জেলা থেকে উপজেলা—এক কর্মকর্তার বহুমুখী দায়িত্বে বাড়ছে প্রশাসনিক চাপ

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:

 

কুড়িগ্রামে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কার্যক্রমে একজন কর্মকর্তার ওপর একাধিক দায়িত্ব এবং জনবল সংকটের প্রভাব পড়ছে। রাজারহাট উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জয়ন্তী রানী একই সঙ্গে জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব), প্রোগ্রাম অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব), কুড়িগ্রাম সদর ও ফুলবাড়ী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এতে নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রম, চিঠিপত্রে স্বাক্ষর, সভা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে চাপ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে রাজারহাট উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় ও কুড়িগ্রাম জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে গিয়ে জয়ন্তী রানীকে পাওয়া যায়নি। রাজারহাট কার্যালয়ে বিভিন্ন কাজে আসা কয়েকজন সেবাগ্রহীতাকে কর্মকর্তার স্বাক্ষরের অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়।

কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জয়ন্তী রানীর মূল কর্মস্থল রাজারহাট উপজেলা এবং বেতন-ভাতাও সেখান থেকেই প্রদান করা হয়। এর পাশাপাশি তিনি জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক ও প্রোগ্রাম অফিসার এবং সদর ও ফুলবাড়ী উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দায়িত্বেও ছিলেন, যা গত ১৩ সেপ্টেম্বর হস্তান্তর করেন।

রাজারহাট উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুমোদিত ১০টি পদের মধ্যে বর্তমানে ৫টি শূন্য। কর্মরত রয়েছেন উপজেলা কর্মকর্তা, একজন হিসাবরক্ষক-কাম-ক্রেডিট সুপারভাইজার, একজন ট্রেড শিক্ষক এবং একজন অফিস সহায়ক। অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর আলমগীর হোসেন যোগদান করলেও পরে পূর্ববর্তী কর্মস্থল ডিমলায় ফিরে গেছেন; আগামী অক্টোবরে অবমুক্ত হয়ে রাজারহাটে নিয়মিত দায়িত্ব পালনের কথা রয়েছে।

হিসাবরক্ষক-কাম-ক্রেডিট সুপারভাইজার বাবুল মিয়া বলেন, “ম্যাডাম কখন কোন অফিসে থাকেন, সেটি অনেক সময় আমরাও নিশ্চিত বলতে পারি না। কারণ তাঁর কাঁধে একাধিক দায়িত্ব রয়েছে।”

জেলা কার্যালয়ের একজন হিসাবরক্ষক-কাম-ক্রেডিট সুপারভাইজার বলেন, “চিঠিতে স্বাক্ষর, বিভিন্ন সভা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে খুব চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে এতগুলো দায়িত্ব কার্যকরভাবে পরিচালনা করা কঠিন।”

সেবাগ্রহীতা কুলসুম বেগম, মুক্তা বেগম ও ইউনুস আলী জানান, প্রয়োজনীয় কাজ নিয়ে অফিসে এসে অনেক সময় কর্মকর্তার স্বাক্ষরের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। কর্মকর্তা না থাকলে কাজ শেষ না করেই ফিরে যেতে হয় এবং পরে আবার আসতে হয়।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে নারী ও শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়ন, আত্মকর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা এবং নারী-শিশু নির্যাতন প্রতিরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জয়ন্তী রানীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিস তানজিলা তাসনিমও ফোন রিসিভ করেননি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শূন্য পদে দ্রুত জনবল নিয়োগ এবং সংযুক্ত কর্মীদের নিজ নিজ কর্মস্থলে কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি কমবে এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL