০২:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৫ মাসেও উদ্ধার হয়নি পুলিশের সেই ‘হ্যান্ডকাফ’

ফেনী ফুলগাজীর আমজাদহাটে কবির আহম্মদ প্রকাশ জাল কবির জাসদ নেতা ধর্ষণের মামলায় পুলিশের হাত থেকে হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনার ৫ মাস পার হলেও এখনো উদ্ধার হয়নি সেই হ্যান্ডকাফ। ধরাছোঁয়ার বাইরে পুলিশকে মারধর করে পালিয়ে যাওয়া জাল কবিরসহ তার সহযোগীরা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জাল কবির ছাগলনাইয়া থানায় করা একটি নারী নির্যাতন ধর্ষণের মামলার আসামি। গত ১৫ জুলাই রাতে পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তারে ফুলগাজীর আমজাদহাটের উত্তর ধর্মপুর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় পুলিশের উপর হামলা করে কবির হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যান। ঘটনাস্থলে তার সহযোগী রাকিবসহ অন্য স্বজনদের হামলায় ছাগলনাইয়া থানার তিন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- ছাগলনাইয়া থানা পুলিশের উপপরিদর্শক রাফিদুল ইসলাম চৌধুরী, সহকারী উপ-পরিদর্শক দিদারুল আলম ও কনস্টেবল সুমন সুশীল।

এ ঘটনায় পরেরদিন ১৬ জুলাই ছাগলনাইয়া থানা পুলিশের উপপরিদর্শক রাফিদুল ইসলাম চৌধুরী ৯ জনের নাম উল্লেখ ও আরও ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ফুলগাজী থানায় একটি মামলা করেন, যাহা ফুলগাজী থানার মামলা নম্বর ৪। সেদিন রাতে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশের উপর হামলাকারী ছয়জন ও পরবর্তী বক্সমাহমুদের সিএনজি ড্রাইভার নুর নবী কে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন-ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাট
ইউনিয়নের উত্তর ধর্মপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে আবুল বাশার (৫২), একই এলাকার আবুল কাশেমের স্ত্রী সাহেনা আক্তার (৫০), তার ছেলে মোবারক হোসেন (১৭), আবু তাহেরের স্ত্রী রহিমা আক্তার (৩৫), তার স্ত্রী জেসমিন (৪৩) ও রবিউল হকের স্ত্রী ফারহানা জাহান নোভা (২০)। বর্তমানে এদের মধ্যে আসামি জামিনে রয়েছে কিন্তু কবির আহম্মদ প্রকাশ জাল কবির ও তাঁর সহযোগী রবিউল হক রাকিব মহামান্য হাইকোর্ট থেকে ৪২ দিনের জন্য আগামী জামিন নিলেও মেয়াদ শেষে ফেনীর সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির না হওয়ায় এই দুইজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

সূত্রের আরও জানা জায় ফুলগাজীর উত্তর ধর্মপুর জামে মসজিদের সম্পত্তি আত্মসাৎ ও নগদ অর্থ জালিয়াতি এবং এলাকার নিরীহ মানুষ কে বিভিন্ন হয়রানি মূলক মামলা দিয়ে পেরে উঠতে না পেরে জাল কবির ও তাঁর সহযোগীরা ছাগলনাইয়া তাঁর ভাবি মনোয়ারার বাসায় কাজের ভূয়াকে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে আপোশে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে উত্তর ধর্মপুরের ৭জন নিরীহ মানুষ কে গণধর্ষণের মামলা দিয়ে হয়রানি ও ধর্ষক সাজাতে ছাগলনাইয়া থানায় গণধর্ষণের ধারায় মামলা রুজু করে, পরবর্তীতে গণধর্ষণের এজাহারের সকল আদালতে আত্মসমর্পণ করে ডিএনএ পরিক্ষার মাধ্যমে নির্দোষ প্রমাণিত হয় এবং কিছু আসামি সর্বোচ্চ আদালত থেকে স্থায়ী জামিনে মুক্তি পেয়ে প্রকৃত গণধর্ষণের ঘটনায় উন্মোচন করলে ফেনীতে আলোচনায় আসে সাজানো গণধর্ষণের ঘটনা।

কবির আহম্মদ প্রকাশ জাল কবির জাসদ নেতা ফুলগাজী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম একরাম চেয়ারম্যানের বাবুর্চি আলমের মেয়ে জামাতা,সেই সুবাদে ততকালীন এমপি শিরিনের ক্ষমতায় এলাকায় আধিপত্য তৈরি করে জাল কবির, পরবর্তীতে তৎকালীন সরকারের বিদায় হলে টনক নড়ে এলাকাবাসীর, মানববন্ধন, সাংবাদিক সম্মেলন ও একাধিক জাল জালিয়াতির মামলায় আদালতের মাধ্যমে জেল খাটেন জাল কবির,বর্তমানে ধর্ষণের মামলায় পুলিশের হাত থেকে হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনার ৫ মাস পার হলেও এখনো উদ্ধার হয়নি সেই হ্যান্ডকাফ। ধরাছোঁয়ার বাইরে পুলিশকে মারধর করে পালিয়ে যাওয়া জাল কবিরসহ তার সহযোগীরা। এমন অবস্থায় হ্যান্ডকাপের মামলাটি ডিবিতে স্থানান্তর করেন বিদায়ী পুলিশ সুপার, সদ্য যোগদান করা সুপারের নিকট এলাকাবাসী উক্ত বিষয়ে আসামি গ্রেফতার সহ জাল কবিরের অপরাপর সহযোগীদের বিষয় আশ্বাস দিলেও আশার মুখ খোলেনি।

এ বিষয়ে ফেনীর ডিবি ওসি মর্ম সিংহ ত্রিপুরা জানান, পলাতক আসামী কবির আহমেদকে গ্রেফতার ও হ্যান্ডকাফ উদ্ধারে পুলিশের চেষ্টা চলছে।

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

বিড়িতে সুখ টান দিয়েও দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইলে আল্লাহ মাফ করে দেবেন

৫ মাসেও উদ্ধার হয়নি পুলিশের সেই ‘হ্যান্ডকাফ’

আপডেট সময় : ০৬:৩৬:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

ফেনী ফুলগাজীর আমজাদহাটে কবির আহম্মদ প্রকাশ জাল কবির জাসদ নেতা ধর্ষণের মামলায় পুলিশের হাত থেকে হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনার ৫ মাস পার হলেও এখনো উদ্ধার হয়নি সেই হ্যান্ডকাফ। ধরাছোঁয়ার বাইরে পুলিশকে মারধর করে পালিয়ে যাওয়া জাল কবিরসহ তার সহযোগীরা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জাল কবির ছাগলনাইয়া থানায় করা একটি নারী নির্যাতন ধর্ষণের মামলার আসামি। গত ১৫ জুলাই রাতে পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তারে ফুলগাজীর আমজাদহাটের উত্তর ধর্মপুর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় পুলিশের উপর হামলা করে কবির হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যান। ঘটনাস্থলে তার সহযোগী রাকিবসহ অন্য স্বজনদের হামলায় ছাগলনাইয়া থানার তিন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- ছাগলনাইয়া থানা পুলিশের উপপরিদর্শক রাফিদুল ইসলাম চৌধুরী, সহকারী উপ-পরিদর্শক দিদারুল আলম ও কনস্টেবল সুমন সুশীল।

এ ঘটনায় পরেরদিন ১৬ জুলাই ছাগলনাইয়া থানা পুলিশের উপপরিদর্শক রাফিদুল ইসলাম চৌধুরী ৯ জনের নাম উল্লেখ ও আরও ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ফুলগাজী থানায় একটি মামলা করেন, যাহা ফুলগাজী থানার মামলা নম্বর ৪। সেদিন রাতে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশের উপর হামলাকারী ছয়জন ও পরবর্তী বক্সমাহমুদের সিএনজি ড্রাইভার নুর নবী কে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন-ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাট
ইউনিয়নের উত্তর ধর্মপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে আবুল বাশার (৫২), একই এলাকার আবুল কাশেমের স্ত্রী সাহেনা আক্তার (৫০), তার ছেলে মোবারক হোসেন (১৭), আবু তাহেরের স্ত্রী রহিমা আক্তার (৩৫), তার স্ত্রী জেসমিন (৪৩) ও রবিউল হকের স্ত্রী ফারহানা জাহান নোভা (২০)। বর্তমানে এদের মধ্যে আসামি জামিনে রয়েছে কিন্তু কবির আহম্মদ প্রকাশ জাল কবির ও তাঁর সহযোগী রবিউল হক রাকিব মহামান্য হাইকোর্ট থেকে ৪২ দিনের জন্য আগামী জামিন নিলেও মেয়াদ শেষে ফেনীর সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির না হওয়ায় এই দুইজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

সূত্রের আরও জানা জায় ফুলগাজীর উত্তর ধর্মপুর জামে মসজিদের সম্পত্তি আত্মসাৎ ও নগদ অর্থ জালিয়াতি এবং এলাকার নিরীহ মানুষ কে বিভিন্ন হয়রানি মূলক মামলা দিয়ে পেরে উঠতে না পেরে জাল কবির ও তাঁর সহযোগীরা ছাগলনাইয়া তাঁর ভাবি মনোয়ারার বাসায় কাজের ভূয়াকে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে আপোশে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে উত্তর ধর্মপুরের ৭জন নিরীহ মানুষ কে গণধর্ষণের মামলা দিয়ে হয়রানি ও ধর্ষক সাজাতে ছাগলনাইয়া থানায় গণধর্ষণের ধারায় মামলা রুজু করে, পরবর্তীতে গণধর্ষণের এজাহারের সকল আদালতে আত্মসমর্পণ করে ডিএনএ পরিক্ষার মাধ্যমে নির্দোষ প্রমাণিত হয় এবং কিছু আসামি সর্বোচ্চ আদালত থেকে স্থায়ী জামিনে মুক্তি পেয়ে প্রকৃত গণধর্ষণের ঘটনায় উন্মোচন করলে ফেনীতে আলোচনায় আসে সাজানো গণধর্ষণের ঘটনা।

কবির আহম্মদ প্রকাশ জাল কবির জাসদ নেতা ফুলগাজী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম একরাম চেয়ারম্যানের বাবুর্চি আলমের মেয়ে জামাতা,সেই সুবাদে ততকালীন এমপি শিরিনের ক্ষমতায় এলাকায় আধিপত্য তৈরি করে জাল কবির, পরবর্তীতে তৎকালীন সরকারের বিদায় হলে টনক নড়ে এলাকাবাসীর, মানববন্ধন, সাংবাদিক সম্মেলন ও একাধিক জাল জালিয়াতির মামলায় আদালতের মাধ্যমে জেল খাটেন জাল কবির,বর্তমানে ধর্ষণের মামলায় পুলিশের হাত থেকে হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনার ৫ মাস পার হলেও এখনো উদ্ধার হয়নি সেই হ্যান্ডকাফ। ধরাছোঁয়ার বাইরে পুলিশকে মারধর করে পালিয়ে যাওয়া জাল কবিরসহ তার সহযোগীরা। এমন অবস্থায় হ্যান্ডকাপের মামলাটি ডিবিতে স্থানান্তর করেন বিদায়ী পুলিশ সুপার, সদ্য যোগদান করা সুপারের নিকট এলাকাবাসী উক্ত বিষয়ে আসামি গ্রেফতার সহ জাল কবিরের অপরাপর সহযোগীদের বিষয় আশ্বাস দিলেও আশার মুখ খোলেনি।

এ বিষয়ে ফেনীর ডিবি ওসি মর্ম সিংহ ত্রিপুরা জানান, পলাতক আসামী কবির আহমেদকে গ্রেফতার ও হ্যান্ডকাফ উদ্ধারে পুলিশের চেষ্টা চলছে।

শু/সবা