সঠিক তথ্য নিশ্চিত করতে পারলে গুজব ও অপতথ্য ঠেকানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, খুব দ্রুতই তথ্য কমিশন গঠন করা হবে এবং এই সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে তথ্য কমিশন ভবনে আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস’ এর আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, বিদ্যমান আইন অনুযায়ীই জনগণ তথ্য পাবেন। তবে কোনো নাগরিক যদি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সমস্যার সমাধান করতে না পারেন, সে ক্ষেত্রে তারা তথ্য কমিশনে আসতে পারবেন। তথ্য কমিশন গঠনের মূল লক্ষ্যই হলো জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা। তথ্য পাওয়ার অধিকার যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত বা ক্ষুণ্ন না হয় এবং প্রক্রিয়াটি যাতে স্বচ্ছ ও সঠিক থাকে, কমিশন সে উদ্দেশ্যে কাজ করবে। তিনি বলেন, অপতথ্য ও গুজব মোকাবিলায় কেবল জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধিই যথেষ্ট নয়, বরং একটি কার্যকর আইনি কাঠামোর প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব অপতথ্য ব্যক্তি বা সমাজের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি বয়ে আনে, তা রোধ করতে ডিজিটাল লিটারেসির পাশাপাশি কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী অপতথ্য ও গুজবের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, অপতথ্য, অসত্য তথ্য কিংবা গুজবের মাধ্যমে ব্যক্তি, দেশ, জাতি ও গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটিকে আর স্বাভাবিক ‘তথ্য’ হিসেবে গণ্য না করে ভিন্নভাবে চিহ্নিত করার সময় এসেছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ১৫ বছরে তথ্যকে বিকৃত করে অপতথ্য ও গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার চরমভাবে ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। অসত্য তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করে কীভাবে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা চালানো হয়েছিল, দেশবাসী তা প্রত্যক্ষ করেছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রভাবে মানুষ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে এবং ক্ষেত্রবিশেষে তা মানুষকে আত্মহননের দিকেও ঠেলে দিচ্ছে। এই অপতথ্যের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে নারী ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের মৌলিক অধিকার।