০৬:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণা

ইবিতে সাজিদ হত্যার বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রশাসন ভবন চত্বরে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচি থেকে শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতারা উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেন।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ইবি ইউট্যাব সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন, সাদা দলের আহ্বায়ক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, জার্নালিজম বিভাগের সভাপতি ড. রশিদুজ্জামান, জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. রফিকুল ইসলাম, গ্রীণ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. গফুর গাজী, খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট ড. জালাল উদ্দীনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা।

এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ, সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুন, ছাত্রশিবির সেক্রেটারি ইউসুফ আলী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইট, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত, তালাবায়ে আরাবিয়ার সেক্রেটারি শামীমসহ নানা সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, “১৪৫ দিন পেরিয়ে গেলেও সাজিদের হত্যার বিচার হয়নি। বিচার না পেলে আমাদের কেউই নিরাপদ নয়। বিচার না হলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে।”

জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, “এটি স্পষ্ট যে সাজিদকে হত্যা করা হয়েছে। তদন্তে গাফিলতি ও বিচার বিলম্বিত হওয়ার কারণে পরিবার ও শিক্ষার্থীরা হতাশ। দ্রুত বিচার না হলে আন্দোলন জোরদার হবে।”

ইউট্যাব সভাপতি অধ্যাপক তোজাম্মেল হোসেন বলেন, “জুলাই আন্দোলনের সময় যেমন আমরা সোচ্চার ছিলাম, আজও আমরা একইভাবে শিক্ষার্থীদের পাশে আছি। সাজিদ হত্যার দ্রুত বিচার অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।”

সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মতিনুর রহমান বলেন, “১৪৫ দিনেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। প্রশাসন ব্যর্থ হলে দায় স্বীকার করতে হবে। বিচার বিলম্বিত করা হলে আমরা শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে থাকব।”

জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক এমতাজ হোসেন বলেন, “সাজিদ হত্যার দ্রুত বিচার প্রত্যাশায় আমরা রিপোর্ট জমা দিয়েছি। ছয় মাসেও খুনি শনাক্ত না হওয়া উদ্বেগজনক। নেপথ্যে কেউ বাধা দিচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে।”

শেষে শিক্ষার্থী বোরহান উদ্দিন ঘোষণা দেন, “১৭ ডিসেম্বর সাজিদ হত্যার পাঁচ মাস পূর্ণ হবে। এর মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার না করা হলে সেদিন উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করা হবে। বিচার না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।”

জনপ্রিয় সংবাদ

৫ মাসেও উদ্ধার হয়নি পুলিশের সেই ‘হ্যান্ডকাফ’

উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণা

ইবিতে সাজিদ হত্যার বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০৬:৫৩:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রশাসন ভবন চত্বরে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচি থেকে শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতারা উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেন।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ইবি ইউট্যাব সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন, সাদা দলের আহ্বায়ক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, জার্নালিজম বিভাগের সভাপতি ড. রশিদুজ্জামান, জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. রফিকুল ইসলাম, গ্রীণ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. গফুর গাজী, খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট ড. জালাল উদ্দীনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা।

এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ, সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুন, ছাত্রশিবির সেক্রেটারি ইউসুফ আলী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইট, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত, তালাবায়ে আরাবিয়ার সেক্রেটারি শামীমসহ নানা সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, “১৪৫ দিন পেরিয়ে গেলেও সাজিদের হত্যার বিচার হয়নি। বিচার না পেলে আমাদের কেউই নিরাপদ নয়। বিচার না হলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে।”

জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, “এটি স্পষ্ট যে সাজিদকে হত্যা করা হয়েছে। তদন্তে গাফিলতি ও বিচার বিলম্বিত হওয়ার কারণে পরিবার ও শিক্ষার্থীরা হতাশ। দ্রুত বিচার না হলে আন্দোলন জোরদার হবে।”

ইউট্যাব সভাপতি অধ্যাপক তোজাম্মেল হোসেন বলেন, “জুলাই আন্দোলনের সময় যেমন আমরা সোচ্চার ছিলাম, আজও আমরা একইভাবে শিক্ষার্থীদের পাশে আছি। সাজিদ হত্যার দ্রুত বিচার অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।”

সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মতিনুর রহমান বলেন, “১৪৫ দিনেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। প্রশাসন ব্যর্থ হলে দায় স্বীকার করতে হবে। বিচার বিলম্বিত করা হলে আমরা শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে থাকব।”

জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক এমতাজ হোসেন বলেন, “সাজিদ হত্যার দ্রুত বিচার প্রত্যাশায় আমরা রিপোর্ট জমা দিয়েছি। ছয় মাসেও খুনি শনাক্ত না হওয়া উদ্বেগজনক। নেপথ্যে কেউ বাধা দিচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে।”

শেষে শিক্ষার্থী বোরহান উদ্দিন ঘোষণা দেন, “১৭ ডিসেম্বর সাজিদ হত্যার পাঁচ মাস পূর্ণ হবে। এর মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার না করা হলে সেদিন উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করা হবে। বিচার না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।”