রংপুর নগরীতে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে মটরসাইকেলে তুলে নিয়ে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরপর উলঙ্গ ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে ছাত্রীর পরিবারের কাছে নগদ অর্থ ও সোনার গহনা দাবি করা হয়। আজ ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে দুই অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল কাদের। মামলার উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ বলেন, রংপুর নগরীর পীরজাবাদ মুন্সির মোড় এলাকার জনৈক ব্যক্তির মেয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে প্রায়ই বিরক্তি করতেন রংপুর কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্র। মোবাইল ফোনে ও ইনস্টাগ্রামে কথা বলে উত্যক্ত করতেন।
গত ২ আগস্ট ওই ছাত্রী নগরীর কেরানীপাড়ায় প্রাইভেট পড়তে এলে তাকে ফুসলিয়ে মটরসাইকেলে তুলে নিয়ে কারমাইকেল কলেজ ক্যা¤পাসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তার সহপাঠী স্বপ্নের বাসা নগরীর কামারপাড়ায় নিয়ে গিয়ে বিবস্ত্র করে তার নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়। এরপর ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। এসময় ওই ছাত্রীর চিৎকারে অভিযুক্ত সালমান ও তার বন্ধু স্বপ্ন তড়িঘড়ি করে তাকে রিকশায় তুলে দেন। এরপর থেকে ছাত্রীকে তার বাবা-মার কাছ থেকে নগদ অর্থ ও সোনার অলংকার এনে না দিলে তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
গত ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার আবারও অভিযুক্ত সালমান ওই ছাত্রীকে তার মায়ের সোনার গহনা ও নগদ দুই লক্ষ টাকা এনে না দিলে এবার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল করে দেওয়ার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেন। এ ঘটনায় ওই স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন। পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত সালমান ও তার বন্ধু স্বপ্নকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করে। রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল কাদের বলেন, অভিযুক্ত সালমানের বাড়ি রংপুর
নগরীর সেনপাড়ায়। তার মায়ের নাম সালেহা পারভীন। অপর অভিযুক্ত স্বপ্ন নগরীর কামারপাড়ার দিলীপ কুমারের পুত্র।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, নাবালিকা ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা এবং নগ্ন ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ ও সোনার গহনা আদায়ের চেষ্টার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ ঘটনায় তদন্ত করা হচ্ছে।