রাজারহাটে চেয়ারম্যান পদে জামায়াতের দুই নেতার বিপরীত অবস্থান

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:

 

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. আতিকুর রহমানের বিপরীতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন একই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত মো. হারুনুর রশীদ। দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দুই নেতার ভিন্ন অবস্থানে ইউনিয়নটিতে রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

গত ৩০ মে ২০২৬ তারিখে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে আতিকুর রহমানের নাম ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মো. শাহ জালাল সবুজ। জেলা ও উপজেলা জামায়াতের সমর্থন পাওয়া আতিকুর রহমান ইতোমধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও মতবিনিময় চালিয়ে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে, মাওলানা মো. বাছের উদ্দিনের দ্বিতীয় ছেলে হারুনুর রশীদও চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে অনড় থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি।

হারুনুর রশীদ বলেন, “তিন মাস আগেও আমি বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের পেশাজীবী সংগঠনের সভাপতি ছিলাম এবং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলাম। এখন কী অবস্থায় রাখা হয়েছে, তা আমার জানা নেই। গোটা পৃথিবী একদিকে গেলেও আমি নির্বাচন করব। আমি একা হলেও করব। আমি জামায়াতের সঙ্গে ছিলাম। তবে নির্বাচন করার জন্য হলেও হয়তো সামনে আর থাকব না।”

স্থানীয় জামায়াতকর্মী ইয়াসিন আলী বলেন, ৫ আগস্টের আগে আতিকুর রহমান জামায়াতের সাধারণ সহযোগী ছিলেন। তিনি নিজেও আগে জামায়াতের ওয়ার্ড বায়তুল মাল সম্পাদক ছিলেন বলে জানান। তাঁর ভাষ্য, হারুনুর রশীদ পদত্যাগ করতে হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

রাজারহাট উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বায়তুল মাল সম্পাদক ও উপজেলা জামায়াতের আইটি মিডিয়া সেক্রেটারি রুবেল মিয়া বলেন, হারুনুর রশীদ আগে সংগঠনের সাধারণ কর্মী ছিলেন। দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সাংগঠনিকভাবে তাঁর কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে লিখিত কোনো আদেশ দেওয়া হয়নি।

বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা মোশাররফ হোসেন বলেন, আতিকুর রহমান ইউনিয়ন পেশাজীবী সংগঠনের সভাপতি। হারুনুর রশীদ ২০২৫ সালে ইউনিয়ন জামায়াতের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সেক্রেটারি ছিলেন। দীর্ঘদিন সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় থাকায় ওই পদে অন্য একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সংগঠনে হারুনুর রশীদের কোনো পদ নেই বলেও তিনি জানান।

রাজারহাট উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কফিল উদ্দিন বলেন, সংগঠন যাঁকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে, নেতা-কর্মীদের তাঁর পক্ষেই কাজ করতে হবে। কেউ দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে তা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। তবে জামায়াতের নাম ব্যবহার করে বা দলীয় নেতা-কর্মীদের বিভক্ত করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই।

জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী আতিকুর রহমান বলেন, হারুনুর রশীদ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয়। তাঁকে বহিষ্কার করা হয়নি, আবার তিনি পদত্যাগও করেননি। শুরুতে হারুনুর রশীদকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। পরে ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের মতামতের ভিত্তিতে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

হারুনুর রশীদের প্রার্থিতার প্রভাব সম্পর্কে আতিকুর রহমান বলেন, এর প্রভাব ব্যাপক না-ও হতে পারে। তবে হারুনুর রশীদ সংগঠনের সঙ্গে থাকলে তাঁর সঙ্গে থাকা ২০ থেকে ৫০ জন কর্মী-সমর্থকও তাঁদের পক্ষে থাকতেন বলে তিনি মনে করেন।

বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীর বিপরীতে একই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আরেক নেতার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণায় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এ প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচনের মাঠে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL