সাত মাসে দেশে ২৫৮ জন নারী এবং ৮৩টি কন্যাশিশু হত্যার শিকার : মহিলা পরিষদ

| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:

গত সাত মাসে দেশে ২৫৮ জন নারী এবং ৮৩টি কন্যাশিশু হত্যার শিকার হয়েছে বলে এক পরিসংখ্যানে তুলে ধরেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত এক মানববন্ধনে সংগঠনটি এ তথ্য তুলে ধরে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, দেশের ১৪টি সংবাদপত্রের প্রতিবেদন থেকে তারা এ তথ্য সংকলন করেছেন।

তিনি বলেন, এই সাত মাসে যে ৩৪১ নারী ও কন্যাশিশু হত্যার শিকার হয়েছে, তার মধ্যে ৬৩টি ঘটনা ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত।

“অন্যান্য হত্যাকাণ্ডের পেছনে জমিজমা, মামলা-মোকদ্দমা ও পারিবারিক বিরোধসহ বিভিন্ন কারণ রয়েছে। দেশের সব সংবাদমাধ্যমের তথ্য পাওয়া গেলে নারীর প্রতি সহিংসতার প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ হতে পারে।”

ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারীসহ সমাজের সব মানুষের মানবাধিকার নিশ্চিত করা এবং বৈষম্য দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। নারীদের ভয় দেখিয়ে ঘরে ফেরানো যাবে না।

“নারীরা তাদের অধিকার আদায়ে সংগঠিত থাকবে। নারী হত্যা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার থাকব এবং এমন একটি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য কাজ করব, যেখানে নারীকে হত্যা, ধর্ষণ বা নির্যাতনের শিকার হতে হবে না।”

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ৬৬৭ জন নারী ও কন্যাশিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এ সময়ে ২৯১ জন নারী ও কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।

“এসব ঘটনা প্রমাণ করে, নারী ও শিশুরা দেশের কোথাও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই সহিংসতার প্রবণতা আমরা কমাতে পারছি না।”

নারী ও শিশুর প্রতি প্রতিটি সহিংসতার ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান মালেকা বানু।

নারী ও শিশুর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে অঙ্গীকার করেন সংগঠনের নেতারা।

সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম, আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি, সাংগঠনিক সম্পাদক কানিজ ফাতেমা টগরসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর কমিটির নেতারা কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
 

এলাকার খবর

সম্পর্কিত