কালীগঞ্জে বেদে পল্লীতে হামলা-ভাঙচুর, আতঙ্কে ঘর ছাড়ছেন বাসিন্দারা

কালীগঞ্জ,( ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:

 

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভাধীন বেদে পল্লীতে আধিপত্য বিস্তার, মাদক বেচাকেনা ও ড্রাগন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। 

সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত চলা এ সংঘর্ষে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। এ সময় কয়েকটি বাড়ি ঘরে এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বেদে পল্লীতে। নিরাপত্তাহীনতায় অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কালীগঞ্জ থানা-পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বেদে পল্লীতে রাসেল ও মনিরুলের অনুসারীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। স্থানীয় রাজনীতির ছত্রচ্ছায়ায় বিভিন্ন সময়ে দুই পক্ষের প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। সম্প্রতি এ বিরোধের সঙ্গে ড্রাগন চুরি ও মাদক বেচাকেনার অভিযোগ যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য, সম্প্রতি মোবারকগঞ্জ রেলওয়ে বস্তি থেকে ড্রাগন চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেন স্থানীয় লোকজন। ওই ব্যক্তির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মিজান নামে এক ব্যক্তিকে ধরে আনা হয়, যাঁর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। পরে তাঁদের পুলিশের কাছে সোপর্দ না করে আলোচনার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেদে পল্লীর বাসিন্দা ও স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়। এর জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও বাড়তে থাকে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, সোমবার রাতে বেদে পল্লীর একাংশের সরদার মনিরুল ইসলাম এবং স্থানীয় বাসিন্দা ইমাম হোসেন লাভলু ও রেজা কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে এলাকায় হামলা চালান। এ সময় কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়ি ঘর ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় লোকজন একত্রিত হয়ে পাল্টা হামলা চালান। তাঁরা শামীম হোসেন, ইমাম হোসেন লাভলুসহ কয়েকজনকে আটক করে মারধর করেন বলে জানা গেছে।

 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় জেলা পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য আনা হয়। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত কয়েক দফায় সংঘর্ষ ও উত্তেজনার ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

 

সংঘর্ষের পর বেদে পল্লীর বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

 

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL