* এবার ৩ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর ১৩ লক্ষাধিক আবেদন * ঢাকায় পরীক্ষার খাতা পুনঃমূল্যায়নে সর্বোচ্চ ৪ লক্ষাধিক আবেদন * মূল্যায়ন সমস্যায় পরীক্ষকদের দেওয়া হবে প্রশিক্ষণ

এসএসসির খাতা পুনঃমূল্যায়নে আসছে নীতিমালা

এসএম দেলোয়ার হোসেন
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:

চলতি বছরে এসএসসি পরীক্ষার খাতা পুনঃমূল্যায়নের জন্য নির্ধারিত সময়ের পাঁচ দিনে বিভিন্ন বিষয়ে উত্তরপত্র পর্যালোচনায় সারা দেশের ৩ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর ১৩ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। ঢাকায় পরীক্ষার খাতা পুনঃমূল্যায়নে সর্বোচ্চ ৪ লাখের বেশি আবেদন জমা পেড়েছে। তবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ১২ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। বিপুলসংখ্যক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কোন ধরনের খাতা পুনঃমূল্যায়নের আওতায় আসবে, কোনগুলো আসবে না, তা নির্ধারণে সরকার নীতিমালা প্রণয়ন করবে। ফলে আগামীতে পরীক্ষার খাতা পুনঃমূল্যায়নে আসছে নতুন নীতিমালা। মূল্যায়নে সমস্যা হলে পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। 

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালের আইন অনুযায়ী খাতা পরিদর্শনের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। তবে বর্তমান সরকার আইনটিতে সংশোধন আনে। ফলে এবার শিক্ষার্থীদের খাতা পুনঃনিরীক্ষণের পাশাপাশি পুনঃমূল্যায়নেরও সুযোগ রয়েছে।
শিক্ষার বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, পুনর্নিরীক্ষণে কোনো খাতা নতুন করে মূল্যায়ন বা পুনরায় পড়া হয় না। মূলত ৪টি বিষয় পরীক্ষা করা হয়:  ১. উত্তরপত্রের সব প্রশ্নে নম্বর দেওয়া হয়েছে কিনা। ২. প্রাপ্ত নম্বর যোগ করতে কোনো ভুল হয়েছে কিনা। ৩. ওএমআর (ঙগজ) শিটের বৃত্ত ভরাট সঠিক আছে কিনা এবং ৪. নম্বরের এন্ট্রি কম্পিউটারে সঠিকভাবে তোলা হয়েছে কিনা।
শিক্ষা বোর্ড সুত্রগুলো জানায়, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পরদিনই গত ১১ আগস্ট থেকে পরীক্ষার খাতা পুনঃমূল্যায়নের আবেদন শুরু হয়ে চলে সোমবার (১৭ আগস্ট) পর্যন্ত। গেল ৫ দিনে অর্থাৎ ১৬ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশের ৩ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক উত্তরপত্র পুনঃমূল্যায়নে ১৩ লাখেরও বেশি আবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা পড়েছে।   

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবারের মতো এবারও সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। ঢাকা বোর্ডে প্রায় ৪ লাখের কাছাকাছি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন হয়েছে। অন্যান্য বড় বোর্ড যেমন কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং রাজশাহী বোর্ডেও আবেদনের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। চলতি ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের (বোর্ড চ্যালেঞ্জ) সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হলো: 
আবেদনকারী শিক্ষার্থী: মোট ৩ লাখের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষার ফলাফলে অসন্তুষ্ট হয়ে আবেদন করেছেন। মোট আবেদনপত্র (খাতা): একজন শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়ে আবেদন করায় মোট উত্তরপত্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখের বেশি।
চলতি ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল চ্যালেঞ্জ বা খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ১৩ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড সভাপতি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান সোমবার ( ১৭ আগস্ট,আবেদনের শেষ দিন) বিকেলে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি বলেন, এখানে মনে রাখা প্রয়োজন যে, ১৩ লাখ কিন্তু শিক্ষার্থীর সংখ্যা নয়। একজন শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের বা উত্তরপত্রের জন্য আবেদন করতে পারেন। ফলে এটি মূলত খাতা বা উত্তরপত্রের মোট সংখ্যা।
এদিকে খাতা পুনঃমূল্যায়নে এত বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়ায় সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে সোমবার (১৭ আগস্ট) জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ১৯৮০ সংশোধনের মাধ্যমে খাতা পুনঃমূল্যায়নের সুযোগ চালু করা হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রায় সব শিক্ষার্থীই পুনঃমূল্যায়নের আবেদন করলে বিপুলসংখ্যক খাতা আবার পরীক্ষা করা সরকারের জন্য বাস্তবসম্মত নয়।
তিনি বলেন, প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীর খাতা পুনরায় দেখতে হলে তা করা কার্যত অসম্ভব। তাই কোন ধরনের খাতা পুনঃমূল্যায়ন করা হবে এবং কোনগুলো হবে না, তা নীতিমালার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। ফলে পরীক্ষার খাতা পুনঃমূল্যায়নে নতুন নীতিমালা আসছে। 
এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এখন পর্যন্ত ১২ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এসব আবেদনের নিষ্পত্তি করে শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হবে। এজন্য সময় লাগবে। তিনি বলেন, বর্তমানে যেসব শিক্ষার্থী আবেদন করেছে, তাদের ক্ষেত্রে টেবুলেশন শিট ও নিরীক্ষার বিষয়গুলো দেখা হবে। যেসব খাতায় গুরুতর অসঙ্গতি বা সমস্যা পাওয়া যাবে, সেগুলোই মূলত গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, পুনঃমূল্যায়নের মাধ্যমে পরীক্ষকদের খাতা মূল্যায়নের মান সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যাবে। কোনো পরীক্ষক ঠিকভাবে খাতা দেখছেন কি না, নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অসঙ্গতি করছেন কি না, এসব বিষয়ও এতে যাচাই করা সম্ভব হবে। মূল্যায়নে সমস্যা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার কথাও জানান তিনি।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL