রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চাঁনমিয়া হাউজিং এলাকায় বাসার গ্রিল কেটে ১৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় জড়িত চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ সময় চোরাই টাকায় কেনা একটি নতুন অটোরিকশা উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
ডিএমপি জানায়, গত ২৪ জুলাই রাত ১১টা থেকে ২৫ জুলাই ভোর ৫টার মধ্যে মোহাম্মদপুর থানাধীন চাঁনমিয়া হাউজিংয়ের রোড নম্বর ৩-এ অবস্থিত একটি বাসার নিচতলায় চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা বাসার পেছনের গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে গৃহকর্তা গোলাম মোস্তফার নগদ ১৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের ১৪ আনা ওজনের ২টি স্বর্ণের চেইন, ৬ আনা ওজনের ২টি আংটি, ৪ আনা ওজনের ২টি কানের দুল ও ৮ আনা ওজনের ২টি বালাসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। ঘটনার পর তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে এক জোড়া কালো রঙের টাইপযুক্ত স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়। চোরেরা পেছনের পথ ব্যবহার করায় প্রাথমিকভাবে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন গোপন উৎসের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার পরদিন সকালে সানি, রাসেল ও সুমন নামে তিনজনকে প্রচুর নতুন টাকা নিয়ে ঘোরাঘুরি করতে এবং স্থানীয় দোকানে খরচ করতে দেখা যায়। তাদের একজন দোকানদারের কাছে বন্ধক থাকা মোবাইল ৫০০ ও ২০০ টাকার নোট দিয়ে ছাড়িয়ে নেয়ার পাশাপাশি বকশিশও দেয়। এই তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা, বরিশাল ও ভোলাসহ বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালায় পুলিশ। গত ১৯ সেপ্টেম্বর প্রথমে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে সোপর্দ করা হলে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
জবানবন্দিতে সুমন জানায়, মানিককে মূল পরিকল্পনাকারী করে তারা চারজন- সুমন, রাসেল, সানি ও মানিক মিলে চুরির ঘটনা ঘটায়। মানিক বর্তমানে অন্য একটি মামলায় কারাগারে থাকায় তাকে এ মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখানোর জন্য আবেদন করা হয়েছে। সুমনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত রোববার রাতে কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে পলাতক অপর দুই আসামি রাসেল ও সানিকে আটক করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা চুরির কথা স্বীকার করে জানায়, চুরি করা টাকা তারা সাড়ে চার লাখ টাকা করে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। পরে সেই টাকা দিয়ে ঘরের আসবাবপত্র কেনা, জুয়া খেলা ও মাদক সেবনে খরচ করে। আসামি রাসেল চুরির টাকায় একটি নতুন অটোরিকশা তৈরি করে, যা পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার কোন দোকানে বিক্রি করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা জানতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার করা হচ্ছে বাকি মালামালও।