বঙ্গভবনে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল, ইসিতে বিএনপির মনোনয়নপত্র জমা

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

বাংলাদেশের তেইশতম রাষ্ট্রপতি পদে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে বিএনপি। সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধিত্বকারী ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, বাকি কেবল আনুষ্ঠানিকতার।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে এ মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা, সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন।

‘ঘোষণা ও বিবৃতিসহ’ মনোনীত প্রার্থীর সই, প্রস্তাবক ও সমর্থকের নাম, ঠিকানা, সই সম্বলিত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

দুপুর আড়াইটায় মনোনয়নপত্র নিয়ে নির্বাচন ভবনে আসেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, আখতারুজ্জামান মিয়া ও এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান; দলের যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী ও হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ প্রতিনিধি দল।

মনোনয়নপত্র গ্রহণকালে সিইসির সঙ্গে ইসি সচিব আখতার আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানান, আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের শুরুতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানেই বিএনপি মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির পদ থেকে সরে দাঁড়ান মির্জা ফখরুল।

বিএনপির পক্ষ থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল; দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে একই ব্যক্তির নামে। দুটি মনোনয়পত্রেরই প্রস্তাবক ও সমর্থক হলেন আবদুল মঈন খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তার দপ্তরে দুটি আবেদন দুপুরে জমা দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতি প্রার্থী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ঠিকানা কালিবাড়ী, ঠাকুরগাঁও।
মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকারীর নাম দেওয়া হয়েছে বিএনপির নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মঈন খান। সমর্থনকারী হলেন ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

বাংলাদেশের বাইশতম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গুরুতর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গেল ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন।

সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনে ভোট করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন গত ৬ অগাস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।

১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাতে ‘নির্বাচনি কর্তা’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হয়। মনোনয়নপত্রে প্রার্থীর নিজেরও সম্মতিসূচক সই থাকতে হয়।

মনোনয়নপত্র জমা ও যাচাই-বাছাইয়ের স্থান প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়। আর ভোট হবে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে।

বাছাইয়ে বৈধ প্রার্থী একজন হলে নির্বাচন কমিশন তাকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবে। তবে একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে তাদের মধ্যে ভোট হবে।

সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট হয়েছিল। এরপর থেকে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

৩৫ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো ভোট হচ্ছে এবার। বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এলডিপি প্রেসিডেন্ট অলি আহমদের মনোনয়নপত্র এদিনই জমা দিয়েছে বিরোধী জামায়াত জোট।

ভোটার ৩৪৯ জন
সংসদ কক্ষে ভোটের প্রস্তুতিমূলক সভাও হয়েছে। নির্বাচনি কর্তা ২০ আগস্ট সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য বেলা ২টায় সংসদ সদস্যের বৈঠক ডেকেছেন।

সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে একটি আসনে প্রার্থিতা বাতিল রয়েছে। সংরক্ষিত আসনে এমপি আছেন ৫০ জন। সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ সংসদে এবার ৩৪৯ জন এমপি রয়েছেন, যারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।
এরমধ্যে সংরক্ষিত আসন মিলিয়ে বিএনপির সংসদ্য সদস্য ২৪৭ জন; জামায়াতের ৭৭ জন।

এছাড়া স্বতন্ত্র ৮ জন, এনসিপির ৮ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৩ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ১ জন, বিজেপির ১ জন, গণসংহতি আন্দোলনের ১ জন, গণপরিষদের ১ জন, খেলাফত মজলিসের ১ জন এবং জাগপার ১ জন সদস্য রয়েছেন সংসদে।

সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে এমপিরা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। কেউ দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে।

চিফ হুইপ বলেন, “সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু সংশোধিত হয়নি, সুতরাং এটা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কার্যকর হবে।”

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত