★ মা ইলিশ রক্ষায় আসছে নিষেধাজ্ঞা

নদী ছাড়ছেন জেলেরা

এসএম দেলোয়ার হোসেন
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:


★ ডাঙ্গায় নৌকা তোলা, জাল সংরক্ষণে ব্যস্ত জেলেরা 
★ নেই বিকল্প কর্মস্থান, উৎকণ্ঠায় জেলে পরিবার

“মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে নিষেধাজ্ঞার পুরো সময়জুড়ে নদীতে নজরদারি অব্যাহত থাকবে”
— আহমেদ জিয়াউর রহমান, প্রশাসক, চাঁদপুর জেলা 

এসএম দেলোয়ার হোসেন

মেঘনার পাড়ে অন্য রকম এক ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলেরা। নদীতে যাওয়ার বদলে তীরে উঠছে মাছ ধরার নৌকা, গুটিয়ে রাখা হচ্ছে জাল। কেউ নৌকার মেরামত করছেন, কেউ আবার জাল শুকিয়ে নিরাপদে সংরক্ষণ করছেন। এর কারণ, আর কয়েক দিনের মধ্যেই ২২ দিনের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে নদীতে মাছ ধরা। তবে নিষেধাজ্ঞার সময়ে থাকবে না তাদের কারও বিকল্প কর্মসংস্থান। এ নিয়ে জেলে পরিবারগুলো উদ্বিগ্ন। তবে মৎস অধিদপ্তর বলছে, চাঁদপুরের মেঘনার বুকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহকারী ৪১ হাজার জেলে পরিবারকে ২৫ কেচি করে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আগামী বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চাঁদপুরের মেঘনা নদীর প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞার আগে তাই নদীর ওপর নির্ভরশীল জেলে পরিবারগুলো নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মুঠোফোনে কথা হয় চাঁদপুর সদর উপজেলার হানারচর এলাকার জেলে মো. বাচ্চুর সঙ্গে। তিনি বলেন, নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকলে তাঁদের আয়ও বন্ধ হয়ে যায়। এই সময়ে সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। সরকার যে খাদ্য সহায়তা দেয়, তা কিছুটা উপকার করে। তবে শুধু খাদ্য দিয়ে ২২ দিন সংসার চালানো কঠিন। একই এলাকার আরেকজন জেলে মো. আলমগীর বলেন, নৌকা ও জাল নিয়ে নদীতে যেতে না পারলেও সংসারের খরচ বন্ধ থাকে না। সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা, নৌকা ও জাল মেরামতসহ নানা খরচ রয়েছে। এ সময় খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি নগদ আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হলে জেলেদের জন্য তা বড় সহায়তা হবে।

মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার সময়ে চাঁদপুর জেলার ৪১ হাজার জেলে পরিবারকে ২৫ কেজি করে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। তবে জেলেদের দাবি, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনে তাঁদের বিকল্প আয়ের সুযোগ নেই। ফলে খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে নদীতে মাছ ধরার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এ সময়ে মা ইলিশ ডিম ছাড়ার জন্য নদীর নির্দিষ্ট এলাকায় আসে। নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে পারলে পরবর্তী সময়ে ইলিশের উৎপাদন ও প্রাচুর্য বাড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি মৎস্য বিভাগ, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও নৌ বাহিনী অভিযান পরিচালনা করবে। নদীতে নজরদারি বাড়ানো হবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ মাছ ধরলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, মা ইলিশের প্রজননের জন্য এই ২২ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় ইলিশকে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতে পারলে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। নিষেধাজ্ঞা সফল করতে জেলে ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে নিবন্ধিত জেলে পরিবারগুলোর জন্য খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলেরা যাতে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলেন, সে জন্য মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের সচেতন করা হচ্ছে।

চাঁদপুর নৌ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজমগীর হোসাইন বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। নদীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ নদীতে নামলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে নদীতে অভিযান পরিচালনা করা হবে। নিষেধাজ্ঞার পুরো সময়জুড়ে নদীতে নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
 

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL