- দীনেশ ত্রিবেদীর আকস্মিক দিল্লি সফর
- হাসিনাকে ফেরত না পাঠানোর ভারতের আইনি অবস্থান
- ডিসেম্বরের ‘ফেরার ঘোষণা’ ঘিরে নতুন সমীকরণ
শেখ হাসিনাকে ঘিরে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। একদিকে ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ঢাকার চাপ অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে নয়াদিল্লি বলছে, বিষয়টি এখন একটি ‘আইনি প্রক্রিয়ার’ মধ্যে রয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো সময়সীমা দেওয়া সম্ভব নয়। এর মধ্যেই ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর আকস্মিক দিল্লি সফর এবং সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠের সঙ্গে বৈঠক নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
গত ৬ অক্টোবর দিল্লিতে ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠের সঙ্গে বৈঠক করেন দীনেশ ত্রিবেদী। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একই দিনে ত্রিবেদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও বৈঠক করেন। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে ভারতীয় ও বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দুই দেশের সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও আলোচনায় বিষয়টি এসেছে। তবে মোদির সঙ্গে বৈঠকে শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
ত্রিবেদীর দিল্লি সফরের সময়টি অবশ্যই তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এর মাত্র তিন দিন আগে ৩ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এর এক অধিবেশনে শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে ভারতের অবস্থান বেশ স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরেন তিনি। ‘পাওয়ার অ্যান্ড প্রুডেন্স: ম্যানেজিং গ্রেট-পাওয়ার কমপিটিশন উইদাউট কনফ্লিক্ট’ শীর্ষক আলোচনায় ত্রিবেদী বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান ভারতে অবতরণের অনুমতি দেওয়া ছাড়া ভারতের ‘প্রায় কোনো বিকল্প ছিল না’। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং ভারত প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ‘বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার’ দায়িত্ব থেকেই তাকে গ্রহণ করেছিল। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, ত্রিবেদী স্পষ্ট করে বলেন, শেখ হাসিনাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে যায়নি। তাকে বহনকারী বিমানটি ছিল বাংলাদেশের সামরিক বিমান। অর্থাৎ ভারত নিজ উদ্যোগে কোনো সামরিক অভিযানের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে নিয়ে যায়নি—এ কথাটিই তিনি জোর দিয়ে তুলে ধরেছেন।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের প্রশ্নেও ত্রিবেদীর বক্তব্য ছিল অত্যন্ত সতর্ক। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি একটি ‘সুশৃঙ্খল আইনি প্রক্রিয়ার’ মধ্যে রয়েছে এবং আদালতও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে তাকে কখন বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা দেওয়া সম্ভব নয়। ভারতের পক্ষ থেকেও এর আগে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধ নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এখানেই মূল প্রশ্ন—দিল্লি কি শেখ হাসিনার বিষয়ে আগের অবস্থানেই অনড়, নাকি সম্পর্কের বৃহত্তর স্বার্থে নতুন কোনো সমাধানের পথ খুঁজছে?
ভারতের বর্তমান অবস্থান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শেখ হাসিনার বিষয়টি নয়াদিল্লির কাছে নিছক একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ের প্রশ্ন নয়। গত দেড় দশকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা, উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ, বাণিজ্য, ট্রানজিট ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায় দিল্লি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পেয়েছে। ফলে শেখ হাসিনার পতনের পর সেই পুরোনো সম্পর্কের কাঠামো ভেঙে যাওয়ায় ভারতকে এখন একই সঙ্গে নতুন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং পুরোনো রাজনৈতিক অংশীদারের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। এই দ্বিধার প্রতিফলন পাওয়া গেছে আন্তর্জাতিক সাময়িকী দ্য ডিপ্লম্যাট-এ প্রকাশিত ‘ইন্ডিয়াস শেখ হাসিনা ডিলেমা’ শীর্ষক বিশ্লেষণেও। সেখানে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের সামনে সহজ কোনো পথ নেই। তাকে ভারতে রেখে দিলে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের ওপর চাপ তৈরি হয়; আবার বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করলে ভারতের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক কৌশল ও রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর বড় প্রভাব পড়তে পারে।
তবে এটি দ্য ডিপ্লম্যাট-এর বিশ্লেষণ, ভারতের সরকারি নীতি নয়—এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। দিল্লির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো হচ্ছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বাংলাদেশের অনুরোধ অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়ায় বিবেচনাধীন। ফলে কোনো তৃতীয় দেশে তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভারত নিয়েছে—এমন কোনো সরকারি তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
তবে ভারতীয় কূটনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মহলে এ ধরনের বিকল্প নিয়ে আলোচনা যে একেবারে নেই, তা-ও বলা যায় না। কারণ শেখ হাসিনাকে দীর্ঘদিন ভারতে রাখা যেমন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে, তেমনি তাকে সরাসরি বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্তও দিল্লির জন্য বড় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সেই জায়গা থেকেই মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপের কোনো নিরাপদ দেশে তার ভবিষ্যৎ অবস্থানের মতো বিকল্প নিয়ে আলোচনা সামনে আসছে।
এর বিপরীতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা আরও জটিল। শেখ হাসিনা নিজেই আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। গত জুলাইয়ে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, তিনি এবং আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে ফিরে এসে আদালতের মুখোমুখি হতে চান। পরবর্তী সময়েও তিনি বিভিন্ন বক্তব্যে ডিসেম্বরের মধ্যে ফেরার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
অর্থাৎ একদিকে দিল্লি বলছে, প্রত্যর্পণের বিষয়ে কোনো সময়সীমা দেওয়া সম্ভব নয়; অন্যদিকে শেখ হাসিনা নিজেই আগামী ডিসেম্বরকে সম্ভাব্য ফেরার সময় হিসেবে সামনে রাখছেন। এই দুই অবস্থানের মধ্যে তৈরি হয়েছে একটি কূটনৈতিক অসামঞ্জস্য, যার রাজনৈতিক অভিঘাত বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও পড়ছে।
শেখ হাসিনার ভারত অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশের সংবেদনশীলতা গত কয়েক মাসে আরও বেড়েছে। বিশেষ করে দিল্লি থেকে তার রাজনৈতিক বক্তব্য, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্য এবং দেশে ফেরার ঘোষণা ঢাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। গত আগস্টে দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার পরও ঢাকা ভারতের কাছে অসন্তোষ জানিয়েছিল। ভারত অবশ্য ওই অনুষ্ঠানের আয়োজনের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে এবং শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্যকে ভারতের সরকারি অবস্থান হিসেবে না দেখার কথা জানায়।
এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অবস্থানও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দেশে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও সাবেক সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা, গ্রেপ্তার এবং আত্মগোপনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ এবং শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা—দুই বিষয় এখন পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।
গত ৪ অক্টোবর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তানজানিয়ায় ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়ার আগে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের কাছে আওয়ামী লীগের কারাবন্দী সাবেক সংসদ সদস্যদের নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাব দেন। আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সরকার অবিচার করছে এবং কারাগারে তাদের ভালো খাবার দেওয়া হচ্ছে না—এমন অভিযোগকে তিনি মনগড়া ও ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন।
স্পিকারের এই বক্তব্যকে কেবল একটি বিচ্ছিন্ন মন্তব্য হিসেবে দেখলে বিষয়টির রাজনৈতিক তাৎপর্য পুরোপুরি ধরা পড়ে না। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলের নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ন এবং কারাবন্দীদের অবস্থা নিয়ে যে বয়ান আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরা হচ্ছে, তার বিপরীতে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকেও পাল্টা বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক লড়াই এখন অনেকাংশেই দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক জনমত ও কূটনৈতিক পরিসরে পৌঁছে গেছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। বাংলাদেশের কারাগারে ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত বন্দী থাকার বিষয়টি দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিচারাধীন বন্দীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় কারাগার ব্যবস্থাপনায় চাপও রয়েছে। কিন্তু এসব বাস্তবতার সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক যোগাযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতার অভিযোগকে এক করে দেখার ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রমাণভিত্তিক অবস্থান প্রয়োজন। কারাগার থেকে দলীয় নেটওয়ার্ক পরিচালনা, অর্থনৈতিক লেনদেন কিংবা সাংগঠনিক নির্দেশনা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ থাকলে সেগুলোরও নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ করা জরুরি।
তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা হলো, আওয়ামী লীগের একটি অংশ এখনো শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে কেন্দ্র করেই ভবিষ্যৎ রাজনীতির হিসাব করছে। অন্যদিকে বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে। ফলে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে তা শুধু একটি আইনি ঘটনা হবে না; বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের নতুন সংঘাত, সমঝোতা কিংবা পুনর্বিন্যাসের সূচনা করতে পারে।
এখানেই ভারতের দ্বিধাটিও সবচেয়ে প্রকট। শেখ হাসিনাকে ভারতে রেখে দিলে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে বারবার এই ইস্যুটি ফিরে আসবে। তাকে প্রত্যর্পণ করলে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ নিয়ে দিল্লির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক হিসাব নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়বে। আর তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলে সেটিও হবে একটি বড় কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত—যার জন্য বাংলাদেশ, ভারত এবং আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় নিতে হবে।
দীনেশ ত্রিবেদীর ৩ অক্টোবরের বক্তব্য এবং ৬ অক্টোবরের দিল্লি সফরকে তাই বিচ্ছিন্ন দুটি ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ কম। ৩ অক্টোবর তিনি ঢাকায় শেখ হাসিনাকে গ্রহণের সিদ্ধান্তকে ভারতের ‘প্রায় কোনো বিকল্প না থাকা’র বাস্তবতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিন দিনের মাথায় দিল্লিতে গিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদি ও সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে এসব বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কথা বলা হলেও, একই সময়ে শেখ হাসিনা ইস্যুতে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে যে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে, সেটিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করাও কঠিন। আর ত্রিবেদী নিজেও বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে পানি, বাণিজ্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, যোগাযোগ ও পরিবহনসহ সব অমীমাংসিত বিষয়ে ধারাবাহিক সংলাপ প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, কোনো বিষয় লুকিয়ে রাখার বা আলোচনা না করার অর্থ নেই; আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে।
ফলে শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে দিল্লির সামনে এখন তিনটি সমান্তরাল হিসাব—ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে আইনি ও কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখা এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারতের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করা। এই তিনটি স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন দিল্লির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। আর শেখ হাসিনার ডিসেম্বরের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা সেই পরীক্ষাকে আরও কঠিন করে তুলেছে। ত্রিবেদীর সাম্প্রতিক দিল্লি সফর তাই শুধু একটি নিয়মিত কূটনৈতিক পরামর্শ বৈঠক, নাকি শেখ হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশ নিয়ে দিল্লির নতুন কৌশল নির্ধারণের অংশ—এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সবচেয়ে বড় কথা, শেখ হাসিনা এখন আর শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির একটি চরিত্র নন। তাকে ঘিরে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক, ভারতের আঞ্চলিক নিরাপত্তা হিসাব, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ, বাংলাদেশের নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতি—সবকিছু এক বিন্দুতে এসে মিলেছে। ফলে সামনে যতই ডিসেম্বর এগিয়ে আসবে, শেখ হাসিনাকে ঘিরে দিল্লির সিদ্ধান্তও তত বেশি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্ব পাবে।