সরকারি দপ্তরের কাজ ডিজিটাল ও গতিশীল করতে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে আয়োজন করা হয়েছিল ডি-নথি ও ওয়েবপোর্টাল বিষয়ক প্রশিক্ষণ। দুই দিনের এ প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি হিসাব থেকে উত্তোলন করা হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, তারা কোনো প্রশিক্ষণ ভাতা পাননি। একই সঙ্গে উত্তোলন করা অর্থের খাতভিত্তিক ব্যয় সম্পর্কেও তাদের জানানো হয়নি।
এ নিয়ে প্রশিক্ষণের আর্থিক ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খাবার সরবরাহ, প্রশিক্ষণে প্রকৃত অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা এবং ভাতা বাবদ বরাদ্দ নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ জুন উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রশিক্ষণের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয় ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। দ্বিতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণ নির্ধারিত ছিল ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দুই দিন প্রশিক্ষণে উপস্থিত থাকার পরও তারা কোনো ভাতা পাননি। ভাতা বাবদ বরাদ্দ ছিল কি না, থাকলে কত টাকা—এ বিষয়েও তাদের স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।
তাদের প্রশ্ন, আড়াই লাখ টাকা উত্তোলনের পর কোন খাতে কত টাকা ব্যয় করা হয়েছে? প্রশিক্ষণ ভাতা, খাবার ও অন্যান্য খাতে ব্যয়ের হিসাব কী? খাবার সরবরাহ নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।
অংশগ্রহণকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম দিন সকালে নাস্তা ও দুপুরে এক প্যাকেট বিরিয়ানি দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দিন সকালে হালকা নাস্তা দেওয়া হলেও দুপুরের আগেই প্রশিক্ষণ শেষ করা হয়।
এ ছাড়া নির্ধারিত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ছুটিতে থাকায় প্রশিক্ষণে উপস্থিত ছিলেন না বলেও জানা গেছে। ফলে নির্ধারিত ও প্রকৃত অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ব্যয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প সভাপতি ও আঠারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুবের আলম কবীর রূপক বলেন, ‘আমি শুধু কাগজে-কলমে প্রকল্প সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।’
তিনি জানান, কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে, কতজন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, কী খাবার দেওয়া হয়েছে কিংবা কাকে কত টাকা ভাতা দেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না। এসব বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাই ভালো বলতে পারবেন বলে জানান তিনি।
প্রশিক্ষণে ডি-নথি ও ওয়েবপোর্টাল বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন উপজেলা আইসিটি অফিসার আশরাফুল খালেক আলমগীর। সরকারি নথি ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল করার লক্ষ্যেই এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
তবে প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যের পাশাপাশি এখন সামনে এসেছে ব্যয়ের স্বচ্ছতার বিষয়টি। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিল-ভাউচার, অংশগ্রহণকারীদের তালিকা, খাবার সরবরাহের হিসাব এবং ভাতা বিতরণের নথি যাচাই করলেই ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তা স্পষ্ট হবে।
প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা দেওয়ার বিধান ছিল কি না, থাকলে কত টাকা বরাদ্দ ও বিতরণ করা হয়েছে, খাবারে কত টাকা ব্যয় হয়েছে এবং প্রকৃত অংশগ্রহণকারী কতজন—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন সংশ্লিষ্ট নথিতেই খুঁজছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমানের বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।