সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হতাহতের ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। তীব্র সামরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে ইয়েমেন ও সৌদি আরবের সম্পর্ক। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারাচ্ছেন নিরীহ মানুষ। চলমান যুদ্ধে এ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নিহত হয়েছেন ১৪ জন বাংলাদেশি। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। এতে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। সম্প্রতি রিয়াদের বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একদিনেই ২ বাংলাদেশিসহ প্রাণ হারিয়েছেন ১৩ জন কর্মী। এদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিকও রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে সৌদিতে আটকা পড়েছেন দেশে ছুটিতে বা একবারেই ফিরে আসতে ইচ্ছুক অসংখ্যা প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী। চলতি বছরের গেল আট মাসে দেশে ফেরৎ এসেছেন ৩০ হাজার কর্মী। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্তের শঙ্কার মুখে পড়েছে দেশের শ্রমবাজার। এর ফলে কমছে রেমিট্যান্স প্রবাহ। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশের শ্রমবাজার। তৈরি হচ্ছে কাজ হারানোরও শঙ্কা। এমন বাস্তবতায় মক্কা চুক্তিকে সরল সমীকরণে না দেখার পরামর্শ দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের বিস্তার কত দূর গড়াবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির বিকল্প নেই।
- ★ মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে বিভিন্ন দেশে নিহত ১৪ বাংলাদেশি
- ★ সৌদিতে একদিনেই ২ বাংলাদেশিসহ নিহত ১৩
- ★ গেল ৮ মাসে দেশে ফেরৎ এসেছে ৩০ হাজার কর্মী
- ★ ক্ষতিগ্রস্তের শঙ্কায় দেশের শ্রমবাজার, কমছে রেমিট্যান্স
“সৌদি আরব ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাংলাদেশের শ্রমবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একটা হচ্ছে, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কর্মী যাওয়া কমবে; আরেকটা হচ্ছে, যারার ওখানে আছেন, তাদের কাজ কমবে এবং সেইসঙ্গে রেমিট্যান্সও কমবে”
— শরিফুল হাসান, অভিবাসন বিশেষজ্ঞ“মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের বিস্তার কত দূর গড়াবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির বিকল্প নেই”
— মেজর জেনারেল ড. মো. কামরুজ্জামান, নিরাপত্তা বিশ্লেষক
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ (বা প্রায় ৫০-৬০ লাখের বেশি) বাংলাদেশি কর্মী ও প্রবাসী বসবাস করছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মী থাকেন সৌদি আরবে (প্রায় ৩৫ লাখ) এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে (প্রায় ১২ থেকে ১৩ লাখ)। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার প্রভাবে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কর্মী যাওয়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন প্রায় ৯ লাখ ৬৯ হাজার বাংলাদেশি, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদেশে কাজের জন্য বাংলাদেশ ছেড়েছেন ৯ লাখ ৬৯ হাজারের বেশি মানুষ। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ৫ শতাংশ কম। গত দুই বছর ধরেই বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরেও এই ধারা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এতে রেমিট্যান্স প্রবাহেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈদেশিক অর্থনীতির চাপ সামাল দিতে রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ৮ মাসে (ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর ১০ পর্যন্ত) মোট ২৫.৭৪ বিলিয়ন (প্রায় ২,৫৭৪ কোটি) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ২.৭ বিলিয়ন থেকে ৩.৭ বিলিয়ন (প্রায় ২৭০ থেকে ৩৭৫ কোটি) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। যেমন- সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ২৭৬.৬২ মিলিয়ন/বিলিয়ন (বা সেপ্টেম্বরে ছিল প্রায় ২৭৬ কোটি ডলার এবং মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩৭৫ কোটি ডলার ছাড়িয়েছিল)। এর মধ্যে একটি বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। বর্তমানে সৌদি আরবে বর্তমানে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত আছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সৌদি আরব থেকে প্রায় ১.৯৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ১৯.২ শতাংশ। এর আগের অর্থবছরে (২০২৫-২৬) সৌদি আরব থেকে প্রায় ৫.৮৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। অর্থাৎ যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কমেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা রেমিট্যান্সের প্রবাহ।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ করেই মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও যুদ্ধের কালো মেঘ দেখা দিয়েছে। সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উত্তেজনা আরও বাড়ছে। এর সঙ্গে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র অস্থিরতায় ঝুঁকির মুখে পড়ছে বেসামরিক মানুষের জীবন, ব্যাহত হচ্ছে বিমান চলাচল ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে ইমেমেনের সরকারি বাহিনী এবং সৌদি আরবের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়েও। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে এ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে নিহত হয়েছেন ১৪ বাংলাদেশি। সবশেষ গেল শনিবার সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২ বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের ১৩ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৩০৯ নাগরিক। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ২৭ বাংলাদেশি। এছাড়া চলতি মাসের ৪ অক্টোবর দেশটিতে অপর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন কুমিল্লার সজিব হোসেন নামের আরেক বাংলাদেশি।
জানা যায়, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মিসাইল ও ড্রোন হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার কারণে সৌদিতে কর্মরত বাংলাদেশিদের চাকরি ও রেমিট্যান্স প্রবাহ নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। চলমান এই উত্তেজনার প্রভাবে ইতোমধ্যে কিছু কর্মী চাকরি হারিয়েছেন বা দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এই সংঘাত রেমিট্যান্স প্রবাহ কমার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরীফুল হাসান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান হামলার জেরে মার্চ মাস থেকে বিদেশে কর্মী যাওয়ার গতি কমতে শুরু করেছে। এর পেছনে যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে বিমান চলাচলে বিঘ্ন বড় কারণ। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১ লাখ মানুষ বিদেশে কাজে যেতেন। এখন সেই প্রবাহে ভাটা পড়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত, মানে ১০ বছরে ৮৬ লাখের বেশি বাংলাদেশি বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য গেছেন। এই সময় বিদেশে যাওয়া মোট কর্মীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে গেছেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ১২ লাখ বাংলাদেশি বিদেশে কাজের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন, যা ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তিনি বলেন, গত চার দশক ধরে বাংলাদেশি কর্মীদের সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থানের বাজার এবং রেমিট্যান্সের প্রধান উৎস হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য। কিন্তু যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তায় সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো প্রধান গন্তব্যগুলোতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ভাষ্য, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ৬০ থেকে ৭০ লাখ বাংলাদেশি কাজ করছেন। তাদের বড় একটি অংশের স্থায়ী চাকরি নেই। তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধ কাতার ও দুবাইয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ধাক্কা দিয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক শ্রমিক দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে। তিনি আরও বলেন, বিকল্প শ্রমবাজার তৈরি করা না গেলে রেমিট্যান্সেও এর প্রভাব পড়বে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেকর্ড ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পেয়েছে। জুলাই মাসে রেমিট্যান্স আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে। তবে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো তা ৩০০ কোটি ডলারের নিচেই রয়েছে।
বহুমাত্রিক সংকট সামনে নিয়ে আসছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি। বিশেষ করে সৌদি আরবে থাকা প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশির নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি এসব কর্মীর কাজ হারানোরও শঙ্কা করা হচ্ছে। কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্তকতাসহ মালিক পক্ষের কাছেও দূতাবাসের বার্তা পৌঁছানোর পরামর্শ তাদের।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ শরিফুল হাসান বলেন, সৌদি আরব ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাংলাদেশের শ্রমবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একটা হচ্ছে, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কর্মী যাওয়া কমবে; আরেকটা হচ্ছে, যারার ওখানে আছেন, তাদের কাজ কমবে এবং সেইসঙ্গে রেমিট্যান্সও কমবে। এ বছর আট মাসে প্রায় ৩০ হাজার কর্মী ফেরত এসেছেন, তার মানে ফেরত আসা বাড়বে।
আরেক অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীরের মতে, যেসব জায়গায় আমাদের কর্মীরা কাজ করেন, সেসব এমপ্লয়ারের কাছেও যদি আমাদের তথ্য পৌঁছানো যায় দূতাবাসের মাধ্যমে যে, সব দেশের নাগরিকের মতো বাংলাদেশের নাগরিকদেরও দেখভাল করার ব্যাপারে তাদের একটা দায়িত্ব আছে। আর হচ্ছে, যদি এরকম হয় যে, কিছু ব্যক্তি মনে করছেনে, তারা দেশে ফেরত আসতে চান, সেটার একটা প্রস্তুতি রাখতে হবে। হয়তো তারা নিজেদের উদ্যোগেই আসার চেষ্টা করতে পারেন, যদি তারা মনে করেন যে, সেখানে থাকা নিরাপদ নয়।
এমন বাস্তবতায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বাংলাদেশিদের নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো সামরিক সমীকরণে যুক্ত হওয়ার প্রশ্নে আবেগ নয়, প্রয়োজন জাতীয় স্বার্থের বাস্তব মূল্যায়ন।
এসব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল ড. মো. কামরুজ্জামান বলেন, এই মক্কা চুক্তির বিষয়ে যদি আমরা সরাসরি অংশগ্রহণ করি, আমাদের বিপদও হতে পারে। তাই আমাদের বুঝে-শুনে, চিন্তা-ভাবনা করে এগোনো উচিত। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের বিস্তার কত দূর গড়াবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।