রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে শিশুবেলায় ঘটে যাওয়া যৌন নিপীড়নের ভয়ঙ্কর তথ্য পাওয়া গেছে নতুন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘আওয়াজ ডট বিডি’তে। প্ল্যাটফর্মটি চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত নিজের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া যৌন নিপীড়নের লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে ৬০ জন ভুক্তভোগী। ৭ থেকে ১২ বছর বয়সে ভুক্তভোগী হওয়ার ঘটনাই বেশি। এসব ঘটনা প্রথমে জোরপূর্বক, পরে ভয় দেখিয়ে ঘটানো হয়েছে। এসব বর্ণনা শুনলে গা শিউরে উঠার উপক্রম। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) নতুন প্ল্যাটফর্ম আওযাজ ডট বিডি সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনলাইন প্রযুক্তির এ যুগে একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘আওয়াজ ডট বিডি’ যঃঃঢ়ং://ধধিু.নফ/ । এটি একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম। প্ল্যাটফর্মটি গড়ে তোলা হয়েছে শিশু বয়সে যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার ঘটনা তুলে ধরার জন্য। গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে চালু হওয়া এই প্ল্যাটফর্মে এ পর্যন্ত ৪৫ জন তাদের শিশুবেলার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন। মূলত ছেলেশিশুদের নিপীড়নের ঘটনাগুলো নিয়ে আসাই এ সাইটের লক্ষ্য ছিল। এতে মেয়েরাও তাদের ছোটবেলায় যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার লোমহর্ষক কথা লিখেছেন।
প্ল্যাটফর্মটিতে ঢুকলে স্ক্রিনে ভেসে ওঠে ‘আওয়াজ উঠাও’। সঙ্গে লেখা ‘আপনার নীরবতা অপরাধকে প্রশ্রয় দেয়, আপনার তথ্য অপরাধ দমনে সহায়তা করে’। আরও লেখা হয়েছে, বাংলাদেশে, বিশেষত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয়, শিশুদের নিপীড়নের প্রকৃত মাত্রা বোঝাতে মানুষের দেয়া বেনামি তথ্য থেকে তৈরি পরিসংখ্যান। এখানে কোনো নাম, ছবি বা পরিচয় নেই। কোনো কুকি বা ট্র্যাকিং করা হয় না। আপনার কোনো তথ্য সংরক্ষিত থাকবে না।
এই প্ল্যাটফর্ম তৈরির পেছনে প্রধানত কাজ করেছেন রাকিবুল হাসান (২৭) ও সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর (৪২)। রাকিবুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন। এখন অনলাইনে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন। আর সালাহউদ্দীন কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল করছেন, কাজ করছেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে।
‘আওয়াজ ডট বিডি’তে এক শিক্ষার্থী তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, ‘আমার বাড়ি থেকে মাদরাসায় যাচ্ছিলাম। রাত হয়ে যাওয়ায় নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, তাই আমি আমার মাদরাসায় পৌঁছাতে পারিনি। তো আমার আত্মীয়ের বন্ধু যিনি পাশের এক স্টেশন মসজিদের ইমাম তার কাছে গেলাম। সেখানে থাকতে চাইলাম। সে আমাকে তার রুমে একই খাটে থাকতে দিলো। আমি ঘুমিয়ে পড়ি। হঠাৎ মধ্য রাতে বুঝতে পারি কেউ একজন আমার শরীর হাতাচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চাৎদেশ ও যৌনাঙ্গ। আমার ঘুম ভেঙে যায়, ভয়ে আমি চুপসে যাই। কাঁদতে থাকি। তবুও সে আমাকে ঝাপটে ধরে জোরপূর্বক বলাৎকার করতে চায়। তারপর আমি চিৎকার করে উঠলে সে ছেড়ে দেয়।
নতুন এ প্ল্যাটফর্মটিতে আরেকজন বলেন, ‘আমার আপন মামা আমার সঙ্গে যৌন হয়রানিমূলক আচরণ করতো। প্রথমে আমি বুঝতে পারিনি, এগুলো কী?। চুম্বন করতো, বুকে হাত দিত। এক অনুষ্ঠানের দিন আমাদের বাড়িতে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। সে এসে আমার সঙ্গে খারাপ সম্পর্ক করে, কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমি প্রেগনেন্ট হয়ে যাই। এক বান্ধবীর পরামর্শে পরে ওষুধ খেয়ে নষ্ট করে ফেলি। যত আপন আত্মীয় হোক, অধিক ফ্রি না হওয়া উচিৎ বলে জানায় ওই ভুক্তভোগী।