দেশে চলছে হাম-ডেঙ্গুর অসম প্রতিযোগিতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
  • একদিনে হাম-ডেঙ্গু কাড়ল শিশুসহ আরও ৭ প্রাণ 
  • হামে মৃত্যু বেড়ে ১০৫৩, একদিনে আক্রান্ত ১০২০
  • ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ১৭৮, একদিনে আক্রান্ত ১২৩২


রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব। প্রায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে হাম ও হামের উপসর্গে এবং এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে কেউ না কেউ নতুন করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন। প্রনিনিয়তই হাম ও হামের উপসর্গের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অসম প্রতিযোগিতায় ছুটছে প্রাণঘাতী ডেঙ্গুর প্রকোপ। প্রতিদিনই প্রাণঘাতী এ দুটি রোগে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি। দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ ও ডেঙ্গু কাড়ল ২ শিশুসহ ৭ জনের প্রাণ। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৫ শিশু ও ডেঙ্গুজ্বরে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০৫৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এদের সবাই শিশু। গত ২৪ ঘন্টায় প্রাণঘাতী এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে ১০২০ জন। অপরদিকে চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গেুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া একদিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১২৩২ জন। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম ও ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত পৃথক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২০ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৫৩ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০১ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে শনাক্ত হয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৬৬ জন। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ২০ হাজার ৪৭৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়াও ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশের হাসপাতালে মোট ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫৫৬ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৫১ হাজার ৩৯৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে বলা হয়, এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে একদিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ২৩২ জন। এ নিয়ে চলতি বছর মোট ভর্তি হলেন ৬০ হাজার ৩৭৯ জন। এছাড়া ডেঙ্গুতে মারা গেছেন আরও দুজন। যার ফলে এ বছর মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৭৮ জনে। মোট মারা যাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৭৮ জনের মধ্যে নারী ৫২ শতাংশ এবং পুরুষ ৪৮ শতাংশ।
মাসের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে, মার্চ ও এপ্রিলে শূন্য, মে মাসে এক ও জুনে ১৩ জন প্রাণ হারান। এরপর পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান। সেই তুলনায় চলতি মাসে অবস্থার গুরুতর অবনতি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত প্রাণহানি হয়েছে ৮১ জনের। এর মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ ৯ জন মারা যান ৮ সেপ্টেম্বর। ঢাকা বিভাগের ক্ষেত্রে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ৫৩, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ২৩ ও সিটি করপোরেশনের বাইরে ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সেই সঙ্গে খুলনায় ৩২, ময়মনসিংহে ১৮, বরিশালে ১৩, চট্টগ্রামে ১৬, রাজশাহীতে আট, রংপুরে চার ও সিলেটে একজন মারা গেছেন।
রোগীর মাসভিত্তিক হিসাব মতে, সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত ২৪ হাজার ৫৩৩ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আগের মাস আগস্টে এই সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৫৩৬ জন। এর আগে জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪, জুনে দুই হাজার ৯০৭ ও জুলাইতে নয় হাজার ২০৬ জন হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৭০ জন।
 

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL