টুপটুপ রিসোর্টে আগুন

১০ দিন পর উদ্ধার শিক্ষিকার মরদেহ, গলার লকেট দেখে শনাক্ত

কক্সবাজার প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:

 

 

 

 

নিখোঁজের অবসান, ছাত্রদল নেতার স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে

 

এম জসিম উদ্দিন, কক্সবাজার

 

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজের ১০ দিন পর নাসরিন আক্তার মুক্তা নামে এক শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

 মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা ৩টার দিকে পোড়া রিসোর্টের দ্বিতীয় তলা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। গলায় থাকা লকেট দেখে মরদেহটি তাঁর বলে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

নাসরিন আক্তার মুক্তা ঢাকার সাভারের আশুলিয়া গ্রামের মোস্তফা কামালের মেয়ে। তিনি স্বপ্নবিলাস ইউনাইটেড স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। তাঁর স্বামী ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি দেওয়ান।

 

পুলিশ জানায়, গত ১৭ অক্টোবর সকালে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের পাটুয়ারটেক এলাকায় অবস্থিত টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে আগুন লাগে। ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডের পর সেদিন রিসোর্ট থেকে ১০ জনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।

 

পরদিন ১৮ অক্টোবর বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আরও ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। খবর পেয়ে বিকেলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্বিতীয় দফায় উদ্ধার অভিযান চালান। তবে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত রিসোর্টটির কাঠামো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকায় নিরাপত্তার কারণে অভিযান বন্ধ করতে হয়।

 

এরপর নিখোঁজদের সন্ধানে বিভিন্নভাবে খোঁজখবর নেওয়া হয়। একপর্যায়ে নাসরিন আক্তার মুক্তার মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করে পুলিশ। তাঁর মোবাইলের সর্বশেষ অবস্থান পাটুয়ারটেক এলাকায় পাওয়া যায়। পরে মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশের একটি দল পোড়া রিসোর্টে তল্লাশি চালিয়ে দ্বিতীয় তলা থেকে একটি দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে।

 

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, “একজন নিখোঁজের বিষয়ে জানতে পেরে আমরা তাঁর মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করি। সেখানে তাঁর সর্বশেষ অবস্থান ছিল পাটুয়ারটেক এলাকায়। পরে মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশের একটি দল পোড়া রিসোর্টে যায়। দলটি রিসোর্টের দ্বিতীয় তলা থেকে একটি দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে।”

 

তিনি আরও জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আগের ১০টি মরদেহ ডিএনএ প্রতিবেদনের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছিল।

 

 উদ্ধার হওয়া মরদেহটি গলায় থাকা লকেট দেখে মুক্তার বলে শনাক্ত করা হয়েছে বলে তিনি জানান। মরদেহ নিতে তাঁর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে।

 

দীর্ঘ ১০ দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর মুক্তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

 ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা ও উদ্ধার কার্যক্রম নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL