ভূমধ্যসাগরের তলদেশে সাত হাজার বছরের পুরোনো কয়েকটি রাস্তা আবিষ্কার করেছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। ইতিহাসবিদরা ধারণা করছেন যে, ক্রোয়েশিয়ার দক্ষিণ উপকূলে আবিষ্কৃত এই রাস্তাগুলো প্রাচীন নিওলিথিক যুগের ভার সভ্যতার নিমজ্জিত প্রাগৈতিহাসিক শহর সোলিনেকে দেশটির বিচ্ছিন্ন দ্বীপ কোরচুলার সঙ্গে সংযুক্ত করেছিল। ক্রোয়েশিয়ার জাদার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা সংরক্ষিত কাঠের রেডিওকার্বন পরীক্ষা করে জানিয়েছেন, ৭ হাজার বছরের পুরোনো রাস্তাটি প্রায় ৪ মিটার (১৩ ফুট) প্রশস্ত এবং স্তূপকৃত পাথরের চাঁই দিয়ে তৈরি। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, রাস্তাটি সম্ভবত নিওলিথিক যুগে ভারের লোকেরা তৈরি করেছিল, যারা একসময় পূর্ব আদ্রিয়াতিক অঞ্চলে বাস করত।
একই গবেষক দল দ্বীপের অন্য পাশে পানির নিচে আরেকটি বসতি খুঁজে পেয়েছে, যা অনুরূপ সোলিনের মতো এবং এতে কিছু প্রস্তর যুগের নিদর্শন রয়েছে, যেখানে পাথরের কুড়াল এবং বলি দেয়ার টুকরো নিদর্শনগুলোর মতো নিওলিথিক পুরাতত্ত্বও রয়েছে। ভার জাতিটি পানিবেষ্টিত সোলিনে বসতি তৈরি করেছিল বলে মনে করা হয়, যা রাস্তা দ্বারা দ্বীপগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত ছিল এবং ৭ হাজার বছর আগে যাতায়াতের জন্য এই পথগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল। সংরক্ষিত কাঠের রেডিওকার্বন বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বন্দোবস্তটি প্রায় ৪ হাজার ৯০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের বলে অনুমান করা হয়। সোলিনের প্রাচীন স্থানটি একসময় একটি কৃত্রিম দ্বীপ ছিল এবং সর্বপ্রথম ২০২১ সালে ক্রোয়েশিয়ার জাদার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতাত্ত্বিক মাতে পারিচা এটি আবিষ্কার করেন।
প্রত্নতাত্ত্বিকরা পাথরের দেয়ালও আবিষ্কার করেছেন, যেটি একটি পুরোনো গ্রাম বা শহরের একটি অংশ হতে পারে। দেয়ালগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে ৪ থেকে ৫ মিটার (১৩ থেকে ১৬ ফুট) গভীরতায় পাওয়া গেছে। প্রত্নতাত্ত্বিক পারিচা ২০২১ সালে রয়টার্সের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছিলেন যে, এই অঞ্চলটি চারপাশে থাকা দ্বীপগুলোর কারণে বড় ঢেউ থেকে সুরক্ষিত। এটি স্থানটিকে প্রাকৃতিক ক্ষতি থেকে নিরাপদ রাখতে এবং এভাবে এটিকে সংরক্ষণ করতে সাহায্য করেছে।






















