দুর্ভোগে শেকটার ৪০ পরিবার পাঁচ হাজার টাকার আমগাছের দাম লাখ টাকা দাবি।

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:

 

একটি আমগাছ ঘিরে বন্ধ হয়ে গেছে চলাচলের রাস্তা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বাগজানা ইউনিয়নের শেকটা গ্রামের প্রায় ৪০টি পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে না পারায় অসুস্থ রোগী, শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্কদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ভ্যান-রিকশাসহ ছোট যানবাহনও গাছটির কারণে আটকে যাচ্ছে। 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানিয়ে প্রতিকার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শেকটা গ্রামের প্রায় ৪০টি পরিবারের চলাচলের পথে থাকা আমগাছটির কারণে রাস্তার স্বাভাবিক ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে যাওয়া কিংবা কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনের সময় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, গাছটি এমনভাবে অবস্থান করছে যে বড় কোনো যানবাহন তো দূরের কথা, ভ্যান-রিকশা নিয়েও নির্বিঘ্নে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।

এলাকাবাসী জানান, বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো কার্যকর সমাধান না হওয়ায় তারা নিজেরাই গাছের মালিকের সঙ্গে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, গাছটির উপযুক্ত মূল্য দেওয়ার বিনিময়ে সেটি কেটে রাস্তা চলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু গাছের মালিক তাতে রাজি হননি। বরং তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গাছটির প্রকৃত মূল্য নিয়ে মতবিরোধই এখন রাস্তা বন্ধের সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে। তাদের দাবি, ছোট আকারের ওই আমগাছটির মূল্য স্থানীয়ভাবে আনুমানিক পাঁচ হাজার টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। অথচ গাছের মালিক এর বিপরীতে প্রায় লাখ টাকা দাবি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

তবে গাছটির প্রকৃত বাজারমূল্য কত, তা নির্ধারণে কোনো সরকারি বা নিরপেক্ষ মূল্যায়ন এখনো হয়নি। গাছের মালিকের বক্তব্য অনুযায়ী, সময় হলেই তিনি গাছটি কাটবেন। ফলে নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় কবে নাগাদ ৪০ পরিবারের চলাচলের সমস্যা দূর হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন—একটি গাছের কারণে যখন দীর্ঘদিন ধরে ৪০টি পরিবার দুর্ভোগে রয়েছে, তখন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে বিষয়টির স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না কেন?

তাদের দাবি, ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনি সাধারণ মানুষের চলাচলের অধিকারও রয়েছে। তাই উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আইন ও বিধি অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় পর্যায়ে সমাধান না হওয়ায় ভুক্তভোগীরা পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে রাস্তার প্রতিবন্ধকতা দূর করার পাশাপাশি ৪০টি পরিবারের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

 

এ বিষয়ে পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাশপিয়া তাসরিন বলেন, “বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL