ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার কুমারুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে শিক্ষকের আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবিতে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, শ্রেণিকক্ষ ও প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটকসহ বিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ ও প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে তালা ঝুলছে। পরে খবর পেয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার আবু হানিফা মো. আসাদুজ্জামান ও ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বিদ্যালয়ের তালা খুলে দেন।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমারুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক খালেকুজ্জামান বিদ্যালয়ের পাশের কুমারুলী বাজারে একটি ব্যক্তিগত কক্ষে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ান। সেখানে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে পড়ানোর সময় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ও অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর পরিবারের দাবি, গত ২০ সেপ্টেম্বর ওই শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়ানোর সময় শিক্ষক তার শরীরে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেন। পরে শিক্ষার্থী বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে তারা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে ঘটনাটি অবহিত করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের প্রথম ঘণ্টার পর স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একপর্যায়ে তারা বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, শ্রেণিকক্ষ ও অফিসকক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন।
ঘটনাস্থলে গিয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার ও পুলিশ বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যালয়ে না আসার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষককে ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবককে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চান মিয়া বলেন, অভিযোগের বিষয়টি জানার পর তিনি একজন অফিস সহকারীকে শিক্ষার্থীর বাড়িতে পাঠিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক খালেকুজ্জামান বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করছেন তিনি। তাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এমন অভিযোগ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. হায়দার আলী বলেন, বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া এবং শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি প্রধান শিক্ষক তাকে জানিয়েছেন। বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেখবে।
এদিকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।