★ কনস্টেবল বরখাস্ত, তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি

আদালত থেকে দ্বিতীয়বার হাতকড়া খুলে পালালেন আসামি শরিফুল

এসএম দেলোয়ার হোসেন
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:

বিচারাধীন একটি মামলার আসামি শরিফুল ইসলাম আবারও আদালত চত্বরে পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়া খুলে দৌড়ে পালিয়ে গেছে। এর আগে ২০২৫ সালের ১৯ জুন দায়রা জজ আদালতের এজলাস থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে পুলিশকে মারধর করে কৌশলে হাতকড়া খুলে পালিয়েছিলেন শরিফুল। আসামিকে পুনরায় ধরতে অভিযানে নেমেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্ব নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। আইনজীবী ও অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, আসামিদের কারাগার বা থানার হাজতখানা থেকে আদালতে আনা-নেওয়ার সময় পুলিশের অসতর্কতার কারণে সুযোগ নিচ্ছে আসামিরা। এদিকে পুলিশ বলছে, আদালত থেকে পুলিশ হেফাজতে থাকা আসামি দ্বিতীয়বারের মত পালানোর ঘটনায় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানা যায়, একটি বিচারাধীন মামলায় মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) মো. জামসেদ আলমের আদালতে  তোলা হয় আসামি মরিফুল ইসলামকে। হাজিরা শেষে হাজতখানায় নেয়ার পথে কৌশলে হাতকড়া খুলে দৌড়ে পালিয়ে যান শরিফুল ইসলাম। এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা পুলিশ কনস্টেবল আব্দুল আলীমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ ও দায়িত্বে অবহেলা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ ঘটনায় তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, আসামি শরিফুল ইসলাম পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল আব্দুল আলীমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার বিস্তারিত তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন ডিএমপির এডিসি (এডমিন) নাসির আহমেদ। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন এসি (প্রসিকিউশন) মেহেদী হাসান এবং ইন্সপেক্টর মো. জসিম।

পুলিশ জানায়, কোতোয়ালি থানার একটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য কারাগার থেকে শরিফুল ইসলামকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হয়। তবে সাক্ষী উপস্থিত না থাকায় ওই দিন সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। পরে তাকে আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় কনস্টেবল আব্দুল আলীমের দায়িত্বে ছিলেন শরিফুল। এ সময় কৌশলে হাতকড়া খুলে আদালত চত্বর থেকে পালিয়ে যান তিনি। পুলিশ আরও জানায়, কীভাবে একজন বিচারাধীন আসামি হাতকড়া খুলে পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে গেলেন এবং এ ঘটনায় কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পুলিশ সূত্র আরও জানায়, শরিফুল ইসলাম এর আগেও আদালত থেকে পালিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের ১৯ জুন ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের এজলাস থেকে হাজতখানায় নেয়ার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের মারধর করে হাতকড়া খুলে পালিয়ে যান তিনি। ওই ঘটনায় তৎকালীন হাজতখানার ইনচার্জ মো. রিপন মোল্লা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। পরে শরিফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্যই গতকাল মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। তবে দ্বিতীয়বারও পুলিশের হেফাজত থেকে তার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আদালতের নিরাপত্তা এবং আসামি পরিবহনের দায়িত্বে থাকা সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, একজন আসামিকে কখনও ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের ধরে প্রথমে নিশ্চয়ই থানার হাজতখানায় রাখা হয়। পরে তাকে সুনির্দিষ্ট মামলায় আদালতে পাঠায় পুলিশ। থানার হাজতখানা বা কারাগার থেকে আদালতে পাঠানোর সময়টুকুতে দায়িত্বশীল পুলিশের ভুমিকা নিয়ে সথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। নিরাপত্তার অভাব অথবা গাফিলতির কারণেই পুলিশ হেফাজত থেকে পালাতে সক্ষম হচ্ছে আসামিরা। এভাবে চলতে থাকলে অপরাধের মাত্র বাড়বে কয়েকগুণ। একই সঙ্গে অপরাধীরাও পারিয়ে যেতে পুলিশকে ম্যানেজের পাশাপাশি নানা কৌশল নেবে। এসব ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি বলেও মনে করেন বিশ্লেষকরা।

তবে পুলিশ বলেছে, পলাতক শরিফুলকে পুনরায় গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর আসামি পালানোয় কারও গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL