* অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে একে অপরকে দুষছে দুই সশস্ত্র সংগঠন
* হামলা-গুলি আতঙ্কে পর্যটক-পাহাড়িরা, সংকট নিরসনে কমিটি গঠন
* অব্যাহত অবরোধে থমকে আছে সাজেকের পর্যটন ব্যবসা
“সাজেকে ইউপিডিএফ ও জেএসএসের আধিপত্য বিস্তারের লড়াইকে কেন্দ্র করেই মূলত এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসার চেষ্টা চলছে। যৌক্তিক দাবি গ্রহণ করা উচিত”
— উজ্জল দেব, সদস্য ই-ট্যুরিজম অ্যাসেসিয়েশন
“সাজেকের বিভিন্ন সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিজিবি, পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহলও জোরদার রয়েছে”
— তফাজ্জল হোসেন, অফিসার ইনচার্জ (ওসি), সাজেক থানা
বাংলাদেশের অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূ-স্বর্গ ও লাল পাহাড়ির দেশ হিসেবে পরিচিত রাঙামাটির পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে এখনও আতঙ্ক কাটেনি। নিরসন হয়নি চলমান সংকট। টানা চার দিন ধরে অবরুদ্ধ রয়েছে পর্যটনকেন্দ্রটি। এর মধ্যে পাঁচ দফা দাবিতে আধাবেলা অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে ইউপিডিএফ সমর্থিত ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ। কর্মসূচির কারণে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলায় সড়ক ও নৌ যোগাযোগ বন্ধ ছিল। অবরোধ চলাকালে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙায় সড়কে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে মহড়া দিচ্ছে স্থানীয় পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। এমন দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ায় উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পাহাড়ি জনপদ। একের পরন এক হামলা-পাল্টা হামলা আর গোলাগুলিতে অশান্ত পাহাড়ে শান্তির বাতাস ফুরিয়ে যাচ্ছে। এতে স্থানীয় সাধারণ পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অব্যাহত অবরোধের মুখে পর্যটনশূন্য হওয়ায় ধস নেমেছে পর্যটন ব্যবসায়। হঠাৎ করেই দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আর কর্মসূচিতে অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে সাজেকের বিস্তির্ণ জনপদ। এমন পরিস্থিতিতে সংকট নিরসনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ই-ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন ও স্থানয়ী পর্যটক ব্যবসায়ীদের মতে, সাজেকে ইউপিডিএফ ও জেএসএসের আধিপত্য বিস্তারের লড়াইকে কেন্দ্র করেই মূলত এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসার চেষ্টা চলছে। যৌক্তিক দাবি গ্রহণ করা উচিত। এদিকে পুলিশ বলছে, সাজেকের বিভিন্ন সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিজিবি, পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহলও জোরদার রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি লাল পাহাড়ির দেশ রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র ‘সাজেক’ বৃহত্তম একটি ইউনিয়ন, যার আয়তন প্রায় ৭০২ বর্গমাইল (প্রায় ১,৮১৭ বর্গকিলোমিটার বা কোনো কোনো সূত্রে প্রায় ১,০০১ বর্গকিলোমিটার)। সাজেক নির্দিষ্ট কোনো একটি একক পাহাড় নয়; এটি কাসালং পর্বতশ্রেণীর অন্তর্গত অসংখ্য ছোট-বড় পাহাড় ও উপত্যকা নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে প্রধান ও উল্লেখযোগ্য দুটি চূড়া বা পাড়া হলো- রুইলুই পাড়া এবং ১৮০০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট কংলাক পাহাড় (যা সাজেকের সর্বোচ্চ চূড়া)। ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী সাজেক ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা ৩১,৩৮৫ জন। এখানে প্রধানত লুসাই, পাংখোয়া, ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। এখানকার অধিবাসীদের মূল পেশা হলো কৃষি (বিশেষ করে জুম চাষ, ফল ও সবজি চাষ)। পাশাপাশি ইদানীং পর্যটন শিল্পের বিকাশের কারণে এলাকার অনেক মানুষ পর্যটন ব্যবসা, রিসোর্ট ও কটেজ পরিচালনা এবং জিপ (চাঁদের গাড়ি) চালনার সাথে যুক্ত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ে কয়েকটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- কেএনএফ, ইউপিডিএফ, জেএসএস। তবে সাজেকে বেশি তৎপর রয়েছে ইউপিডিএফ ও জেএসএস। এলাকার দখল, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও মুক্তিপণই সশস্ত্র সন্ত্রাসীগুলোর মূল টার্গেট। পাহাড়ের আধিপত্য ধরে রাখতে প্রায়ই দু’গ্রুপের সশস্ত্র সংঘাত লেগেই থাকে। ভাগ-বাটোয়ারার হিসাব না মিললেই উভয়গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দিয়ে সাজেক উত্তপ্ত বা অশান্ত করে তুলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের মধ্যই সর্বশেষ গতকাল রোববার টানা চতুর্থ দিনের মত সাজেকের সড়কে কয়েকটি স্থানে গাছ ফেলে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চালায় অবরোধকারীরা। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় তা ব্যর্থ হয়। এদিকে, অবরোধের কারণে যান চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা। সংকট নিরসনে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আলোচনা চালানোর চেষ্টা চলছে। আধাবেলা অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। কর্মসূচির সমর্থনে সড়কে পিকেটিং করেন আন্দোলনকারীরা। অবরোধ চলাকালে মাটিরাঙায় সড়কে অস্ত্র হাতে একদল ব্যক্তিকে সশস্ত্র মহড়া দিতে দেখেন স্থানীয়রা। এ দৃশ্যও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, অস্ত্রধারীরা সবাই ইউপিডিএফের সদস্য। এ ছাড়া সাত থেকে আটটি স্থানে সড়কে গাছ ফেলে যান চলাচল বন্ধ করার চেষ্টা চালানো হয়। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় এসব চেষ্টা সফল হয়নি।
স্থানীয় ও পুলিশের তথ্য বলছে, চলতি বছরের গত ২২ অক্টোবর রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকের উজোবাজার ও গঙ্গারাম বাজার এলাকায় অবরোধকারীদের সঙ্গে সেনাবাহিনী ও পুলিশের গুলিবিনিময় হয়। এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর ৬ জন এবং পুলিশের ২ জনসহ মোট ৯ জন নিরাপত্তা সদস্য আহত হন। সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় সেখানে আটকে পড়া প্রায় ৩ হাজার পর্যটককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কায় কিসলু বলেন, এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। সদর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের টহল অব্যাহত রয়েছে।
জানা যায়, অবরোধের কারণে দুই জেলায় সড়কে যান চলাচল ছিল সীমিত। খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি থেকে দূরপাল্লার কোনো গাড়ি ছেড়ে যায়নি। এতে যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে বিপাকে পড়েন পর্যটকেরাও। পাঁচ দফা দাবিতে আধাবেলা অবরোধের ডাক দেয় ইউপিডিএফ সমর্থিত ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ। সংগঠনটির দাবি, লাঠিপেটা, গুলিবর্ষণ, দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উষাতন চাকমা বলেন, এসব ঘটনার প্রতিবাদেই আধাবেলা অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। তবে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের কর্মসূচির বিরোধিতা করেছে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, এ কর্মসূচির কোনো ভিত্তি নেই। এটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক।
অন্যদিকে, অনির্দিষ্টকালের অবরোধের কারণে কার্যত বন্ধ রয়েছে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র। এতে পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংকট নিরসনে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালানোর চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের প্রত্যাশা, আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধান হবে এবং পর্যটনকেন্দ্রটির কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।
খাগড়াছড়ির ব্যবসায়ী নেতা জাহেদুল আলম বলেন, আলোচনা চলতে পারে, তবে ব্যবসা বন্ধ করে দেয়া উচিত নয়। অবরোধের কারণে সাজেকের পর্যটন ব্যবসা যেন বন্ধ হয়ে না যায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। একইভাবে সংকট সমাধানে আলোচনার উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছেন ই-ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য উজ্জল দেব। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসার চেষ্টা করছেন তারা। আশা করছেন, তাদের প্রস্তাব গ্রহণ করে সংশ্লিষ্টরা সঠিক ও যৌক্তিক আলোচনায় অংশ নেবেন।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, সাজেকে ইউপিডিএফ ও জেএসএসের আধিপত্য বিস্তারের লড়াইকে কেন্দ্র করেই মূলত এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, রাঙামাটির সাজেকে পাঁচ দফা দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে স্থানীয় দুটি সংগঠন। গতকাল রোববার সকালেও সাজেকের হাজাছড়া, ১০ নম্বর গঙ্গাবাজার ও ১৪ কিলোসহ বিভিন্ন এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে এ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু গ্রুপ) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেয়াসহ পাঁচ দফা দাবিতে তৃতীয় দফায় এ অবরোধ চলছে।
আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, গত ২২ অক্টোবর শান্তিপূর্ণ অবরোধকারীদের ওপর হামলার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা; উজো বাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ দেয়া এবং বাজার এলাকা থেকে সেনা ও পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার করা। এ ছাড়া হামলায় আহত ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ চিকিৎসা ব্যয় প্রশাসনকে বহন করা, সাজেক থেকে জেএসএস (সন্তু) গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তার, বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি এবং হয়রানি বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে। অবরোধের কারণে সকাল থেকে সাজেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবু ধন চাকমা বলেন, জেএসএস (সন্তু লারমা) গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা এলাকায় চাঁদাবাজি ও জুলুম করছেন। পাশাপাশি বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ধন চাকমা বলেন, পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।
এদিকে, সাজেকে চলমান অবরোধ ও আন্দোলনের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। এ লক্ষ্যে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে হেডম্যান ও কারবারিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিবসহ সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং স্থানীয় হেডম্যান-কারবারিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া জানান, চলমান আন্দোলনে কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের নাম উঠে আসায় হেডম্যান ও কারবারিদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। শুরু থেকেই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা ছিল বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, আলোচনার পথ তৈরি করতে রাঙামাটির তিনজন হেডম্যান ও কারবারিকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় খাগড়াছড়ির হেডম্যান ও কারবারিরাও যুক্ত থাকবেন। বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজানের মধ্যস্থতায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করা হবে।
আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া আরও বলেন, আন্দোলন শুরুর পর থেকেই গণমাধ্যমের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে সে সময় আলোচনার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এবার সংশি¬ষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিরসনের চেষ্টা করা হবে।
এদিকে সাজেক থানার ওসি তফাজ্জল হোসেন বলেন, সাজেক সড়কে শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ চলছে। কোথাও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। দু-একটি মোটরসাইকেল চলাচল করছে। সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিজিবি, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। সাজেকের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।