1:54 pm, Friday, 1 May 2026

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব সহ্য করা হবে না: প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষা খাতকে সম্পূর্ণভাবে দুর্নীতিমুক্ত ও দলীয়করণমুক্ত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে শতভাগ করাপশন ফ্রি রাখা হবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব সহ্য করা হবে না।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়-এর সভাকক্ষে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা যে লিখিত দাবিগুলো উপস্থাপন করেছেন, সেগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। বিভিন্ন দাবির মধ্যে যেসব ‘স্ট্যান্ডিং ইস্যু’ রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা হঠাৎ করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। শিক্ষক সমাজের সঙ্গে আলোচনা করেই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে যেতে চাই, যাতে পাঁচ বা সাত বছর পর একই দাবিতে আবার আন্দোলনের প্রয়োজন না পড়ে।”

শিক্ষকদের মর্যাদা প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা যে দায়িত্ব পালন করেন, তার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ও প্রত্যাশা সম্পর্কে সরকার সম্পূর্ণ সচেতন বলেও জানান তিনি।

কারিকুলাম সংস্কার নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইংরেজি মাধ্যম, বাংলা মাধ্যম, মাদ্রাসা ও আলিয়া—সব ধারাকে একটি সাধারণ কাঠামোর (জেনারেল আমব্রেলা) আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে এবং পর্যাপ্ত পর্যালোচনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি এককভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে সম্ভব নয়। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে এবং আর্থিক হিসাব প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে।

অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব দাবি আবেগের জায়গা থেকে নয়, বরং যৌক্তিকতার ভিত্তিতে এসেছে। দাবি ও প্রস্তাবগুলো আরও সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হলে সমাধানের পথ সহজ হবে।

এনটিআরসিসহ শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কাঠামো নিয়ে সচিবদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা—এই তিন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে কাঠামোগত সাদৃশ্য আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “দুটি বিষয়ে আমরা একদম আপসহীন—দুর্নীতি ও দলীয়করণ। শিক্ষা খাতে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব চলবে না। ব্যক্তিগতভাবে কেউ কোন রাজনীতি করেন, সেটি বিষয় নয়; কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরে কোনো পলিটিসাইজেশন আমরা হতে দেব না।”

তিনি আরও জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে সভায় আলোচিত এজেন্ডাগুলোর অগ্রগতি লিখিত আকারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। এরপর শিক্ষক সমাজের কাছেও বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ভূঁইয়া

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

eighteen + 15 =

Popular Post

নিজেকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করলেন- ডা.তাহের

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব সহ্য করা হবে না: প্রতিমন্ত্রী

Update Time : ০২:২২:৫৬ pm, Sunday, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শিক্ষা খাতকে সম্পূর্ণভাবে দুর্নীতিমুক্ত ও দলীয়করণমুক্ত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে শতভাগ করাপশন ফ্রি রাখা হবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব সহ্য করা হবে না।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়-এর সভাকক্ষে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা যে লিখিত দাবিগুলো উপস্থাপন করেছেন, সেগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। বিভিন্ন দাবির মধ্যে যেসব ‘স্ট্যান্ডিং ইস্যু’ রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা হঠাৎ করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। শিক্ষক সমাজের সঙ্গে আলোচনা করেই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে যেতে চাই, যাতে পাঁচ বা সাত বছর পর একই দাবিতে আবার আন্দোলনের প্রয়োজন না পড়ে।”

শিক্ষকদের মর্যাদা প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা যে দায়িত্ব পালন করেন, তার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ও প্রত্যাশা সম্পর্কে সরকার সম্পূর্ণ সচেতন বলেও জানান তিনি।

কারিকুলাম সংস্কার নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইংরেজি মাধ্যম, বাংলা মাধ্যম, মাদ্রাসা ও আলিয়া—সব ধারাকে একটি সাধারণ কাঠামোর (জেনারেল আমব্রেলা) আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে এবং পর্যাপ্ত পর্যালোচনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি এককভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে সম্ভব নয়। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে এবং আর্থিক হিসাব প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে।

অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব দাবি আবেগের জায়গা থেকে নয়, বরং যৌক্তিকতার ভিত্তিতে এসেছে। দাবি ও প্রস্তাবগুলো আরও সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হলে সমাধানের পথ সহজ হবে।

এনটিআরসিসহ শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কাঠামো নিয়ে সচিবদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা—এই তিন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে কাঠামোগত সাদৃশ্য আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “দুটি বিষয়ে আমরা একদম আপসহীন—দুর্নীতি ও দলীয়করণ। শিক্ষা খাতে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব চলবে না। ব্যক্তিগতভাবে কেউ কোন রাজনীতি করেন, সেটি বিষয় নয়; কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরে কোনো পলিটিসাইজেশন আমরা হতে দেব না।”

তিনি আরও জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে সভায় আলোচিত এজেন্ডাগুলোর অগ্রগতি লিখিত আকারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। এরপর শিক্ষক সমাজের কাছেও বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ভূঁইয়া

শু/সবা