সময়ের চাকা ঘুরে বিদায় নিয়েছে আরও একটি বছর। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, হতাশা ও সাফল্যের হিসাব পেছনে ফেলে নতুন সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে এসেছে নতুন বছর। কুয়াশাভেজা ভোরে নতুন সূর্যের আলোয় ক্যালেন্ডারের নতুন পাতার সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে—“হ্যাপি নিউ ইয়ার”।
নতুন বছর মানেই নতুন করে পথচলা, নতুন লক্ষ্য আর আগামীর শপথ। সেই নতুনের আবাহন ছুঁয়ে গেছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) ক্যাম্পাসকেও। পুরোনো জড়তা ঝেড়ে ফেলে নতুন উদ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনায় মগ্ন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল ঘাসের মাঠ, পকেট গেট কিংবা ক্যাম্পাসের আড্ডাগুলোতে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—নতুন বছর কেমন কাটবে, কী প্রত্যাশা, কী প্রতিজ্ঞা। নতুন বছরের ভাবনা ও স্বপ্ন নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন নোবিপ্রবি প্রতিনিধি কাউসার আহমেদ।
ন্যায়ভিত্তিক সমাজের প্রত্যাশা
কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী নকীবুল হক বলেন, “নতুন বছর হোক পুরোনো গ্লানি পেরিয়ে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের সূচনা। আইনের সঠিক প্রয়োগ ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হোক, যেন আর কাউকে বিচার চেয়ে রাজপথে নামতে না হয়। সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে উঠুক।”
পরিবর্তন শুরু হোক নিজ থেকেই
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতিমা জান্নাত রিন্তি মনে করেন, নতুন বছর মানে নিজেকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ। তিনি বলেন, “পড়াশোনা, পরীক্ষা, ক্যারিয়ার চিন্তা ও সামাজিক বাস্তবতার চাপে আমরা অনেক সময় নিজেদের ও পরিবারের কথা ভুলে যাই। শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাই হওয়া উচিত আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। নতুন বছরে পরিবর্তন শুরু হোক নিজের যত্ন ও আত্ম-সচেতনতা দিয়ে।”
ভয়শূন্য ও মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন
পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী মূর্ছনা চক্রবর্তী বলেন, “২০২৬-এর ভোরে দাঁড়িয়ে আমি কল্পনা করি একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও নারীর অধিকার নিশ্চিত করা বাংলাদেশ। রবীন্দ্রনাথের ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’—এই দর্শনেই গড়ে উঠুক আমাদের ক্যাম্পাস ও দেশ। সেশনজটমুক্ত শিক্ষাঙ্গনে মেধার জয়গান গেয়ে আমরা আগামীর স্থিতিশীল বাংলাদেশের কারিগর হতে চাই।”
স্মৃতি, শোক ও আগামীর প্রত্যয়
ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী মু. শামসুল আরেফিন বলেন, “নতুন বছর আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারের নাম। তবে গত বছরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রিয় মুখ ‘সুভাষ ছড়ানো শাফি’-কে হারানোর গভীর বেদনা। তার মানবিকতা ও সৌহার্দ্যের শিক্ষা আমাদের আরও দায়িত্বশীল হতে অনুপ্রাণিত করবে। নতুন বছরে নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতায় আরও সচেতন হবে—এই প্রত্যাশাই করি।”
নতুন বছরকে ঘিরে নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে তাই একই সুর—নিজেকে বদলানোর অঙ্গীকার, ন্যায়ভিত্তিক সমাজের স্বপ্ন এবং একটি সুন্দর, মানবিক বাংলাদেশের প্রত্যাশা।
শু/সবা


























