নওগাঁয় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এর ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
১৫ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) বিকেল ৪টায় নওগাঁ জেলার ঐতিহ্যবাহী নওজোয়ান মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এবং সম্মানিত জেলা প্রশাসক জনাব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্য, জেলা ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
চ্যাম্পিয়নশিপে নওগাঁ জেলার ১১টি পুরুষ দল ও ৩টি নারী দল অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্যায়ে পুরুষ বিভাগে মান্দা থানার দল এবং নারী বিভাগে নওগাঁ সদর মডেল থানার দল বিজয় অর্জন করে। পুরুষ ফাইনালে মান্দা থানা দল চ্যাম্পিয়ন হয়। নারী ফাইনালে নওগাঁ সদর মডেল থানার দল জয়ী হয়। রানার্সআপ দলগুলোকেও ট্রফি ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। সেরা রেইডার, সেরা ডিফেন্ডার ও ম্যাচসেরা খেলোয়াড়দের পৃথক পুরস্কার দেওয়া হয়।
তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা, মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখা এবং পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে নওগাঁ জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সহযোগিতায় এবং সকল জেলা ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার পরামর্শক্রমে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
প্রতিযোগিতায় নওগাঁ জেলার বিভিন্ন এলাকার আগ্রহী, মেধাবী ও উদ্যমী অনূর্ধ্ব-২০ বছর বয়সী নারী ও পুরুষ খেলোয়াড়দের বাছাই করে দল গঠন করা হয়। নির্বাচিত খেলোয়াড়দের নির্ধারিত ফরমে নিবন্ধন সম্পন্ন করার পাশাপাশি প্রতিটি খেলা শেষে সংযুক্ত খেলোয়াড় মূল্যায়ন ফরম অনুযায়ী তাদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হয়। এতে তরুণদের খেলার মান উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ প্রতিভা খুঁজে বের করার সুযোগ তৈরি হয়।
চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনে নওগাঁ জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। মাঠ পরিচালনা, নিরাপত্তা, চিকিৎসা সেবা ও দর্শক ব্যবস্থাপনায় পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকরা সমন্বিতভাবে কাজ করেন।
ফাইনাল খেলা উপভোগ করতে নওগাঁর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় পাঁচ হাজার দর্শক নওজোয়ান মাঠে উপস্থিত হন। দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি পরিণত হয় এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে।
পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণরা সুস্থ থাকবে, অপরাধপ্রবণতা কমবে এবং পুলিশ-জনগণের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে। জেলা প্রশাসক জনাব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের আয়োজন সামাজিক সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি ভবিষ্যতে জেলা পর্যায়ে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজনের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে, সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার হবে এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও গতিশীল ও জনবান্ধব হবে। আগামীতে আরও বেশি নারী দল ও গ্রাম পর্যায়ের তরুণদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।