কাপ্তাইয়ে ধনিয়া চাষে কৃষকের ঘাম, খরচের তুলনায় মিলছে না কাঙ্ক্ষিত লাভ

রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:


রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে ধনিয়া চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। জমি প্রস্তুত, বীজ বপন, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ থেকে শুরু করে নিয়মিত পরিচর্যা সব মিলিয়ে ধনিয়া চাষে কৃষকদের দিতে হচ্ছে দিন-রাত পরিশ্রম। তবে উৎপাদন খরচ ও শ্রমের তুলনায় বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় অনেক কৃষকের মুখে দেখা দিয়েছে হতাশা।স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধনিয়া চাষে জমি প্রস্তুত করা, বীজ, সার,কীটনাশক, ওষুধ এবং শ্রমিকের মজুরিসহ বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়। পাশাপাশি জমিতে নিয়মিত পরিচর্যা করতে হয়। সামান্য অবহেলা হলে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে অনেক সময় বাড়তি ওষুধ ও পরিচর্যার খরচও বহন করতে হয় কৃষকদের।


একজন স্থানীয় কৃষক জানান, প্রতিদিন একটি জমি থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কেজি ধনিয়া সংগ্রহ করে বাজারজাত করা সম্ভব হয়। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ধনিয়া প্রায় ৪০ টাকা দরে বিক্রি হলে ২৫ কেজিতে আয় হয় প্রায় ১ হাজার টাকা এবং ৩০ কেজিতে প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা। কিন্তু এ আয় থেকে বীজ, সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি, জমি প্রস্তুত ও অন্যান্য খরচ বাদ দিলে কৃষকের হাতে প্রকৃত লাভ থাকে খুবই কম।কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন পর্যায়ে তাদের কাছ থেকে তুলনামূলক কম দামে ধনিয়া কিনে ব্যবসায়ীরা পরে বাজারে বেশি দামে বিক্রি করছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো ক্ষেত্রে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ধনিয়া ১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা যায়। এতে উৎপাদনের মূল ঝুঁকি ও শ্রম বহন করেও কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ তাদের।কৃষকরা বলছেন, ধনিয়া চাষ শুধু অর্থনির্ভর নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাদের দীর্ঘ সময়ের শ্রম ও পরিশ্রম। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমিতে কাজ করেও যদি উৎপাদন খরচের সঙ্গে বিক্রয়মূল্যের সামঞ্জস্য না থাকে, তাহলে কৃষকের আগ্রহ কমে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।তাদের মতে, উৎপাদন খরচ কমানো এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কাপ্তাইয়ে ধনিয়া চাষ আরও লাভজনক হতে পারে। একই সঙ্গে কৃষকদের সরাসরি বাজারজাতের সুযোগ তৈরি হলে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরশীলতাও কমবে।কৃষকদের দাবি, ধনিয়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে স্থানীয় বাজারে কার্যকর নজরদারি, সরাসরি বাজারজাতের ব্যবস্থা এবং কৃষি উপকরণের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।কৃষকদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর সহযোগিতা ও বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নতি হলে ধনিয়া চাষে কৃষকের শ্রমের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত হবে। এতে কাপ্তাইয়ের কৃষকরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি স্থানীয়ভাবে ধনিয়ার উৎপাদনও আরও বাড়বে।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL