প্রযুক্তি-নির্ভর হচ্ছে ব্যাংকিং ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:

★ ডিজিটাল কার্যক্রমের পদক্ষেপ নিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
★ যাচাই-বাছাই হয়েছে ১২টি আবেদন, সম্মতি পেল ৫টি

 

ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও সহজলভ্য, প্রযুক্তি-নির্ভর এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের আর্থিক খাতকে পুরোপুরি আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল ব্যাংক পরিচালনার প্রাথমিক অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে মোট ১২টি আবেদন যাচাই-বাছাই করে চারটি নতুন প্রতিষ্ঠানকে ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ বা সম্মতিপত্র দেয়া হয়েছে।  শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক, ভুটানের ডিকে ব্যাংকের সহযোগী ডিকে ডিজিটাল ব্যাংক, বাংলালিংকের মূল কোম্পানি ভিওনের ডিজিটাল ব্যাংক, স্কয়ার গ্রুপের নোভা ডিজিটাল ব্যাংক এবং রবি আজিয়াটার বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংক।

এর আগে, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে নগদ ও কোরি ডিজিটাল ব্যাংককে প্রাথমিক সম্মতিপত্র দেয়া হয়েছিল। উভয় প্রতিষ্ঠানকে ছয় মাসের মধ্যে (এপ্রিল ২০২৪ সালের মধ্যে) প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করে পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছিল। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করায় নগদকে ২০২৪ সালের জুন মাসে পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স দেয়া হয়। আর কোরি ডিজিটাল ব্যাংকের সম্মতিপত্রটি বাংলাদেশ ব্যাংক নবায়ন করেছে।
ডিজিটাল ব্যাংক
ডিজিটাল ব্যাংক হলো এমন এক ধরনের ব্যাংকিং ব্যবস্থা, যার কোনো প্রচলিত শাখা থাকে না। এই ব্যাংকগুলো তাদের কার্যক্রম ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ডিজিটাল উপায়ে পরিচালনা করে। এ ধরনের ব্যাংকের কোনো গ্রাহক সেবা কেন্দ্র বা শাখা অফিস না থাকলেও প্রশাসনিক কাজের জন্য প্রধান কার্যালয় থাকে। সহজ কথায়, সশরীরে ব্যাংকে না গিয়ে অনলাইনেই সব ধরনের ব্যাংকিং সুবিধা পাওয়া যায় এই ব্যবস্থায়।

গত দেড় দশকে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে লেনদেন ও পেমেন্ট বৃদ্ধি এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) ব্যাপক প্রসারের ফলে ডিজিটাল আর্থিক সেবার ব্যবহার অনেক বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই মূলত ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১১ সালে চালু হওয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়ে ২০২৪ সাল নাগাদ দেশের ৫৪ শতাংশ মানুষের কাছে পৌঁছেছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে, যেখানে প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা এখনো সেভাবে গড়ে ওঠেনি, সেখানে এমএফএসের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

ডিজিটাল ব্যাংকের প্রকৃতি ও কার্যক্রম
ডিজিটাল ব্যাংক হবে ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি, যার প্রধান কার্যালয় বাংলাদেশে থাকবে। এই ব্যাংকের কোনো নিজস্ব শাখা, উপশাখা, এজেন্ট বা নিজস্ব এটিএম বুথ থাকবে না; তবে লেনদেনের জন্য ভার্চুয়াল কার্ড, কিউআর কোড এবং অন্যান্য ব্যাংক বা এমএফএসের বিদ্যমান এটিএম নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা নির্দেশনা পরিপালন সাপেক্ষে ডিজিটাল ব্যাংক তার নিজস্ব এজেন্ট, এটিএম, সিডিএম, সিআরএম ইত্যাদির পরিবর্তে অন্যান্য প্রচলিত ব্যাংক, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস এবং বিদ্যমান এটিএম, সিডিএম ও সিআরএম নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারবে। ব্যাংকটির কোনো শাখা, উপশাখা, উইন্ডো, এজেন্ট বা নিজস্ব কোনো এটিএম, সিডিএম, সিআরএম ইত্যাদি থাকবে না। গ্রাহকদের লেনদেন সহজতর করার জন্য ভার্চুয়াল কার্ড, কিউআর কোড বা অন্য কোন অগ্রসরমান প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য ইস্যু করতে পারবে। ডিজিটাল ব্যাংকের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নতুনভাবে গ্রাহকের পরিচিতি সংক্রান্ত তথ্যা সংগ্রহ করে হিসাব খুলতে হবে। ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণের শর্তে ও বিদ্যমান রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক পরিপালন সাপেক্ষে রেমিট্যান্স নিতে পারবে। বৈদেশিক বাণিজ্য ঋণ এবং মাঝারি ও বৃহৎ শিল্প ঋণ ছাড়া অন্যান্য খাতে অর্থায়ন বা ঋণ দিতে পারবে। তৃতীয় কোনো পক্ষের মাধ্যমে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে ডিজিটাল ব্যাংকের গ্রাহক সেবা দেয়া যাবে। তবে এক্ষেত্রে গ্রাহক সেবাকেন্দ্রে কোনো রকম নগদ অর্থ উত্তোলন বা জমা করনের সুযোগ থাকবে না। ডিজিটাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠনের ক্ষেত্রে ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১’ এবং এর সংশোধনীসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা নির্দেশনা কঠোরভাবে পরিপালন করতে হবে।
 

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL