6:52 pm, Thursday, 30 April 2026

জাতিসংঘে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরল বাংলাদেশ

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বাস্তবায়ন, বিভিন্ন জাতিসত্তার উন্নয়ন এবং সংস্কৃতি সংরক্ষণে সরকারের চলমান কার্যক্রম আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরা হয়েছে। জাতিসংঘ-এর আদিবাসী সংক্রান্ত স্থায়ী ফোরামের ২৫তম অধিবেশনে এসব বিষয় উপস্থাপন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক-এ জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি বাংলাদেশের অগ্রগতি তুলে ধরেন।

বক্তব্যে সচিব বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, লিঙ্গ বা জন্মস্থান নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সম-অধিকার নিশ্চিত করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি জানান, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ এগিয়ে চলছে। চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৬৫টি ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়েছে; তিনটি আংশিক এবং চারটি ধারা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

তিনি পার্বত্য অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তিতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন। পাশাপাশি বিভিন্ন জাতিসত্তার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে বিশেষ সহকারী নিয়োগ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল সংযোগ বৃদ্ধি এবং জীবিকার বৈচিত্রায়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমানোর উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন।

নৃতাত্ত্বিক সংস্কৃতি ও ভাষার বৈচিত্র্য সংরক্ষণে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, পার্বত্য এলাকায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বৃত্তি প্রদান, বহুভাষিক শিক্ষা, ই-লার্নিং ব্যবস্থা, জেলা ও উপজেলা হাসপাতাল উন্নয়ন এবং মোবাইল মেডিকেল টিম চালু করা হয়েছে।

এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় ২০ লাখ বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২০ এপ্রিল থেকে ১ মে পর্যন্ত দুই সপ্তাহব্যাপী এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি এবং নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

one × three =

About Author Information

Popular Post

বিএনপির শাসনামলে শেয়ারবাজারে লুটপাটের সুযোগ ছিল না: অর্থমন্ত্রী

জাতিসংঘে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরল বাংলাদেশ

Update Time : ০৬:১৯:৫৭ pm, Thursday, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বাস্তবায়ন, বিভিন্ন জাতিসত্তার উন্নয়ন এবং সংস্কৃতি সংরক্ষণে সরকারের চলমান কার্যক্রম আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরা হয়েছে। জাতিসংঘ-এর আদিবাসী সংক্রান্ত স্থায়ী ফোরামের ২৫তম অধিবেশনে এসব বিষয় উপস্থাপন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক-এ জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি বাংলাদেশের অগ্রগতি তুলে ধরেন।

বক্তব্যে সচিব বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, লিঙ্গ বা জন্মস্থান নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সম-অধিকার নিশ্চিত করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি জানান, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ এগিয়ে চলছে। চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৬৫টি ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়েছে; তিনটি আংশিক এবং চারটি ধারা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

তিনি পার্বত্য অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তিতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন। পাশাপাশি বিভিন্ন জাতিসত্তার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে বিশেষ সহকারী নিয়োগ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল সংযোগ বৃদ্ধি এবং জীবিকার বৈচিত্রায়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমানোর উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন।

নৃতাত্ত্বিক সংস্কৃতি ও ভাষার বৈচিত্র্য সংরক্ষণে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, পার্বত্য এলাকায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বৃত্তি প্রদান, বহুভাষিক শিক্ষা, ই-লার্নিং ব্যবস্থা, জেলা ও উপজেলা হাসপাতাল উন্নয়ন এবং মোবাইল মেডিকেল টিম চালু করা হয়েছে।

এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় ২০ লাখ বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২০ এপ্রিল থেকে ১ মে পর্যন্ত দুই সপ্তাহব্যাপী এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি এবং নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

শু/সবা