পান-মসলার আড়ালে সন্দেহজনক মাদকের চালান জব্দ

এসএম দেলোয়ার হোসেন
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:

চট্টগ্রাম বন্দরে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ও নিবন্ধন তথ্য ব্যবহার করে আনা একটি চালান জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। কায়িক পরীক্ষায় চালান থেকে প্রায় সাড়ে ১৭ টন সন্দেহজনক তামাক, বিভিন্ন রঙের পাউডারজাত পদার্থ এবং স্ক্র্যাপ পেপার উদ্ধার করা হয়েছে।

কাস্টমস নথি সূত্রে জানা গেছে, কলকাতা থেকে ছেড়ে আসা ‘এমভি উদ্দীপন এক্সপ্রেস’ জাহাজে গত ২২ সেপ্টেম্বর চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। ‘অথয় এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নামে দুটি হাউজ বি/এলের মাধ্যমে এসব পণ্য আনা হয়। প্রথম বি/এলে পান মসলা ও জর্দা ঘোষণার বিপরীতে কায়িক পরীক্ষায় ৪৭০টি প্যাকেজ থেকে ৮ হাজার ২৫০ দশমিক ৪ কেজি তামাক ও তামাকসদৃশ সামগ্রী পাওয়া যায়। একই সঙ্গে বিভিন্ন রঙের পাউডারজাত পদার্থও উদ্ধার করা হয়েছে, যা দেখতে মাদকদ্রব্যের মতো সন্দেহজনক মনে হলেও রাসায়নিক ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ছাড়া এতে নিষিদ্ধ উপাদান রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অন্যদিকে দ্বিতীয় বি/এলে ১ হাজার ৫৭০ প্যাকেজ ‘প্রিন্টেড পেপার ক্যাটালগ’ আমদানির ঘোষণা দেওয়া থাকলেও কায়িক পরীক্ষায় সেখানে ৯ হাজার ২৬৩ কেজি সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ পেপার পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে দুই হাজার ৪০টি প্যাকেজে মোট ১৭ দশমিক ৫১ মেট্রিক টন পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে। ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের এমন বড় ধরনের অসামঞ্জস্যের বিষয়টি তদন্ত করছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, চালানের নথিতে আমদানিকারক হিসেবে দেখানো ‘অথয় এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী কাস্টমসকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন, তিনি বা তার প্রতিষ্ঠান এ আমদানির বিষয়ে কিছুই জানেন না। তার দাবি, কোনো অসাধু চক্র প্রতিষ্ঠানের নাম ও ব্যবসায়িক তথ্য অপব্যবহার করে এই চালান এনেছে। তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীনে ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলেও জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL