১০:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

কাজে আসছে না যানজট নিরসনের কোনো উদ্যোগ

◉ যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, যাত্রী ওঠা-নামা
◉ ফুটপাত দখলে থাকায় রাস্তায় হাঁটছে পথচারী
◉ ব্যস্ততম সড়কে গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি

সড়কে এখনো শৃঙ্খলায় ফেরেনি গণপরিবহনসহ ব্যক্তিগত যানবাহন। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, যাত্রী ওঠা-নামা ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে গাড়ির জটলা করে স্ট্যান্ড বানানোয় কাজে আসছে না যানজট নিরসনের কোনো উদ্যোগ। যানজট নিরসনে একের পর এক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করলেও তা বাস্তবায়ন ও ট্রাফিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় রাজধানীর যানজট আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর যানজট কমাতে প্রথমেই শৃঙ্খলায় আনতে হবে গণপরিবহনকে। দখলমুক্ত করতে হবে সব ফুটপাট। নতুন করে গাড়ি নামানোর অনুমোদন না দেওয়ার পাশাপাশি ট্রাফিক আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করাও জরুরি। গতকাল শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর নিউমার্কেট, শাহবাগ, বাংলামোটর, সাইন্সল্যাব, পান্থপথ ক্রসিং, রাসেল স্কয়ার, শ্যামলী, টেকনিক্যাল মোড়, আগারগাঁও, চাঁনখারপুল, বকশিবাজার মোড়, ফার্মগেট, বিমানবন্দর সড়ক, মগবাজার, মৌচাক, রামপুরা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বিভিন্ন ট্রাফিক সিগন্যালে দীর্ঘ যানজট গেলে ছিল। এর অধিকাংশ সড়কেই গণপরিবহন আর প্রাইভেটকারের দীর্ঘ সারি। গণপরিবহনগুলো নিজেদের ইচ্ছেমত যত্র-তত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা এবং ব্যক্তিগত গাড়ি যেখানে-সেখানে পার্কিং করে রাখায় সড়কে তীব্র জট লেগে ছিল। গণপরিবহনের সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা বলেন, সড়কে যানজটের মূল কারণ ট্রাফিক অব্যবস্থাপনা। হকাররা ফুটপাতে হাঁটার জায়গায় পসরা বসানোয় পথচারীরা বাধ্য হয়ে গাড়ি চলাচলের রাস্তায় নেমে যাচ্ছেন। এগুলো দেখভালের দায়িত্ব যাদের তারাও অদৃশ্য কারণে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না। একইসঙ্গে ফুটপাতে উঠে যাচ্ছে মোটরসাইকেল। ট্রাফিক পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের নাকের ডগায় এমন দৃশ্য দেখা গেলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না। তারা আরও বলেন, অনেকসময় ফিটনেস গাড়ি সড়কের মাঝপথে যান্ত্রিক ত্রুটিতে থেমে যাচ্ছে। কখনো কখনো ব্যস্ততম সড়কের মধ্যেই পণ্যবাহী ট্রাক-কাভার্ডভ্যান থামিয়ে কাগজপত্র তল্লাশি করছে ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা। এর ফলে ওই গাড়ির পেছনে গাড়ি দীর্ঘ সারিতে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

গণপরিবহনের চালক ও শ্রমিকরা জানান, তাদের মালিকরা নিয়মিত রোড ট্যাক্স দিচ্ছেন। নির্ধারিত বাসটার্মিনাল না থাকায় রাস্তার পাশেই পার্কিং করে রাখতে হচ্ছে। এতে রাস্তা সঙ্কুচিত হয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। রাজধানীর অধিকাংশ শপিংমল-মার্কেটকেন্দ্রিক পার্কিং প্লেস না থাকায় রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ি রাখছেন। রাজধানীতে যানজট কমাতে বিভিন্ন সময় নানা উদ্যোগের কথা বলা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ কিছু সড়কে রিক্সা চলাচল ও যত্রতত্র পার্কিং বন্ধ, সিএনজি চালিত অটোরিক্সার জন্য আলাদা লেন তৈরি এবং সড়কের মোড়ে মোড়ে গণপরিবহন না থামার জন্য আইন ও নির্দেশনা থাকলেও এখনো তা কার্যকর হয়নি। সবই রয়েছে ফাইলবন্দি। এদিকে, যাদের চোখে এসব অনিয়ম ধরা পড়ার কথা, তাদের সামনেই ঘটছে অনিয়ম। চলছে আইন ও নিয়ম ভাঙ্গার উৎসব। নির্বিকার তারা। অনেকের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশে অদক্ষতার কারণে যানজট তৈরি হয়। আর চালকদের দায়িত্বহীনতা ও বেপরোয়া আচরণ তো আছেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমান সরকার রাজধানীর যানজট নিরসনে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেলসহ অন্যান্য প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যেই মেট্রোরেল চালু করা হয়েছে। যার সুফল ভোগ করছেন নগরবাসী। আরও কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। ২০৩০ সাল নাগাদ শহরের যানজট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে জানিয়েছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।

বুয়েট এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ড. শাহনেওয়াজ রাব্বি সবুজ বাংলাকে বলেন, মানুষ যেখানেই সুযোগ পাবে সেটা নেয়ার চেষ্টা করবে। কিন্তু এখানে পুলিশ প্রশাসনের অনেক কিছুই করার আছে। ড্রাইভার এসোসিয়েশন, মালিক এসোসিয়েশন এবং বিআরটিএ-সহ সবাই যদি সঠিক ধারায় চিন্তা করে তাহলে এটা সমাধান হতে পারে। উন্নত বিশ্ব যেভাবে যানজট কমিয়েছে সেভাবে দেশের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার বিকল্প নেই। এছাড়া নতুন প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ট্রাফিক আইন ও সড়কের ব্যবহার নিয়ে স্কুলের পাঠ্যবইয়ে বিশেষ অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। প্রতিদিনই ঢাকার রাস্তায় নতুন করে গাড়ি নামছে। যার ফলে দৃশ্যমান হচ্ছে যানজটের ভয়াবহ চিত্র। সড়কের যানজট কমাতে ইতোমধ্যেই মেট্রেরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। এ ধরনের আরও প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। ফলে আগামীতে ঢাকাবাসী যানজটমুক্ত শহর দেখবে বলে আশা করছেন বুয়েটের এই বিশেষজ্ঞ।
বিআরটি’র তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৭ সালে সারাদেশে নিবন্ধিত মোটরযানের সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৭৫ হাজার এবং বর্তমানে নিবন্ধিত মোটরযানের সংখ্যা প্রায় ৫৮,৫১,৯০৩ লক্ষ। তবে এসব মোটরযানের প্রায় ৩০ শতাংশ বা প্রায় ১৭ লক্ষ মোটরযান বিভিন্ন কারণে অফরোড রয়েছে। এ সময়ে মোটরযানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৩৩.৪৪ গুণ। ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত উক্ত সংখ্যা বুদ্ধি পেয়ে রেজিস্ট্রেশনকৃত মোটরযানের সর্বমোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৭,৫৯,৩৫৩। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিআরটিএ কর্তৃক ৬টি মেট্রো সার্কেল এবং ৬৪টি জেলা সার্কেল অফিসের মাধ্যমে ৪,৬৯, ১৬৭টি মোটরযান রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। এর মধ্যে বাস-৫৩৬৫৬টি, মিনিবাস-২৮১২১টি, ট্রাক-১৪৯০৪৭টি, কাভার্ডভ্যান-৪৭৪৩০টি, জিপ-৮৬৬৭৬টি, প্রাইভেটকার-৪০৪১৩৯টি, পিকআপ-১৫৬৫৭১টি, মাইক্রোবাস-১১৮৩৫৬টি, মোটরসাইকেল-৪১৫০৫৩৪টি, ডেলিভারিম্যান-৩৩৫১৪টি, হিউম্যান হলার-১৭৩৮৫টি, ট্রাক্টর-৪৭১০৫টি ও অন্যান্য যানবাহন-৪৬৬৮১৯টি। একই অর্থবছরে ফিটসেন সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে ৬,৮৫,৫৫৭টি গাড়ির। বিআরটিএ’র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সুশৃঙ্খল, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও দক্ষ সড়ক পরিবহন গড়ে তোলা।

এদিকে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ডিএমপির সদর দপ্তরে ডিএমপি ও জাইকার উদ্যোগে ঢাকা রোড ট্রাফিক সেফটি প্রজেক্ট (ডিআরএসপি) নিয়ে ৪র্থ যৌথ সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক-ডিআরএসপি ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. মুনিবুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, ডিআরএসপি এবং প্রশিক্ষক হিসাবে প্রশিক্ষিত ডিএমপির তিনজন কর্মকর্তা এ পর্যন্ত তিনটি স্কুলে ব্যবহারিক ও অংশগ্রহণমূলক শিক্ষা কর্মসূচি (পিপিইপি) নামে একটি সড়ক নিরাপত্তা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, যানজট ঢাকা শহরের অন্যতম একটি সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসতে হবে। আমরা এমন একটি ঢাকা করতে চাই যেখানে উত্তরা থেকে ১৫ মিনিটে গুলিস্তান আসা যায়। সকলের সহযোগীতায় আমরা স্মার্ট ডিএমপির ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়তে চাই।

 

 

কাজে আসছে না যানজট নিরসনের কোনো উদ্যোগ

আপডেট সময় : ০৮:২১:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

◉ যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, যাত্রী ওঠা-নামা
◉ ফুটপাত দখলে থাকায় রাস্তায় হাঁটছে পথচারী
◉ ব্যস্ততম সড়কে গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি

সড়কে এখনো শৃঙ্খলায় ফেরেনি গণপরিবহনসহ ব্যক্তিগত যানবাহন। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, যাত্রী ওঠা-নামা ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে গাড়ির জটলা করে স্ট্যান্ড বানানোয় কাজে আসছে না যানজট নিরসনের কোনো উদ্যোগ। যানজট নিরসনে একের পর এক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করলেও তা বাস্তবায়ন ও ট্রাফিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় রাজধানীর যানজট আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর যানজট কমাতে প্রথমেই শৃঙ্খলায় আনতে হবে গণপরিবহনকে। দখলমুক্ত করতে হবে সব ফুটপাট। নতুন করে গাড়ি নামানোর অনুমোদন না দেওয়ার পাশাপাশি ট্রাফিক আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করাও জরুরি। গতকাল শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর নিউমার্কেট, শাহবাগ, বাংলামোটর, সাইন্সল্যাব, পান্থপথ ক্রসিং, রাসেল স্কয়ার, শ্যামলী, টেকনিক্যাল মোড়, আগারগাঁও, চাঁনখারপুল, বকশিবাজার মোড়, ফার্মগেট, বিমানবন্দর সড়ক, মগবাজার, মৌচাক, রামপুরা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বিভিন্ন ট্রাফিক সিগন্যালে দীর্ঘ যানজট গেলে ছিল। এর অধিকাংশ সড়কেই গণপরিবহন আর প্রাইভেটকারের দীর্ঘ সারি। গণপরিবহনগুলো নিজেদের ইচ্ছেমত যত্র-তত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা এবং ব্যক্তিগত গাড়ি যেখানে-সেখানে পার্কিং করে রাখায় সড়কে তীব্র জট লেগে ছিল। গণপরিবহনের সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা বলেন, সড়কে যানজটের মূল কারণ ট্রাফিক অব্যবস্থাপনা। হকাররা ফুটপাতে হাঁটার জায়গায় পসরা বসানোয় পথচারীরা বাধ্য হয়ে গাড়ি চলাচলের রাস্তায় নেমে যাচ্ছেন। এগুলো দেখভালের দায়িত্ব যাদের তারাও অদৃশ্য কারণে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না। একইসঙ্গে ফুটপাতে উঠে যাচ্ছে মোটরসাইকেল। ট্রাফিক পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের নাকের ডগায় এমন দৃশ্য দেখা গেলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না। তারা আরও বলেন, অনেকসময় ফিটনেস গাড়ি সড়কের মাঝপথে যান্ত্রিক ত্রুটিতে থেমে যাচ্ছে। কখনো কখনো ব্যস্ততম সড়কের মধ্যেই পণ্যবাহী ট্রাক-কাভার্ডভ্যান থামিয়ে কাগজপত্র তল্লাশি করছে ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা। এর ফলে ওই গাড়ির পেছনে গাড়ি দীর্ঘ সারিতে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

গণপরিবহনের চালক ও শ্রমিকরা জানান, তাদের মালিকরা নিয়মিত রোড ট্যাক্স দিচ্ছেন। নির্ধারিত বাসটার্মিনাল না থাকায় রাস্তার পাশেই পার্কিং করে রাখতে হচ্ছে। এতে রাস্তা সঙ্কুচিত হয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। রাজধানীর অধিকাংশ শপিংমল-মার্কেটকেন্দ্রিক পার্কিং প্লেস না থাকায় রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ি রাখছেন। রাজধানীতে যানজট কমাতে বিভিন্ন সময় নানা উদ্যোগের কথা বলা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ কিছু সড়কে রিক্সা চলাচল ও যত্রতত্র পার্কিং বন্ধ, সিএনজি চালিত অটোরিক্সার জন্য আলাদা লেন তৈরি এবং সড়কের মোড়ে মোড়ে গণপরিবহন না থামার জন্য আইন ও নির্দেশনা থাকলেও এখনো তা কার্যকর হয়নি। সবই রয়েছে ফাইলবন্দি। এদিকে, যাদের চোখে এসব অনিয়ম ধরা পড়ার কথা, তাদের সামনেই ঘটছে অনিয়ম। চলছে আইন ও নিয়ম ভাঙ্গার উৎসব। নির্বিকার তারা। অনেকের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশে অদক্ষতার কারণে যানজট তৈরি হয়। আর চালকদের দায়িত্বহীনতা ও বেপরোয়া আচরণ তো আছেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমান সরকার রাজধানীর যানজট নিরসনে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেলসহ অন্যান্য প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যেই মেট্রোরেল চালু করা হয়েছে। যার সুফল ভোগ করছেন নগরবাসী। আরও কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। ২০৩০ সাল নাগাদ শহরের যানজট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে জানিয়েছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।

বুয়েট এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ড. শাহনেওয়াজ রাব্বি সবুজ বাংলাকে বলেন, মানুষ যেখানেই সুযোগ পাবে সেটা নেয়ার চেষ্টা করবে। কিন্তু এখানে পুলিশ প্রশাসনের অনেক কিছুই করার আছে। ড্রাইভার এসোসিয়েশন, মালিক এসোসিয়েশন এবং বিআরটিএ-সহ সবাই যদি সঠিক ধারায় চিন্তা করে তাহলে এটা সমাধান হতে পারে। উন্নত বিশ্ব যেভাবে যানজট কমিয়েছে সেভাবে দেশের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার বিকল্প নেই। এছাড়া নতুন প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ট্রাফিক আইন ও সড়কের ব্যবহার নিয়ে স্কুলের পাঠ্যবইয়ে বিশেষ অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। প্রতিদিনই ঢাকার রাস্তায় নতুন করে গাড়ি নামছে। যার ফলে দৃশ্যমান হচ্ছে যানজটের ভয়াবহ চিত্র। সড়কের যানজট কমাতে ইতোমধ্যেই মেট্রেরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। এ ধরনের আরও প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। ফলে আগামীতে ঢাকাবাসী যানজটমুক্ত শহর দেখবে বলে আশা করছেন বুয়েটের এই বিশেষজ্ঞ।
বিআরটি’র তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৭ সালে সারাদেশে নিবন্ধিত মোটরযানের সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৭৫ হাজার এবং বর্তমানে নিবন্ধিত মোটরযানের সংখ্যা প্রায় ৫৮,৫১,৯০৩ লক্ষ। তবে এসব মোটরযানের প্রায় ৩০ শতাংশ বা প্রায় ১৭ লক্ষ মোটরযান বিভিন্ন কারণে অফরোড রয়েছে। এ সময়ে মোটরযানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৩৩.৪৪ গুণ। ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত উক্ত সংখ্যা বুদ্ধি পেয়ে রেজিস্ট্রেশনকৃত মোটরযানের সর্বমোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৭,৫৯,৩৫৩। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিআরটিএ কর্তৃক ৬টি মেট্রো সার্কেল এবং ৬৪টি জেলা সার্কেল অফিসের মাধ্যমে ৪,৬৯, ১৬৭টি মোটরযান রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। এর মধ্যে বাস-৫৩৬৫৬টি, মিনিবাস-২৮১২১টি, ট্রাক-১৪৯০৪৭টি, কাভার্ডভ্যান-৪৭৪৩০টি, জিপ-৮৬৬৭৬টি, প্রাইভেটকার-৪০৪১৩৯টি, পিকআপ-১৫৬৫৭১টি, মাইক্রোবাস-১১৮৩৫৬টি, মোটরসাইকেল-৪১৫০৫৩৪টি, ডেলিভারিম্যান-৩৩৫১৪টি, হিউম্যান হলার-১৭৩৮৫টি, ট্রাক্টর-৪৭১০৫টি ও অন্যান্য যানবাহন-৪৬৬৮১৯টি। একই অর্থবছরে ফিটসেন সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে ৬,৮৫,৫৫৭টি গাড়ির। বিআরটিএ’র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সুশৃঙ্খল, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও দক্ষ সড়ক পরিবহন গড়ে তোলা।

এদিকে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ডিএমপির সদর দপ্তরে ডিএমপি ও জাইকার উদ্যোগে ঢাকা রোড ট্রাফিক সেফটি প্রজেক্ট (ডিআরএসপি) নিয়ে ৪র্থ যৌথ সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক-ডিআরএসপি ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. মুনিবুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, ডিআরএসপি এবং প্রশিক্ষক হিসাবে প্রশিক্ষিত ডিএমপির তিনজন কর্মকর্তা এ পর্যন্ত তিনটি স্কুলে ব্যবহারিক ও অংশগ্রহণমূলক শিক্ষা কর্মসূচি (পিপিইপি) নামে একটি সড়ক নিরাপত্তা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, যানজট ঢাকা শহরের অন্যতম একটি সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসতে হবে। আমরা এমন একটি ঢাকা করতে চাই যেখানে উত্তরা থেকে ১৫ মিনিটে গুলিস্তান আসা যায়। সকলের সহযোগীতায় আমরা স্মার্ট ডিএমপির ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়তে চাই।