ভালুকায় ফেসবুকে প্রকাশিত আ’লীগের কমিটি ঘিরে বিতর্কের ঝড় বইছে

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:


সম্প্রতি ফেসবুকে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন ও পৌর আওয়ামীলীগের কমিটি প্রকাশের পর প্রকাশিত ওই কমিটি ঘিরে তৃণমূলের কর্মী সমর্থকদের মাঝে বিতর্কের ঝড় বইছে। নতুন ওই কমিটির নেতৃবৃন্দদের নিয়ে তৃণমূল আওয়ামীলীগের অনেক কর্মী ও সমর্থকদের ব্যক্তিগত ফেসবুক থেকে নানা বিতর্ক ছুড়ে দিয়ে পোষ্ট করা হচ্ছে।
ফেসবুকসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুলের ফেসবুক আইডি থেকে ভালুকা উপজেলা আওয়ামীলীগের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি প্রকাশ করা হয়। সেখানে সাবেক এমপি এম এ ওয়াহেদকে আহ্বায়ক এবং সাবেক এমপি কাজিম উদ্দিন আহমেদ ধনু, সাবেক সংরক্ষিত মহিলা এমপি মনিরা সুলতানা মনিসহ ৭জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। এরই মাঝে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে আসার একটি গুঞ্জন জোরেসুরে বইছে। এতে ভালুকার মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কে আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের ছবি ফেসবুকেও ছড়িয়ে পড়ে। সম্প্রতি ভালুকা উপজেলার অন্তর্গত তিনটি ইউনিয়ন ও পৌর আওয়ামীলীগের নতুন কমিটি ফেসবুকে প্রকাশ করা হয়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর সাবেক এমপি ও বর্তমান আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক এম এ ওয়াহেদের ফেসবুক পেজ থেকে ১নং উথুরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত করে মো. শামসুল হক চৌধুরীকে সভাপতি, মো. নুরুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক এবং একই ভাবে পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত করে ২নং মেদুয়ারী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জেসমিন নাহার রানীকে সভাপতি ও মো. শফিকুল ইসলাম শফিককে সাধারণ সম্পাদক করে ২৭ সদস্য বিশিষ্ট পৃথক আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হয়। এছাড়া ২৯ সেপ্টেম্বর পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত করে ৩নং ভরাডোবা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগে পলাশ মানিককে সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম তরফদারকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬৩ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং ১ অক্টোবর ভালুকা পৌর আওয়ামীলীগে সাদিকুর রহমান তালুকদারকে আহ্বায়ক ও সালাহ উদ্দিন সরকারসহ ১৯জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ৭০ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি প্রকাশ করা হয়েছে।
ওই কমিটিগুলো প্রকাশের পর থেকে নেট দুনিয়ায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পৌর আওয়ামীলীগের নবগঠিত কমিটির সদস্য আব্দুস সামাদ ফেসবুকে তার সদস্য পদ প্রত্যাহারে উপজেলা আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়ক বরাবরে একটি খোলা চিঠি লিখেন। চিঠিতে তিনি লিখেন- তাকে ২৯ নম্বর সদস্য হিসেবে তার নাম আবদুস সামাদ কাইয়্যা হিসেবে অন্তভুক্ত করা হয়। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত থেকে পদ পদবী বহন করতে মানসিক ভাবে প্রস্তুত নন। পাশাপাশি যোগাযোগ না করেই তার নাম বিকৃত করে প্রকাশ করায় তিনি বিব্রত হয়েছেন। বারো ঘন্টার মধ্যে তার নাম বিলুপ্ত করে পুনরায় প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
এদিকে সদ্য প্রকাশিত পৌর আওয়ামীলীগের কমিটির ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক সালাহ উদ্দিন সরকার ফেসবুকে বিতর্ককে ঘিরে তিনি লেখেন- তাকে নিয়ে বিএনপির বর্তমান এমপি ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর সঙ্গে ব্যবসাসহ নানা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে সেটি আদৌ সত্য নয়। এর যথাযথ কোনো তথ্য প্রমাণ থাকলে উপস্থাপনের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি।
ভালুকা উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ তার ফেসবুক পোষ্টে লেখেন- ভালুকা পৌর কমিটি অনুমোদনের সময় তার স্বাক্ষর বসানোর আগে তার অনুমতি নেওয়া হয়নি। তিনি শুধু ভরাডোবা ইউনিয়ন কমিটিতে স্বাক্ষর করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আওয়ামীলীগের কর্মী ও সমর্থকরা জানায়, সম্প্রতি ফেসবুকে প্রকাশিত যেসব ইউনিয়ন ও পৌর আওয়ামীলীগের কমিটি দেওয়া হয়েছে এবং যাদেরকে নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে এদের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কর্মকান্ড নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বিতর্কিত নেতৃবৃন্দদের নিয়ে আগামীতে দল শক্তিশালী করা সম্ভব নয় বলে জানান তারা। তবে অনেকেই বলছেন কমিটি করার আগে তৃণমূল নেতৃবৃন্দদের সঙ্গে অনলাইন মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিলে এই বিতর্কের সৃষ্টি হতো না।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL