6:08 pm, Thursday, 30 April 2026

কক্সবাজারে হঠাৎ বজ্রপাত ও ভারী বর্ষণে জনশূন্য সমুদ্র সৈকত

কক্সবাজারে কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডব হঠাৎ বজ্রপাত ও ভারী বর্ষণে জনশূন্য বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট বায়ুচাপের প্রভাবে গত মঙ্গলবার থেকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অফিস।
এতে উত্তাল হয়ে উঠেছে সাগর; ঢেউয়ের উচ্চতা পৌঁছায় ৬ থেকে ৭ ফুটে। এর সঙ্গে ছিল ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাত।
২৯ এপ্রিল, বুধবার, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবনী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্ট এবং হোটেল- মোটেল জোন ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই লাবনী ও কলাতলী সৈকত ছিল প্রায় পর্যটকশূন্য। তবে সুগন্ধা পয়েন্টে হাতেগোনা কয়েক হাজার পর্যটক দেখা গেছে। উত্তাল সাগর দেখে কেউ সমুদ্রস্নানে নামেননি; অল্প সময় বালিয়াড়িতে হাঁটাহাঁটি করে হোটেলে ফিরে যান।
দুপুরের পর শুরু হয় বজ্রপাতের সঙ্গে ভারী বর্ষণ। এতে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনটি পয়েন্টের বালুচর একেবারে ফাঁকা হয়ে যায়। সৈকতপাড়ের ফটোগ্রাফার, বিচ বাইক, ঘোড়াওয়ালা, জেটস্কি চালক ও ছোট ব্যবসায়ীরাও সরে যেতে বাধ্য হন।
অন্যদিকে ভারী বর্ষণে হোটেল- মোটেল জোনের প্রধান সড়কে পানি উঠে যায়, এতে পর্যটক ও স্থানীয়দের ভোগান্তি বাড়ে। যদিও সন্ধ্যার পর বৃষ্টি কমলে পানি নেমে যায়। হোটেল-মোটেল জোন, বার্মিজ মার্কেট ও রেস্তোরাঁগুলোও ছিল ফাঁকা। হোটেল, রেস্তোরাঁ ও দোকান মালিকরা জানান, বজ্রপাত ও ভারী বর্ষণের কারণে পর্যটন ব্যবসায় মন্দা চলছে। অনেক হোটেলে থাকা পর্যটকরাও বৈরী আবহাওয়ায় কক্সবাজার ছাড়তে শুরু করেছেন।
সী সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার প্রজেক্ট কর্মকর্তা মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ২৯ এপ্রিল কক্সবাজারের লাবনী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে মাত্র হাজারখানেক পর্যটকের সমাগম হয়েছে। সাম্প্রতিক খারাপ আবহাওয়ায় পর্যটক আগমন কমে গেছে। যারা এসেছেন, তারাও উত্তাল সাগর ও ঝুঁকির কারণে পানিতে নামতে পারেননি। তিনি জানান, বিভিন্ন পয়েন্টে লাল পতাকা টানানো হয়েছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় লাইফগার্ডরা টহল দিচ্ছেন। পর্যটকদের পানিতে নামতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সৈকতে ভাসমান টিউব ও অন্যান্য জলক্রীড়া কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, চার দিনের ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত) কক্সবাজারে ৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি বলেন, বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার কারণে জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এ সময় মানুষকে বৈদ্যুতিক তার, বড় গাছ ও খোলা স্থান থেকে দূরে থাকতে হবে। বজ্রধ্বনি শোনা মাত্র নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে এবং ঘরের ধাতব বস্তু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। টিভি, ফ্রিজ, এসি, রাউটারসহ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির প্লাগ খুলে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
আরও দুই দিন বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করে তিনি বলেন, সাগরে অবস্থানকারীদের লাইফ গার্ড সংস্থা, বিচকর্মী ও প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
শু/সবা
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

5 × three =

About Author Information

Popular Post

রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও গ্রেপ্তার দাবি নাহিদ ইসলামের

কক্সবাজারে হঠাৎ বজ্রপাত ও ভারী বর্ষণে জনশূন্য সমুদ্র সৈকত

Update Time : ০৪:৩৫:৩১ pm, Thursday, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
কক্সবাজারে কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডব হঠাৎ বজ্রপাত ও ভারী বর্ষণে জনশূন্য বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট বায়ুচাপের প্রভাবে গত মঙ্গলবার থেকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অফিস।
এতে উত্তাল হয়ে উঠেছে সাগর; ঢেউয়ের উচ্চতা পৌঁছায় ৬ থেকে ৭ ফুটে। এর সঙ্গে ছিল ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাত।
২৯ এপ্রিল, বুধবার, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবনী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্ট এবং হোটেল- মোটেল জোন ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই লাবনী ও কলাতলী সৈকত ছিল প্রায় পর্যটকশূন্য। তবে সুগন্ধা পয়েন্টে হাতেগোনা কয়েক হাজার পর্যটক দেখা গেছে। উত্তাল সাগর দেখে কেউ সমুদ্রস্নানে নামেননি; অল্প সময় বালিয়াড়িতে হাঁটাহাঁটি করে হোটেলে ফিরে যান।
দুপুরের পর শুরু হয় বজ্রপাতের সঙ্গে ভারী বর্ষণ। এতে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনটি পয়েন্টের বালুচর একেবারে ফাঁকা হয়ে যায়। সৈকতপাড়ের ফটোগ্রাফার, বিচ বাইক, ঘোড়াওয়ালা, জেটস্কি চালক ও ছোট ব্যবসায়ীরাও সরে যেতে বাধ্য হন।
অন্যদিকে ভারী বর্ষণে হোটেল- মোটেল জোনের প্রধান সড়কে পানি উঠে যায়, এতে পর্যটক ও স্থানীয়দের ভোগান্তি বাড়ে। যদিও সন্ধ্যার পর বৃষ্টি কমলে পানি নেমে যায়। হোটেল-মোটেল জোন, বার্মিজ মার্কেট ও রেস্তোরাঁগুলোও ছিল ফাঁকা। হোটেল, রেস্তোরাঁ ও দোকান মালিকরা জানান, বজ্রপাত ও ভারী বর্ষণের কারণে পর্যটন ব্যবসায় মন্দা চলছে। অনেক হোটেলে থাকা পর্যটকরাও বৈরী আবহাওয়ায় কক্সবাজার ছাড়তে শুরু করেছেন।
সী সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার প্রজেক্ট কর্মকর্তা মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ২৯ এপ্রিল কক্সবাজারের লাবনী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে মাত্র হাজারখানেক পর্যটকের সমাগম হয়েছে। সাম্প্রতিক খারাপ আবহাওয়ায় পর্যটক আগমন কমে গেছে। যারা এসেছেন, তারাও উত্তাল সাগর ও ঝুঁকির কারণে পানিতে নামতে পারেননি। তিনি জানান, বিভিন্ন পয়েন্টে লাল পতাকা টানানো হয়েছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় লাইফগার্ডরা টহল দিচ্ছেন। পর্যটকদের পানিতে নামতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সৈকতে ভাসমান টিউব ও অন্যান্য জলক্রীড়া কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, চার দিনের ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত) কক্সবাজারে ৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি বলেন, বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার কারণে জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এ সময় মানুষকে বৈদ্যুতিক তার, বড় গাছ ও খোলা স্থান থেকে দূরে থাকতে হবে। বজ্রধ্বনি শোনা মাত্র নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে এবং ঘরের ধাতব বস্তু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। টিভি, ফ্রিজ, এসি, রাউটারসহ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির প্লাগ খুলে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
আরও দুই দিন বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করে তিনি বলেন, সাগরে অবস্থানকারীদের লাইফ গার্ড সংস্থা, বিচকর্মী ও প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
শু/সবা