শেষ হয়েও শেষ হচ্ছে না কূটনৈতিক জটিলতা। ফরেন সাংবাদিক ফোরামে রাজনৈতিক বক্তব্য বিষয়ক বিতর্ক। পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইস্যুটি চলমান। ভারতকে প্রতিবাদমূলক কড়া বার্তা দিয়েছিলো বাংলাদেশ। বিষয়টি ভারতের প্রধানমন্ত্রীসহ উচ্চমহলে আলোড়ন তোলে। পরদিনই উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চালানো হয়। বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী উদ্যোগী হন। সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাশে। কাশ্মিরী শাল উপহার দিয়ে সৌহার্দ্য রক্ষার আহ্বান জানান। ‘বিমসটেক সম্মেলন’ উপলক্ষে ভারত সফরের আহ্বান জানান। না, তারেক রহমান ইতিবাচক বা নেতিবাচক কিছু বলেননি। এই নীরবতা বিষয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। বিশেষ সূত্রমতে, সমঝোতা আটকে আছে ‘তিন জেনারেলে’। হাসিনাবাদী তিনজন সাবেক জেনারেল এখন পলাতক। ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রতিভূ হিসেবে তিনজনই পরিচিত। ঢাকায় আইসিটি আদালতে মামলার আসামী তিনজনই। যদিও তিনজনই ভারতের সামরিক আশ্রয়ে আছেন ‘জামাই আদরে’।
হাসিনা সরকারে এই ত্রিরত্ন ছিলেন প্রবল ক্ষমতাশালী। প্রথমজন সাবেক এসএসএফ প্রধান লে. জে. মুজিবুর রহমান। ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানকালে কাউন্টার অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টাকারী। জে. ওয়াকারবিরোধী জেনারেল হিসেবেও পরিচিত। দ্বিতীয়জন সাবেক ডিজিডিএফআই জে. আকবর হোসেন। শেখ হাসিনার ২০১৮-এর নৈশভোটের মহাকুশীলব। সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে অপমানকারী। এমনকি প্লেনে উঠিয়ে দিয়ে বিদেশে প্রেরণকারী। তৃতীয়জন সাবেক সামরিক সচিব জে. কবির আহমদ। জুলাই আন্দোলনকালে সরাসরি গুলিবর্ষণের নির্দেশদাতা।
তিনজনই বরখাস্ত বা অকালে চাকরিচ্যুত।
মিয়ানমারে সামরিক তথ্য পাচারের অভিযোগ!
২০২৪-এর ৫ আগস্টের পর তিনজনই গোপনে ভারতে পলায়নকারী। অসংখ্য অনিয়মের অপরাধে বাংলাদেশ তাদের ফেরৎ চায়। পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার নিউটাউন ও সল্টলেকে ছিলো অবস্থান। ভারতীয় আর্মির সাউথ ব্লকের অভিভাবকত্বে ছিলো বসবাস। কিন্তু ঢাকায় আইসিটি মামলা রুজু হলে বদলে যায় অবস্থান। পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড তাদের সুরক্ষিত অবস্থানে পাঠায়। প্রত্যেকের সঙ্গে রয়েছে পরিবারের সদস্যরাও।
তারেক সরকারের প্রতিরক্ষা বিভাগ তাদের বিষয়ে উদ্বিগ্ন। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর ছায়াতলে সেই হাইপ্রোফাইল জেনারেলরা। বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সব গোপন তথ্য তাদের জানা। সেগুলো পুরোপুরি ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে বলে অভিযোগ। শুধু ভারত নয়, তথ্য পেয়েছে মিয়ানমারও। জান্তা সরকারের সেনাপ্রধান ভারত সফর করেন গত মে মাসে। সে সময়ে বাংলাদেশ বিষয়ক ফাইল হস্তান্তরিত হয়। এরপর থেকে বার্মা সীমান্তে তৈরি হয় নতুন চাপ। ‘আরাকান আর্মি’ ঠেকানোর নামে চলছে উস্কানিমূলক আক্রমণ। মিয়ানমার বলছে আরাকান আর্মির প্রধান বাংলাদেশে চিকিৎসা নিচ্ছে। তাদের পোশাকও তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশের গার্মেন্টস-এ। ঢাকা প্রশাসন অভিযোগ অস্বীকার করলেও বিরোধ থামছে না।
ভারতের সরাসরি সহযোগিতায় অভিযান চালাচ্ছে মিয়ানমার। উত্তর-পূর্ব ভারতের সেভেন সিস্টার্সের রাজনীতিতে নতুন সংযোজন। বাংলাদেশের কক্সবাজার, উখিয়া, টেকনাফ মহাবিপদে। মৎস্যচাষীদের ট্রলার হাইজ্যাক হয়েছে কয়েকটি। বাংলাদেশের গোয়েন্দা বিভাগ দিচ্ছে নতুন আশংকার সংবাদ। উত্তর ও দক্ষিণ দিক থেকে দ্বিমুখী আক্রমণে পড়তে পারে বাংলাদেশ। সেক্ষেত্রে বিতর্কিত তিন জেনারেলের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো হচ্ছে। এজন্যে প্রতিরক্ষা বিভাগ তাদের দ্রুত প্রত্যাবর্তন চায়।
তারেক সরকারের নতুন ডিজিডিএফআই কায়সার রশিদ চৌধুরী। নিয়োগ পেয়েই তিনি প্রথম সফরে ভারত যান। নিজের শরীরের চেকআপও করান। তবে বিতর্কিত জেনারেলদের ফেরাতে সক্ষম হননি। ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলোচনা চলছে। শহীদ হাদী হত্যার আসামীরাও ভারতে পলাতক, আটকও। বন্দিবিনিময় চুক্তির অধীনে তাদের ফেরানোর আলোচনা চলমান। তবে আসামী তিন জেনারেলকে নিয়ে মুখ খুলছে না ভারত। এ বিষয়ে অগ্রগতি না হওয়ায় তারেক সরকার আছে দ্বিধায়।
আগামী ১২ সেপ্টেম্বর ‘বিমসটেক সম্মেলন’ উপলক্ষে ভারতে আমন্ত্রণ। হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীও সফর নিয়ে আশাবাদী। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জিতলে প্রথম আমন্ত্রণ জানায় ভারত। প্রধানমন্ত্রী মোদী স্বয়ং তারেক রহমানকে ফোন দেন। বলেন দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বিষয় অনেক। ফারাক্কা পানিচুক্তির নবায়ন আসছে ডিসেম্বরে। সীমান্ত, আমদানি-রপ্তানি ও ভিসা সমস্যা দূরীকরণ জরুরি। তারপর রয়েছে শেখ হাসিনা প্রত্যার্পণ ইস্যু।
বিশেষ সূত্রমতে ‘তিন জেনারেলের প্রত্যাবর্তনে’ আটকে আছে বাংলাদেশ। যা নিয়ে ভারত রহস্যজনকভাবে নীরব। ‘র’ প্রধান পরাগ জৈন ও ‘স্পেশাল প্রটেকশন জোন’ ঢাকা এলো। শেখ হাসিনার ‘ঢাকা নিরাপত্তা’ নিয়ে আলোচনা করলো। তবে অসমাপ্ত থেকে গেলো বাংলাদেশের প্রধান চাওয়াটি। জে. মুজিব, আকবর, কবির-কে নিয়ে চলছে কূটনীতির গোপন খেলা। তাদের ফেরাতে না পারলে জুলাইযুদ্ধের বিচার অধরা থাকবে। অসংখ্য অপরাধ ঢেকে যাবে বিচারহীনতার কচুরিপানায়। সেক্ষেত্রে তারেক সরকারের প্রতি সচেতনমহলের প্রত্যাশা অনেক। সূত্র : ঠিকানা নিউজ