উত্তোলনে ইতালিকে বিনিয়োগের আহ্বান

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:

বাংলাদেশের নতুন উপকূলীয় অঞ্চলে লুকায়িত বিপুল প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেল সম্পদ অনুসন্ধানে ইতালীয় বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
গতকাল রোববার ঢাকা শহরের শের-ই-বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের নিজ কার্যালয়ে স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো। এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সমুদ্র উপকূলবর্তী সম্ভাব্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে তেল-গ্যাস উত্তোলনে ইতালীয় প্রযুক্তির ব্যবহারে গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈঠকের পাশাপাশি জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও ঢাকার ইতালি দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কূটনীতিক প্রতিনিধিগণ এই বিশেষ আলোচনায় প্রত্যক্ষভাবে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ ও ইতালির পারস্পরিক দ্বিপাক্ষিক বিষয়াদি পর্যালোচনায় অংশ নেন।
সাক্ষাতে স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ইতালির অকৃত্রিম বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে ইতালি বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ইতালির সম্পর্কের সূচনা হয়। বাংলাদেশের অভিবাসীদের জন্য ইতালি সব সময় উদারতা দেখিয়ে আসছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ইতালি বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের বৃহৎ গন্তব্য।
স্পিকার আরও বলেন, সর্বশেষ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের বিস্তারের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। ইতালি বাংলাদেশি অভিবাসীদের নিরাপদ ও আইনগত মাইগ্রেশনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা সংকটে তাদের পুনর্বাসনের জন্য প্রতি বছর ইতালির সরকার বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা বাংলাদেশকে দিয়ে থাকে। ইতালি বাংলাদেশের সশস্ত্র প্রতিরক্ষার জন্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। ইতালির বিভিন্ন মেশিনারি যন্ত্রপাতি বাংলাদেশের বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায়। ইতালি ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রচলিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সামনে আরও কৌশলগতভাবে বিস্তার লাভ করবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
এ সময় ইতালির রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ইতালির পুরোনো বন্ধু। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় ইতালির সরকার সব সময় দৃঢ় সমর্থন দেয়। বাংলাদেশ ও ইতালির সংসদের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন ও সংসদীয় প্রতিনিধির সফর বিনিময়ের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতির বিস্তারে ইতালির সরকার আগ্রহী। প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও সিরামিক পণ্য ইতালিতে রফতানি হয়ে থাকে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে তারা উভয়েই সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন, চলমান রোহিঙ্গা সংকট সমাধান, জ্বালানি সংকট নিরসনে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং কূপ খননের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। স্পিকার এ সময় বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় মজুত গ্যাস ও তেল সম্পদ উত্তোলনে ইতালির বাণিজ্যিক কোম্পানিকে আমন্ত্রণ জানান।
 

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL