১১:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ভ্রমণ সুবিধায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা

কথায় আছে বয়সের সাথে বুদ্ধি আসে এবং ভ্রমণের সাথে অভিজ্ঞতা আসে। দেশমাতৃকার ভূ-খন্ড থেকে এই অভিজ্ঞতা অর্জন করার জন্য ভ্রমণের আদর্শ স্থান ও পরিবেশ নির্বাচন করাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক, বিখ্যাত ও দর্শনীয় স্থানগুলোর বেশিরভাগই বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলে। আর এই অঞ্চলের সর্ববৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই ভ্রমণ সুবিধায় থাকে সবার চাইতে এগিয়ে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যা নিজেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য লীলাভূমি এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়। ২ হাজার ৩০০ একরের বিস্তৃত পাহাড় ঘেরা মায়াবী ক্যাম্পাস। সবুজের মাঝে এখানে দিগন্ত বিলিন যা আন্দলিত করবে যে কাউকে।নিয়ে যাবে কাল্পনিক মোহমায়ার সংস্পর্শে। এ ক্যাম্পাস যেন নানা রুপের সমাহার, পাহাড়, ঝর্ণা, লেক, বৈচিত্রময় পাখ-পাখালী, প্রানী, সাপ, বন্যশুকর, হরিণ সহ জীব বৈচিত্র এ ক্যাম্পাসে এনে দিয়েছে ভিন্ন এক মাধুর্যতা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভ্রমণের স্বর্গরাজ্য বান্দরবন, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার কাছাকাছি হওয়ায় প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীরা ছুটে বেড়ায় ভ্রমণতৃষ্ণা মেটাতে। বিশ্ববিদ্যালয়ে চার-পাঁচ বছরে শিক্ষার্থী জীবনে সবাই চায় এই অঞ্চলগুলো ভ্রমণ করতে। পার্বত্য তিন অঞ্চলের উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণ-পূর্ব দিকে মিয়ানমার, পূর্বে ভারতের মিজোরাম আর পশ্চিমে চট্টগ্রাম।

বান্দরবানের নৈসর্গিক রুপ

বান্দরবান : পাহাড়, নদী ও ঝর্ণার মিলনে অপরূপ সুন্দর বান্দরবান। বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট থেকে বান্দরবান জেলার দূরত্ব ৭৯ কিলোমিটার। বান্দরবানে রয়েছে নীলগীরি, নীলাচল,
চিম্বুক পাহাড়, কেওক্রাডং, নাফাখুম জলপ্রপাত, মারায়নতং, ঋজুক জলপ্রপাত, ডামতুয়া ঝর্ণা, বগালেক, আলীগুহা, আমিয়াখুম জলপ্রপাত, মিলনছড়ি, ডিম পাহাড়, নীল দিগন্ত পর্যটন কেন্দ্রসহ আরও অসংখ্য নিদর্শন।

রাঙ্গামাটির দর্শনীয় কিছু স্থান

রাঙ্গামটি : বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জেলা হিসেবে এই জেলার পরিচিতি কম হলেও সুন্দরের ক্ষেত্রে রাঙ্গামাটি নামটাই যথেষ্ট। দূরত্ব ও খরচ বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে কেন্দ্রে থাকে রাঙামাটি জেলা। বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট থেকে এই জেলার দূরত্ব ৫৪ কিলোমিটার। সাজেক ভ্যালি, কাপ্তাই লেক, রাজবন বিহার, ঝুলন্ত ব্রিজ, শুভলং ঝর্ণা, হাজাছড়া ঝর্ণা, লেক ভিউ আইল্যান্ড, ধুপপানি ঝর্ণা, আরণ্যক হলিডে রিসোর্ট, কমলক ঝর্ণা, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের সমাধি সহ অসংখ্য নিদর্শন রয়েছে এই রাঙামাটিতে।

খাগড়াছড়ির অন্যতম আকর্ষনীয় স্থান হাতিমাথা ব্রিজ

খাগড়াছড়ি : অপরুপ সৌন্দর্যের অধিকারী এই জেলায় রয়েছে অসম্ভব সুন্দর সব পর্যটন কেন্দ্র, যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে। দূরত্ব ও নানা প্রতিকূল পরিবেশের কারণে চবি শিক্ষার্থীদের এই জেলায় ভ্রমন অন্য তিন জেলার চেয়ে তুলনামূলকভাবে কম। বিশ্ববিদ্যায়লের জিরো পয়েন্ট থেকে খাগড়াছড়ি জেলার দূরত্ব ৯৬ কিলোমিটার। এ জেলায় রয়েছে আলুটিলা গুহা, রিসাং ঝর্ণা,
মানিকছড়ি মং রাজবাড়ী, মায়াবিনী লেক, মাতাই পুখিরি, হর্টিকালচার হেরিটেজ পার্ক, তৈদুছড়া ঝর্ণা, হাতিমাথা, নিউজিল্যান্ড পাড়া সহ আরও অনেক মনমুগ্ধকর পর্যটন কেন্দ্র।

পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার

কক্সবাজার : ভ্রমণের ক্ষেত্রে কক্সবাজার একটি বিশেষ নাম। পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে। জেলার প্রায় অর্ধেক এলাকা জুড়ে পার্বত্য অঞ্চল ও অর্ধেক সমুদ্র উপকূলীয় দ্বীপাঞ্চল। বর্তমানে ট্রেন সুবিধা শিক্ষার্থীদের জন্য চমকপ্রদ সুবিধা দিচ্ছে, যা সত্যিই অবিস্মরনীয়। বিশ্ববিদ্যায়লের শাটল থেকে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন পৌছানোর পর কক্সবাজারগামী ট্রেনে উঠে নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যের বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক বালুময় সমুদ্র সৈকতকে উপভোগ করে ঐদিনই শিক্ষার্থীরা ট্রেনে ক্যম্পাসে ফিরে আসতে পারে। রয়েছে দেশের সবচেয়ে সুন্দর স্থান সেন্টমার্টিন, ছেঁড়া দ্বীপ, মহেশখালী‌ দ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ, রামুর বৌদ্ধ মন্দির, ফিস ওয়ার্ল্ড, ইনানী সমুদ্র সৈকত, হিমছড়ি ঝর্ণা, হিমছড়ি পাহাড়, কুতুবদিয়া দ্বীপ ছাড়াও অসংখ্য প্রাকৃতিক নিদর্শন।

পার্বত্য তিন জেলা ও কক্সবাজার ছাড়াও শিক্ষার্থীদের ভ্রমনের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে -সীতাকুণ্ডু চন্দ্রনাথ পাহাড় ও ইকো পার্ক, গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত, বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত, নাপিত্তাছাড়া ঝর্ণা, পার্কি সী বিচ, সোনাইছড়ি ট্রেইল। এছাড়া কুমিল্লার শালবন বৌদ্ধ বিহার, ময়নামতি জাদুঘর, ওয়ার সিমেট্রি, ধর্মসাগর দীঘি, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, আনন্দ বিহারের প্রতিও শিক্ষার্থীদের ভ্রমণের আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।

অ্যাডভেঞ্চার প্রেমীদের টানে দূর্গম সোনাইছড়ি ট্রেইল

ভ্রমণ করার জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার হয় নিজের মনের ইচ্ছাশক্তি। জীবনের কঠিন মুহূর্তও সহজ হয়ে যায় এবং কঠিন কাজও নিজের কাছে সহজ মনে হয় শুধু একবার ভ্রমণ করার মাধ্যমে। ভ্রমণের ক্ষেত্র হিসেবে ভ্রমণ পিপাসু শিক্ষার্থীদের কাছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় একটি আশীর্বাদ। ছোট্ট গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ নয়, এক বিশাল পৃথিবীর সঙ্গে পরিচয় ঘটে। আলাদা রকম ভাবে সময় কাটালে মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকা যায়।বিভিন্ন শ্রেণীর, বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে পরিচিতি লাভের সুযোগ হয় চিন্তা ধারায় এক অন্য রকম পরিবর্তন আসে।ভ্রমনে নানা রকম সমস্যার মধ্যে কিভাবে বেরিয়ে আসা যায়, এবং সেই পরিবেশের সঙ্গে কি ভাবে খাপ খাইয়ে চলতে হবে তাও শিখতে পারি।কিভাবে বিপদসংকুল পথ জয় করে আনন্দ উপভোগ করা যায় তা ভ্রমণই আমাদের শেখায়।
আসুন ভ্রমণ নিয়ে স্বপ্ন দেখুন,ভ্রমণ করুন।
নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করুন।

নাফিউল ইকবাল

 

 

 

 

 

 

লেখক : শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

ভ্রমণ সুবিধায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ০৫:০০:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

কথায় আছে বয়সের সাথে বুদ্ধি আসে এবং ভ্রমণের সাথে অভিজ্ঞতা আসে। দেশমাতৃকার ভূ-খন্ড থেকে এই অভিজ্ঞতা অর্জন করার জন্য ভ্রমণের আদর্শ স্থান ও পরিবেশ নির্বাচন করাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক, বিখ্যাত ও দর্শনীয় স্থানগুলোর বেশিরভাগই বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলে। আর এই অঞ্চলের সর্ববৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই ভ্রমণ সুবিধায় থাকে সবার চাইতে এগিয়ে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যা নিজেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য লীলাভূমি এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়। ২ হাজার ৩০০ একরের বিস্তৃত পাহাড় ঘেরা মায়াবী ক্যাম্পাস। সবুজের মাঝে এখানে দিগন্ত বিলিন যা আন্দলিত করবে যে কাউকে।নিয়ে যাবে কাল্পনিক মোহমায়ার সংস্পর্শে। এ ক্যাম্পাস যেন নানা রুপের সমাহার, পাহাড়, ঝর্ণা, লেক, বৈচিত্রময় পাখ-পাখালী, প্রানী, সাপ, বন্যশুকর, হরিণ সহ জীব বৈচিত্র এ ক্যাম্পাসে এনে দিয়েছে ভিন্ন এক মাধুর্যতা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভ্রমণের স্বর্গরাজ্য বান্দরবন, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার কাছাকাছি হওয়ায় প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীরা ছুটে বেড়ায় ভ্রমণতৃষ্ণা মেটাতে। বিশ্ববিদ্যালয়ে চার-পাঁচ বছরে শিক্ষার্থী জীবনে সবাই চায় এই অঞ্চলগুলো ভ্রমণ করতে। পার্বত্য তিন অঞ্চলের উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণ-পূর্ব দিকে মিয়ানমার, পূর্বে ভারতের মিজোরাম আর পশ্চিমে চট্টগ্রাম।

বান্দরবানের নৈসর্গিক রুপ

বান্দরবান : পাহাড়, নদী ও ঝর্ণার মিলনে অপরূপ সুন্দর বান্দরবান। বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট থেকে বান্দরবান জেলার দূরত্ব ৭৯ কিলোমিটার। বান্দরবানে রয়েছে নীলগীরি, নীলাচল,
চিম্বুক পাহাড়, কেওক্রাডং, নাফাখুম জলপ্রপাত, মারায়নতং, ঋজুক জলপ্রপাত, ডামতুয়া ঝর্ণা, বগালেক, আলীগুহা, আমিয়াখুম জলপ্রপাত, মিলনছড়ি, ডিম পাহাড়, নীল দিগন্ত পর্যটন কেন্দ্রসহ আরও অসংখ্য নিদর্শন।

রাঙ্গামাটির দর্শনীয় কিছু স্থান

রাঙ্গামটি : বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জেলা হিসেবে এই জেলার পরিচিতি কম হলেও সুন্দরের ক্ষেত্রে রাঙ্গামাটি নামটাই যথেষ্ট। দূরত্ব ও খরচ বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে কেন্দ্রে থাকে রাঙামাটি জেলা। বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট থেকে এই জেলার দূরত্ব ৫৪ কিলোমিটার। সাজেক ভ্যালি, কাপ্তাই লেক, রাজবন বিহার, ঝুলন্ত ব্রিজ, শুভলং ঝর্ণা, হাজাছড়া ঝর্ণা, লেক ভিউ আইল্যান্ড, ধুপপানি ঝর্ণা, আরণ্যক হলিডে রিসোর্ট, কমলক ঝর্ণা, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের সমাধি সহ অসংখ্য নিদর্শন রয়েছে এই রাঙামাটিতে।

খাগড়াছড়ির অন্যতম আকর্ষনীয় স্থান হাতিমাথা ব্রিজ

খাগড়াছড়ি : অপরুপ সৌন্দর্যের অধিকারী এই জেলায় রয়েছে অসম্ভব সুন্দর সব পর্যটন কেন্দ্র, যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে। দূরত্ব ও নানা প্রতিকূল পরিবেশের কারণে চবি শিক্ষার্থীদের এই জেলায় ভ্রমন অন্য তিন জেলার চেয়ে তুলনামূলকভাবে কম। বিশ্ববিদ্যায়লের জিরো পয়েন্ট থেকে খাগড়াছড়ি জেলার দূরত্ব ৯৬ কিলোমিটার। এ জেলায় রয়েছে আলুটিলা গুহা, রিসাং ঝর্ণা,
মানিকছড়ি মং রাজবাড়ী, মায়াবিনী লেক, মাতাই পুখিরি, হর্টিকালচার হেরিটেজ পার্ক, তৈদুছড়া ঝর্ণা, হাতিমাথা, নিউজিল্যান্ড পাড়া সহ আরও অনেক মনমুগ্ধকর পর্যটন কেন্দ্র।

পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার

কক্সবাজার : ভ্রমণের ক্ষেত্রে কক্সবাজার একটি বিশেষ নাম। পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে। জেলার প্রায় অর্ধেক এলাকা জুড়ে পার্বত্য অঞ্চল ও অর্ধেক সমুদ্র উপকূলীয় দ্বীপাঞ্চল। বর্তমানে ট্রেন সুবিধা শিক্ষার্থীদের জন্য চমকপ্রদ সুবিধা দিচ্ছে, যা সত্যিই অবিস্মরনীয়। বিশ্ববিদ্যায়লের শাটল থেকে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন পৌছানোর পর কক্সবাজারগামী ট্রেনে উঠে নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যের বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক বালুময় সমুদ্র সৈকতকে উপভোগ করে ঐদিনই শিক্ষার্থীরা ট্রেনে ক্যম্পাসে ফিরে আসতে পারে। রয়েছে দেশের সবচেয়ে সুন্দর স্থান সেন্টমার্টিন, ছেঁড়া দ্বীপ, মহেশখালী‌ দ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ, রামুর বৌদ্ধ মন্দির, ফিস ওয়ার্ল্ড, ইনানী সমুদ্র সৈকত, হিমছড়ি ঝর্ণা, হিমছড়ি পাহাড়, কুতুবদিয়া দ্বীপ ছাড়াও অসংখ্য প্রাকৃতিক নিদর্শন।

পার্বত্য তিন জেলা ও কক্সবাজার ছাড়াও শিক্ষার্থীদের ভ্রমনের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে -সীতাকুণ্ডু চন্দ্রনাথ পাহাড় ও ইকো পার্ক, গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত, বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত, নাপিত্তাছাড়া ঝর্ণা, পার্কি সী বিচ, সোনাইছড়ি ট্রেইল। এছাড়া কুমিল্লার শালবন বৌদ্ধ বিহার, ময়নামতি জাদুঘর, ওয়ার সিমেট্রি, ধর্মসাগর দীঘি, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, আনন্দ বিহারের প্রতিও শিক্ষার্থীদের ভ্রমণের আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।

অ্যাডভেঞ্চার প্রেমীদের টানে দূর্গম সোনাইছড়ি ট্রেইল

ভ্রমণ করার জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার হয় নিজের মনের ইচ্ছাশক্তি। জীবনের কঠিন মুহূর্তও সহজ হয়ে যায় এবং কঠিন কাজও নিজের কাছে সহজ মনে হয় শুধু একবার ভ্রমণ করার মাধ্যমে। ভ্রমণের ক্ষেত্র হিসেবে ভ্রমণ পিপাসু শিক্ষার্থীদের কাছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় একটি আশীর্বাদ। ছোট্ট গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ নয়, এক বিশাল পৃথিবীর সঙ্গে পরিচয় ঘটে। আলাদা রকম ভাবে সময় কাটালে মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকা যায়।বিভিন্ন শ্রেণীর, বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে পরিচিতি লাভের সুযোগ হয় চিন্তা ধারায় এক অন্য রকম পরিবর্তন আসে।ভ্রমনে নানা রকম সমস্যার মধ্যে কিভাবে বেরিয়ে আসা যায়, এবং সেই পরিবেশের সঙ্গে কি ভাবে খাপ খাইয়ে চলতে হবে তাও শিখতে পারি।কিভাবে বিপদসংকুল পথ জয় করে আনন্দ উপভোগ করা যায় তা ভ্রমণই আমাদের শেখায়।
আসুন ভ্রমণ নিয়ে স্বপ্ন দেখুন,ভ্রমণ করুন।
নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করুন।

নাফিউল ইকবাল

 

 

 

 

 

 

লেখক : শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়