‘আমার তো একটাই ছেলে, ওকে ছাড়া জীবন পার করব কীভাবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:

 

# ছেলেকে হারিয়ে কুবি শিক্ষকের আহাজারি
# তিন জন আটক


‘আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে আমি জানতে চাই, আমাকে জবাব দেন। আমি এই কুমিল্লায় চাকরি করতে এসেছি, এটাই কি আমার অন্যায়? আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি শুধু সেটার জবাব চাই।’ কথাগুলো বলেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। একমাত্র সন্তান অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধারের পর আহাজারি করছেন তিনি। গতকাল শনিবার দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় ড. নাহিদা বেগমদের বাসায় যান কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। এ সময় সংসদ সদস্যের কাছে কাঁদতে কাঁদতে এসব আহাজারি করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘এটা কোন দেশ? আমি বাঁচব কীভাবে? আমার তো একটাই ছেলে। কীভাবে আমার জীবন কাটাব? আপনারা সবাই বলেন, ওকে ছাড়া আমি আমার জীবন পার করব কীভাবে?’ এভাবেই বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক। এ সময় ড. নাহিদা বেগমের কান্না দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনিও শিশুর মতো ডুকরে কেঁদে উঠেছেন বারবার। পরে ন্যায় বিচারের আশ্বাস দিয়ে সান্ত্বনা দেন সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে অপ্রতিম (১৩)। শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেনি সে। এ ঘটনায় অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পরে গতকাল শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের পাশে লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা গ্রামের ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অপ্রতিম কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এদিকে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় মোট ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আটককৃতরা হলো- তুহিন, আনাস ও ফাহিম। এর আগে গতকাল দুপুর ১টার দিকে কোটবাড়ির ম্যাজিক প্যারাডাইস সংলগ্ন দক্ষিণ সানন্দা এলাকা থেকে অপ্রতিমের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় আব্দুল কাদের জিলানী কাজ করতে গিয়ে প্রথমে মরদেহটি দেখতে পান। বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার (ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পাশে) জঙ্গলে বাঁশ কাটতে গিয়ে তিনি ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রথমে ওই শিশুকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। গতকাল শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস। তিনি জানান, অপ্রতিমের নিখোঁজের পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে অপ্রতীমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায়। পরে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদকে আটক করা হয়েছে। দুইনজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদিকে, ফাহিম আহমেদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক। তিনি বলেন, তুহিন ও আনাসকে আটকের পর ফাহিমকে আটক করা হয়। জানা যায়, আটক তুহিনের বাড়ি সানন্দা এলাকায়। তার বাবার নাম নুরুল আলম। অন্য দুইজনের বিষয়ে বিস্তারিত পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL