জাতিসংঘে ড. খলিলের  চমক, ভারতের ধমক!

সালেম সুলেরী
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:



জাতিসংঘে ৮১তম অধিবেশনে এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুটি নতুন রেকর্ড রচিত হলো ‘জাতিসংঘে’। প্রথমত পিতা-মাতার পর তারেক রহমানের প্রতিনিধিত্ব। ১৯৮০-তে পিতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ১৯৯৩-এ মাতা বেগম খালেদা জিয়া। আর ২০২৬-এ সন্তান তারেক রহমান-এর প্রথম ভাষণ।
দ্বিতীয়ত অধিবেশন সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব। ৪১তম অধিবেশনের পর ৮১তম-তে ফের সভাপতিত্ব। হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী থেকে ড. খলিলুর রহমান। তৃতীয়ত জাতিসংঘে নেতৃত্ব প্রদানে ভারত পশ্চাৎপদ  হলো। ৮১ বছরে ভারত সভাপতি হয়েছে একবার, বাংলাদেশ দু’বার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবারের অধিবেশনে অনুপস্থিত। মার্কিন প্রেসিডেন্টের শুল্কনীতি নিয়ে বিরাগভাজন পরিস্থিতি। ফলে যুদ্ধযুক্ত দেশ হিসেবে মার্কিনবিরোধী ভূমিকায় ভারত। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয় শংকর ‘মাল্টি ল্যাটারিজম’ মুভমেন্টে প্রতিবাদ ছড়াচ্ছেন। বাংলাদেশকে পাশে নিয়ে, ‘পিফরএম’ মুভমেন্টকে অগ্রবর্তী করছেন। এবারের জাতিসংঘে সাড়া ফেলছে এই ‘পিফরএম’। 
শেখ হাসিনার জন্মতিথিতে তারেকের জাতিসংঘ অভিযান
ঢাকার ‘আইসিটি’ আদালতে কোণঠাসা পরিস্থিতি আওয়ামী লীগের। শেখ হাসিনার পর আরো ৭ জনের ফাঁসি। সাম্প্রতিক এই রায়ে দেশ-বিদেশ প্রতিবাদমুখর। গত ১৮ সেপ্টেম্বর মূলত ভার্চুয়াল সভা করে দলটি। বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ তবে দিল্লি থেকে সংগঠিত। ২৮ সেপ্টেম্বর দলনেত্রী শেখ হাসিনার ৭৯তম জন্মতিথি। ডিসেম্বরে দিল্লি থেকে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের ডাক। দেশে চলছে ঝটিকা মিছিল কাম ককটেল বিস্ফোরণ। তারেক রহমানের নিউইয়র্ক ভ্রমণেও প্রতিবাদী কর্মসূচি অনেক। জ্যাকসন হাইটস-এ বিএনপি-আওয়ামী লীগ মুখোমুখি পরিস্থিতি। তদুপরি তারেক রহমানকে ঘিরে বিএনপির ‘ঈদ আমেজ’। জেএফকে বিমানবন্দরে ছিলো সাজ সাজ আয়োজন।
শুধু ‘ওয়েলকাম স্লোগান, ব্যানার নয়। উচ্চস্বরে  গাওয়া হয় দলীয় সঙ্গীতও। ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ, জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ।’
উল্লেখ্য, ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী। পর পর ১৪টি জন্মতিথি উদযাপিত হয় যুক্তরাষ্ট্রে। সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়সহ নিকটজনেরা সাথে থাকতেন। ২০২৪-এর ৫ আগস্ট পলায়নের পর পরিস্থিতি ভিন্ন। পর পর দু’বছর আর জাতিসংঘ অধিবেশনে নেই। দিল্লির নিভৃত আশ্রয়ে কেককাটা, মোমবাতি নেভানো নেই। উৎসবের আতিশয্যে নেই বেলুন ওড়ানোর অনন্দ। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘে সদলবলে সরব। স্ত্রী ডা. জুবাইদাসহ বিশ্ব নেতৃবর্গের সঙ্গে কুড়াচ্ছেন রাজস্মৃতি।
জাতিসংঘে উজ্জ্বল আলোর নিচে ড. ইউনূস
বাংলাদেশের মামলা ও আসিফ
ভূঁইয়া’র দুদক জটিলতা

নোবেল জয়ী ড. ইউনূস বরাবরই জাতিসংঘ অধিবেশনের অতিথি। ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি হয়েছেন ড. খলিলুর রহমান। তিনি ছিলেন ড. ইউনূস সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জেতা বিএনপির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। অনেকের মন্তব্য, ড. খলিলের উত্থানের নেপথ্যে ড. ইউনূস। ২০২৪ ও ২০২৫-এর অধিবেশনে ড. ইউনূস ছিলেন মধ্যমণি। বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে ছিলেন উজ্জ্বল আলোর নিচে। ক্লিনটন ইনেশিয়েটিভ-এর বার্ষিক আয়োজনেও তিনি অন্যতম কুশীলব। জাতিসংঘ অধিবেশনের সময়কালে এবারও মাতালেন বিশ্বসভা। অরিবেশন-পূর্ব আয়োজনে আসর জমানো বক্তব্য রাখলেন। বাংলাদেশের উত্থানকে স্বাগত জানালেন। কোণার ঘর থেকে মূল প্রাঙ্গনে স্থান পাওয়ার কথা বললেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশে থির হওয়া মামলা আবার জেগে উঠেছে। হাইকোর্টের রায়ে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে। ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণ প্রকল্পের বিরুদ্ধে রায়। উচ্চ আদালতে স্থগিতাদেশ চেয়ে রিট হচ্ছে। অনেকের ধারণা, বিষয়টি নিয়ে নিউইয়র্কে আলোচনা হবে। 
এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ‘বিপদাপন্ন’। ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলা দিয়েছে দুদক। তরুণ আসিফ ভূঁইয়া জুলাই আন্দোলনের অন্যতম কর্ণধার। ড. ইউনূস সরকারের ক্ষমতাবান উপদেষ্টা। অর্থপাচার কেলেংকারি থেকে মুক্তির পথ খুজঁছেন। সূত্র মতে, ড. ইউনূসের সাহারা চান জনাব আসিফ। তারেক রহমানের সঙ্গে আলেচনাক্রমে সমাধানের প্রস্তাব উঠেছে। তবে ড. ইউনূস মধ্যস্থতার বিষয়ে কোন প্রতিশ্রুতি দেননি।।
জাতিসংঘে ড. খলিলের চমক, ভারতের ধমক
পিফরএম বা ‘পার্টনার্স ফর মাল্টি
ল্যটারিজম’ ইস্যুর উত্থান

উল্লেখিত ইস্যুটিকে গুরুত্ব দিয়েছেন অধিবেশন সভাপতি ড. খলিল। যুদ্ধরত দেশগুলোর বিরুদ্ধে একটি নতুন ফোরাম। ইউরোপীয় কমিশন, কানাডা, ব্রাজিল, কেনিয়া এখন এককাট্টা। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তেনিও গুতেরেসও একমত। তিনি বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের সঙ্গে ৪ বছর যুদ্ধ চালাচ্ছে। আমেরিকা, ইসরাইল, ইরান যুদ্ধবিহারে নিবেদিত। পিফরএম-এর নেতারা যুদ্ধের ভয়াবহ বিবরণ দিচ্ছেন। বলছেন, পরাশক্তিগুলো তাদের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা টের পাচ্ছেন। সামরিক ব্যয় তিন ট্রিলিয়ন ডলার ছেড়ে গেছে। নিজেরাই অর্থনৈতিক অবরোধে পড়তে যাচ্ছে।
ভারত এই ফোরামে জোরালো বক্তব্য দিচ্ছে। ২৬ সেপ্টেম্বর বিশাল বিতর্ক জয়শংকর-এর কণ্ঠে। অনেকের ধারণা, তারা আমেরিকাকে এক হাত নেবে। কারণ, ভারতের পণ্যে ১০০% শুল্ক বসিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ভারত চায় বাংলাদেশও ফোরামে সক্রিয় হোক। যদিও তারেক রহমান সরকার তেমনটিই ভাবছে। ২৪ সেপ্টেম্বর-এর বক্তব্যে রয়েছে দাবিনামা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করা। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও যুদ্ধ নিরাপত্তা নিশ্চিৎকরণে জাতিসংঘকে কার্যকর করা। বাংলাদেশের বক্তব্য সময়োপযোগী বলে সচেতনমহলের অভিমত।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL